১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইলিশের ঘাটে পাঙাশের দাপট

ইলিশের সরবরাহ ও দামের কারণে ক্রেতাদের পছন্দেও এসেছে পরিবর্তন।

চাঁদপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Jul 2026, 07:11 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:42 PM

ইলিশের জন্য পরিচিত চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে এবার ভরা মৌসুমে দেখা যাচ্ছে নদীর পাঙাশ। 

পদ্মা-মেঘনায় জেলেদের জালে পাঙাশ বেশি ধরা পড়ায় ঘাটে এর সরবরাহ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, “পদ্মা-মেঘনা নদীতে পাঙাশ ধরা পড়া নদীর জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদের জন্য ইতিবাচক একটি লক্ষণ। এতে জেলেরা ইলিশের পাশাপাশি অন্য মাছ বিক্রি করেও আয় করতে পারছেন।”

“মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ ও জেলেদের সচেতনতা বাড়লে ভবিষ্যতে নদীতে ইলিশের পাশাপাশি পাঙাশসহ অন্যান্য দেশীয় মাছের উৎপাদন আরও বাড়বে।”

তবে তিনি বলেন, ছোট ও অপরিপক্ব পাঙাশ বেশি ধরা হলে ভবিষ্যতে এই মাছের উৎপাদন কমে যেতে পারে। তাই ছোট মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে হবে।

মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় এবং দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতা এখন বিকল্প হিসেবে পাঙাশ কিনছেন। ফলে চাঁদপুর মাছঘাটে পাঙাশের চাহিদা বেড়েছে।

মাছঘাটের বিভিন্ন আড়তে সারি সারি করে পাঙাশ রাখা হয়েছে। এসব মাছের ওজন আট থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত। আকারভেদে প্রতি কেজি পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে।

ঘাটের পাঙাশ ব্যবসায়ী মো. হাসান বলেন, “কয়েক দিন ধরে নদীতে পাঙাশ বেশি ধরা পড়ছে। ইলিশ কম থাকায় ক্রেতারাও পাঙাশ কিনছেন। প্রতিদিন ভালো বিক্রি হচ্ছে।”

আরেক ব্যবসায়ী নবীর হোসেন বলেন, ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় ব্যবসায় কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে পাঙাশ ধরা পড়ায় সেই ক্ষতি কিছুটা কমেছে।

ইলিশের দাম বেশি হওয়ায় অনেকে একই টাকায় বড় পাঙাশ কিনছেন। চাঁদপুর শহরের পালবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদের বলেন, “ইলিশের দাম বেশি হওয়ায় কিনতে পারিনি। পরে একই টাকায় বড় একটি পাঙাশ কিনেছি।”

আড়তদারদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৯০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা, ৬০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ এক হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার ১০০ টাকা এবং এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ দুই হাজার ৩০০ থেকে দুই হাজার ৭০০ টাকা কেজি দরে।

অন্যদিকে, নদীর বড় পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকা, মাঝারি পাঙাশ ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং ছোট পাঙাশ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে।

হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী এলাকার জেলে মো. সেলিম বেপারী বলেন, আগে পাঙাশ তেমন একটা পাওয়া যেত না। এখন প্রায় প্রতিদিনই বড় পাঙাশ জালে উঠছে। আড়তে এর ভালো চাহিদা থাকায় মাছ বিক্রি নিয়ে সমস্যা হচ্ছে না।

চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর এলাকার জেলে মো. জসিম মাঝি বলেন, কয়েক দিন ধরে ইলিশের তুলনায় বড় পাঙাশ বেশি ধরা পড়ছে। একটি বড় পাঙাশ বিক্রি করেই ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।