Published : 22 Jul 2026, 11:24 PM
এক নারীর সঙ্গে অন্তঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও বলেছে জামায়াত।
নির্বাচন কমিশনকে জানালেই কী নজরুল ইসলামের সদস্য পদ শূন্য হবে? নাকি জাতীয় সংসদকেও বিষয়টি অবহিত করতে হবে? প্রক্রিয়াটি কী হবে?
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন দলীয় সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন-ইসিকে জানানোর পাশাপাশি স্পিকারকেও অবহিত করতে হবে। জামায়াতের লিখিত বক্তব্য, সংসদ সদস্যের বক্তব্য ও ইসি শুনানির মাধ্যমে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পথে এগোতে হতে পারে।
বুধবার বিকালে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ সংক্রান্ত দলীয় চিঠি পেলে করণীয় বিষয়ে পর্যালোচনা করা হবে কমিশন সভায়। সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-আরপিওর আলোকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। চিঠি আসুক, তারপরে দেখা যাবে।”
নজরুল ইসলামের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্পিকারের কাছ থেকে চিঠি পাওয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকার কথা বলেছেন এই নির্বাচন কমিশনার।
তিনি বলেন, “এ সংক্রান্ত চিঠিটাও আসতে হবে পার্লামেন্ট থেকে।”
গেল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে শ্যামনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হন নজরুল ইসলাম।
সোমবার রাতে এক নারীর সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়ায়। এ বিষয়ে প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন। এরপর মঙ্গলবার সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেইসবুকে বিষয়টি নিয়ে একটি পোস্ট লিখে সেখানে ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন।
বুধবার বিকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি সভায় মজলিসে শূরার এই সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জামায়াতের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এক নারীকে নিয়ে এ সংসদ সদস্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচিত হওয়ার সাড়ে পাঁচ মাসের মাথায় দল মনোনীত এই প্রার্থীকে বহিষ্কার করায় সংসদে তার সদস্য পদ ঝুঁকিতে পড়ল।
সবশেষ দশম সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকে বহিষ্কারের পর সদস্য পদ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
নির্বাচন কমিশন ও সংসদের স্পিকার এ নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগেই এমপি পদ ছাড়েন তিনি।
ওই ঘটনার প্রায় ১১ বছর পর জামায়াতের সদস্যকে নিয়ে একইরকম ঘটনার মুখোমুখি হল ত্রয়োদশ সংসদ।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলী বলেছেন, দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এখন নির্বাচিত হয়ে থাকার অযোগ্য হয়েছেন। এ সদস্যের আসনটিও শূন্য হবে। এ বিষয়ে এখতিয়ার সংসদের স্পিকারের। নির্বাচন কমিশন শুধু আসন শূন্যের গেজেট করে এবং ভোটের তফসিল ঘোষণা করে।

আসন শূন্য করতে জটিলতা আছে?
দল থেকে বহিষ্কারের পর সংসদ সদস্য পদ থাকবে কিনা? সদস্য পদ কে শূন্য ঘোষণা করবে?
এ প্রশ্নে ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার জানা মতে, এসব বিষয়ে এখতিয়ার সংসদের হওয়ার কথা। নির্বাচন কমিশন গেজেট নোটিফিকেশন করবে। কিন্তু শূন্য ঘোষণা স্পিকারের অফিস, সংসদ সচিবালয় করবে।”
আওয়ামী লীগ আমলে সবশেষ ২০২১ সালে তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান পদত্যাগ করেন মন্ত্রিপরিষদ থেকে।
অশালীন, শিষ্টাচারবহির্ভূত ও নারীর প্রতি চরম অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়ার পর সমালোচনার মধ্যে একাদশ সংসদের এ সদস্যকে প্রতিমন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়।
এর আগে হজ নিয়ে বক্তব্য দিয়ে সমালোচিত হওয়ার পর দল থেকে বহিষ্কার ও তার ধারবাহিকতায় আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিদ্দিকীর এমপি পদ ছাড়ার প্রসঙ্গ টেনে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন টুলী বলেন, “প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করলেও সংসদ সদস্য ছিলেন মুরাদ হাসান। লতিফ সিদ্দিকের সংসদ সদস্য পদই ছাড়তে হয়েছে।”
বহিষ্কৃত হলে সংসদ সদস্য পদ না থাকার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন ইসির সাবেক এ অতিরিক্ত সচিব।
“দল যদি মনোনীত প্রার্থীকে বহিষ্কার করে, তাহলে তিনি দলের মধ্যে কোথাও নেই, দলের কেউ নন এখন। দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন (জামায়াতের গাজী নজরুল ইসলাম), এক্ষেত্রে উনি যেহেতু দলের প্রতীকে নির্বাচন করেছেন, বহিষ্কারের পর তিনি দলের কেউ নন, তাহলে তিনি অযোগ্য হয়ে গেলেন, পদটা শূন্য হবে,” বলেন জেসমিন টুলী।
এ বিশেষজ্ঞের মতে, সংসদ সদস্যের আসন (সাতক্ষীরা-৪ আসন) শূন্য কে করবে? এ নিয়ে আলোচনা হলে তা স্পিকার ঘোষণা করবেন।
“স্পিকার অফিস থেকে সংসদ সদস্যের আসন শূন্য করা হয়। এরপর নির্বাচন দেওয়ার জন্য (উপ-নির্বাচন) আসন শূন্যের গেজেট করে এবং তফসিল ঘোষণা করে ইসি।”

লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে যা হয়েছিল
২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সফরে গিয়ে ঘরোয়া এক আলোচনায় হজ নিয়ে মন্তব্যের জেরে মন্ত্রিসভা ও দল থেকে বহিষ্কৃত হন আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। সে সময় তিনি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
ওই ঘটনার পর টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্যের এমপি পদে থাকা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল।
লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকে বহিষ্কারের আট মাস পর বিষয়টি জানিয়ে আওয়ামী লীগের পাঠানো চিঠি ২০১৫ সালের ৫ জুলাই স্পিকার শিরীন শারমিনের হাতে পৌঁছায়।
এরপর সংবিধান, ‘মেম্বার অফ পার্লামেন্ট (ডিটারমিনেশন অব ডিসপিউট) অ্যাক্ট’, সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) মেনে বিতর্ক নিষ্পত্তির কার্যক্রম নেওয়া হয়।
মীমাংসার জন্য সে বছরের ১৩ জুলাই প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছিলেন তৎকালীন স্পিকার শিরীন শারমিন।
এর প্রেক্ষিতে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (ডিটারমিনেশন অব ডিসপিউট) অ্যাক্ট’ অনুযায়ী ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও লতিফ সিদ্দিকীকে লিখিত বক্তব্য দিতে বলে ইসি।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংবিধান ও আরপিও অনুযায়ী লতিফ সিদ্দিকী সংসদ সদস্য পদ থাকতে পারে না।
লিখিত বক্তব্য পাওয়ার পর ২৩ অগাস্ট শুনানিতে হাজির হয়ে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, “আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করব। এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে গেলাম। এ নিয়ে আর শুনানি করার দরকার নেই।”
নির্বাচন কমিশনে সংসদ সদস্য পদ বিতর্ক নিষ্পত্তির বিষয়ে স্পিকারের চিঠি পাঠানোর নিয়ে সংসদে বক্তব্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন লতিফ সিদ্দিকী।
তার আপত্তি হল সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ৪ দফা তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনে স্পিকারের চিঠিটি নিয়ে।
লতিফ সিদ্দিকী বলেছিলেন, “এই স্পষ্ট বিষয়টি মাননীয় স্পিকারের চিঠিতে সংসদের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন ও সংবিধানের অপব্যাখ্যা হয়েছে। মাননীয় স্পিকার বিনা শুনানিতে এভাবে সংসদ সদস্যের আসন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া যথাযথ কি না, সে ব্যাপারে প্রশ্ন থেকেই যায়।”
২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর সংসদে ১৫ মিনিটের আবেগময় এক বক্তৃতা দিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
স্পিকারের কাছে লতিফ সিদ্দিকীর পদত্যাগপত্র দেওয়ার পর ইসির করণীয় বিষয়ে জানতে চাইলে তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক বলেছিলেন, এ নিয়ে তারা আলোচনা করবেন।
আসন শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের পর অক্টোবরে তফসিল ঘোষণা করে ইসি, ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বরে টাঙ্গাইলের ওই আসনে উপনির্বাচন হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার আওয়ামী লীগের লতিফ সিদ্দিকীর পথেই হয়তো হাটতে হবে জামায়াতের গাজী নজরুল ইসলামকে।
ইসির সীমাবদ্ধতা কোথায়?
সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটে অংশ নিতে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়।
ওই সময় নিবন্ধন পেয়ে এ সংসদে জামায়াতের দুইজন সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালের অগাস্টে দলটির নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে আদালত। তবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য তাদের পদে মেয়াদ পূর্ণ করেছিলেন।
অবশ্য, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে আদালতের রায়ের কপি পাওয়ার পরে। নিবন্ধন বাতিল থাকায় দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটে ছিল না দলটি। ৫ অগাস্টের পটপরিবর্তনের পর জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহাল হয় আদালতের আদেশে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের ৬৮টি জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিরোধী দলে রয়েছেন। তাদের একজন দল থেকে বহিষ্কার হলেন।
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও আরপিওর ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার ও সদস্য থাকার জন্য অযোগ্য হবেন, যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে একজন নির্বাচন কমিশনার বলেন, “নৈতিক স্খলনে দল থেকে বহিষ্কার হল, কিন্তু দুই বছর সাজা না হলে অযোগ্য করা যাবে না। আবার সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দল থেকে পদত্যাগ করলে বা দলের বিপক্ষে ভোট দিলেই আসন শূন্য হবে-এটাও হয়নি। সব মিলিয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্যের বিষয়ে আলোচনা না করে আগাম কিছু বলা যাবে না।”
কিন্তু ভিন্নমত দিয়েছেন নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের এ সদস্য বলেন, “দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হয়েছেন, এখন দল থেকে যেহেতু বহিষ্কার হয়েছেন, তার সদস্য পদ থাকবে না। এ সিদ্ধান্ত দেবেন স্পিকার।
“আমরা আশা করি, এখন সাতক্ষীরা-৪ আসনের বিষয়ে দলীয় চিঠি স্পিকারের কাছে গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপরই ইসি গেজেট নোটিফিকেশন করবে।”

সংসদের মর্যাদাহানি হলে কী ব্যবস্থা?
নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এবং পরে তাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করার ঘটনায় নজরুল ইসলামের নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পাওয়ার কথা বলেছে জামায়াত।
আর তার এই কর্মকাণ্ডকে সংসদের জন্য মর্যাদাহানিকর বলে মনে করছেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার।
এ বিষয়ে স্পিকারের নেতৃত্বে সংসদের যে বিশেষ অধিকার কমিটি রয়েছে সেখানে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া যায় বলে মনে করেন তিনি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম বলেন, “বিশেষ অধিকার কমিটি খুব শক্তিশালী। সংসদ সদস্যরা মনে করেন এ কমিটি শুধু সুযোগ-সুবিধার জন্য। এটা সঠিক নয়। কেউ যদি তাদের অপকর্মের দ্বারা সংসদের মর্যাদাহানি করেন, তাহলে সেটা সংসদ অবমাননা। এ বিষয়ে আইন করার জন্য জুলাই সনদেও বলা হয়েছে। যাতে কোনো অপকর্ম করে সংসদ সদস্যরা পার পেয়ে যেতে না পারেন।”
তিনি বলেন, “বিশেষ কমিটি সিদ্ধান্ত নিতে নিতে পারে। এক্ষেত্রে নৈতিক স্খলনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়াও লাগবে না। সংসদের মর্যাদাহানি করায় বহিষ্কার করতে পারে, সাময়িকও হতে পারে। এ সংসদ সদস্যের বিষয়ে বিশেষ কমিটিতে আলোচনা হওয়া উচিত।”
বদিউল আলম বলেন, “সংবিধানের ৭৮ অনুচ্ছেদে সংসদ-সদস্যদের বিশেষ-অধিকারের কথা বলা রয়েছে। এ বিশেষ অধিকার এসব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কোনো সংসদ সদস্যের আচরণে, কার্যক্রমে যদি সংসদের মর্যাদাহানি হয়, তাহলে তাদের বহিষ্কার করতে পারবে। স্পিকারের নেতৃত্বে এ কমিটি।”
তিনি বলেন, “৭৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। ভারতে আইন না হলেও দুর্নীতির জন্য ১০ জন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পাকিস্তান, বাংলাদেশেও সংসদ সদস্যদের বহিষ্কার নজির রয়েছে।”
সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি বিষয়ে সংবিধানের ৭৮ এ বলা হয়েছে, এ অনুচ্ছেদ-সাপেক্ষে সংসদের আইন-দ্বারা সংসদের, সংসদের কমিটিগুলোর এবং সংসদ-সদস্যদের বিশেষ-অধিকার নির্ধারণ করা যেতে পারবে।
আগের খবর:
জামায়াত এমপির সঙ্গে নারীর ভিডিও ভাইরাল, দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে পোস্ট
নারীর সঙ্গে এমপি নজরুলের ভিডিওর খবরে 'নজর রাখছে' জামায়াত
ভিডিও ভাইরাল: জামায়াতের এমপি নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার
১৪ মিনিটের শুনানিতে যা বললেন লতিফ
সংসদে বক্তৃতা করে পদত্যাগপত্র দিলেন লতিফ সিদ্দিকী