Published : 22 Jul 2026, 11:04 PM
জুলাই গণঅভ্যুত্থান সাংস্কৃতিক ও রাষ্ট্রচিন্তার নতুন পরিসর তৈরি করেছে বলে বলেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ-আল মামুন।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এই শিক্ষক বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও রাষ্ট্রচিন্তার নতুন পরিসরও তৈরি করেছে। তবে আন্দোলনের পর বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে, যা জুলাইয়ের সর্বজনীন চেতনাকে সংকুচিত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
“একদিকে আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বয়ান, অন্যদিকে ধর্মীয় পরিচয়নির্ভর একমাত্রিক সাংস্কৃতিক কল্পনা- উভয় প্রবণতাই সমালোচনার দাবি রাখে। সংস্কৃতি পরিবর্তনশীল ও বহুমাত্রিক; নতুন সাংস্কৃতিক কল্পনা নির্মাণের অর্থ নিজের ঐতিহ্য অস্বীকার করা নয়, আবার কোনো একক পরিচয় সবার ওপর চাপিয়ে দেওয়াও নয়।”
বুধবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আয়োজনে ‘ফিরে দেখা জুলাই’ শীর্ষক স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পরে জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জুলাইকে সমালোচনামূলকভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক আ-আল মামুন বলেন, “আন্দোলনের পর ক্ষমতার অপব্যবহার বা অনিয়মের সমালোচনা করা মানে জুলাইকে অস্বীকার করা নয়। মুক্তিযুদ্ধের নামে অপব্যবহার হয়েছে বলে যেমন পুরো মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা যায় না; তেমনি জুলাই-পরবর্তী বিচ্যুতির কারণে পুরো জুলাই অভ্যুত্থানকেও অস্বীকার করা উচিত নয়।”

সভায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, “শিক্ষা রক্ষার আন্দোলন এবং গণসংস্কৃতি রক্ষার লড়াই পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। সুস্থ সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ ছাড়া কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু কোটা সংস্কারের আন্দোলন ছিল না; শেখ হাসিনার শাসনামলে দীর্ঘদিনের বৈষম্য, দমন-পীড়ন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে মানুষের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছিল।”
সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠনের নেতৃত্বে নয়; সাধারণ ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গড়ে ওঠেছিল। আন্দোলনের শুরু থেকেই একটি গোষ্ঠী নেতৃত্ব ও কৃতিত্ব নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। সংকটময় সময়ে অনেক কথিত সমন্বয়ক অনুপস্থিত থাকলেও সাধারণ শিক্ষার্থীরাই আন্দোলনকে টিকিয়ে রেখেছিলেন।”
তিনি বলেন, “জুলাইয়ের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল বাকস্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিভাজনমূলক নানা বিতর্কের মাধ্যমে সেই চেতনাকে দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে। বামপন্থি রাজনীতিকদের ওপরও পরিকল্পিতভাবে চাপ ও হামলা চালানো হয়েছে, কারণ তারা জুলাইয়ের গণআকাঙ্ক্ষার প্রশ্নগুলো সামনে রেখেছেন। শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, কাঙ্ক্ষিত সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য আদর্শভিত্তিক সংগঠিত শক্তি গড়ে তোলারও প্রয়োজন রয়েছে।”