Published : 18 Sep 2026, 09:04 PM
রাজশাহী নগরে একটি ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও নারীকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন পেয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার সকালে নগরের নাদের হাজির মোড় এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাদের উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয় বলে জানান চন্দ্রিমা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী।
ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাহবুব আলম। তিনি সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত আছেন। এক সময় তিনি চন্দ্রিমা থানার ওসি ছিলেন। ৯৯৯–এ ফোন করেছিলেন আন্নি আক্তার নামের এক নারী।
পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই ফ্ল্যাটের সামনে যান আন্নি আক্তার; যিনি নিজেকে মাহবুবের ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’ বলে দাবি করেন। তার অভিযোগ, ফ্ল্যাটের ভেতরে মাহবুব ও এক নারী রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় আন্নি ৯৯৯-এ ফোন করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও দরজা খোলা হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে মাহবুব ও এক নারীকে পাওয়া যায়।
থানায় নেওয়ার সময় মাহবুব আলম বলেন, ওই নারী তার স্ত্রী। তাকে কবে বিয়ে করেছেন, এ বিষয়ে কোনো তথ্য-প্রমাণ দেখাতে পারেননি তিনি। তবে ওই নারীও কোনো কথা না বলে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করছিলেন।
মাহবুবের দাবি, চার দিন আগে তিনি আন্নিকে তালাক দিয়েছেন। তালাকের একটি কাগজ পুলিশের কাছে জমাও দিয়েছেন। তবে আন্নির দাবি, তিনি তালাকের কোনো কাগজ পাননি।
আন্নির অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাকে বিয়ে করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব একাধিক বিয়ে করেছেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে।
এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান।
পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব ও ওই নারীর বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
মাহবুবের বর্তমান কর্মস্থল সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ বলেন, কোনো ছুটি বা অনুমতি না নিয়েই তিনি রাজশাহী গেছেন। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।
২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে মাহবুবের দপ্তরে এক ব্যক্তির সঙ্গে খাম নিয়ে কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছিল।
ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে মাহবুবের কাছে খাম চাইতে এবং পরে একটি ভরা খাম মাহবুবের ড্রয়ারে রাখতে দেখা যায়। কথোপকথনে ওই ব্যক্তি তার বোনকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা নিয়ে বিপদে পড়ার কথা বলেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর মাহবুবকে চন্দ্রিমা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এরপর তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়।