Published : 21 Jul 2026, 02:16 PM
প্রথমবারের মত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (এআই) বিষয়ে একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পেল যুক্তরাজ্য। আর সেই দায়িত্ব পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেবার এমপি কণিষ্ক নারায়ণ।
ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম সোমবার তার নতুন মন্ত্রিসভায় এআই ও ডিজিটাল নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে এআই মন্ত্রীর পদটিকে প্রথমবারের মত পূর্ণাঙ্গ ‘ক্যাবিনেট মন্ত্রীর’ মর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছে।
এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের অধীনে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এআই ও অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন কণিষ্ক নারায়ণ। তখন তিনি প্রযুক্তি বিভাগের একজন জুনিয়র মন্ত্রী ছিলেন।
ওয়েলসের ‘ভেল অব গ্ল্যামারগন’ আসনের এমপি কণিষ্ক নারায়ণ ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে জিতে হাউস অব কমন্সের সদস্য হন। এর মাধ্যমে ওয়েলসের ইতিহাসে প্রথম সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে এমপি নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস গড়েন লেবার পার্টির এই রাজনীতিবিদ।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ভারতের বিহার রাজ্যে জন্মগ্রহণ করা কণিষ্ক নারায়ণ শৈশবেই পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের কার্ডিফে চলে যান। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে (পিপিই) স্নাতক ডিগ্রি নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছেন।
রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারি’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কণিষ্ক নারায়ণ।
পরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের অধীনে বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে 'এআই ও অনলাইন নিরাপত্তা' বিষয়ক জুনিয়র মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম তার সরকার গোছানোর সময় মন্ত্রিসভার কয়েকটি শীর্ষ পদে রদবদল করলেও কণিষ্ক নারায়ণকে সরকারে রেখে দিয়েছেন এবং ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছেন।
সরকারি দায়িত্বের বাইরে জননীতি, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং অলাভজনক খাতেও কাজ করেছেন কণিষ্ক নারায়ণ।
২০১২ সালে তিনি সাউথ ওয়েলসে তরুণদের শিক্ষা ও সামাজিক গতিশীলতার সহায়তায় 'অ্যাটেইন ওয়েলস' নামে একটি অলাভজনক কর্মসূচি শুরু করেন।
২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক নীতি ও জনসেবা সংস্কারবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২০ সালে কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহায়তা দিতে ‘হেল্প ইউর হাই স্ট্রিট’ শীর্ষক জাতীয় প্রচারাভিযানের সূচনা করেন কণিষ্ক নারায়ণ।
এছাড়া ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তিনি সিটিজেনস অ্যাডভাইস ব্যুরোর ট্রাস্টি এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা চ্যাথাম হাউসের পরামর্শক প্যানেলে ছিলেন।
২০২০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত 'সেন্টার ফর সিটিজ'-এর ভিজিটিং অ্যাসোসিয়েট হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
কণিষ্ক নারায়ণের পদোন্নতির পাশাপাশি ব্রিটিশ সরকারে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বাণিজ্য ও ব্যবসা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে (ডিএসআইটি) একীভূত করে জোনাথন রেনল্ডসকে 'বিজনেস, ইনোভেশন, সায়েন্স অ্যান্ড ট্রেড' বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার বাড়িয়ে সেখানে ডিজিটাল রূপান্তর ও অনলাইন নিরাপত্তার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গ্লোবাল এআই প্রযুক্তির তীব্র প্রতিযোগিতায় যুক্তরাজ্যের অবস্থান শক্ত করতেই প্রধানমন্ত্রী বার্নাম এআই মন্ত্রীর পদটিকে ক্যাবিনেটে অন্তর্ভুক্ত করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে গুগলের ‘ডিপমাইন্ড’-এর পাশাপাশি ‘ইলেভেনল্যাবস’ ও ‘ওয়েভ’-এর মত বৈশ্বিক এআই স্টার্টআপ ও দক্ষ প্রকৌশলীদের একটি বিশাল ভিত্তি রয়েছে।
তবে উচ্চ বিদ্যুৎ খরচের কারণে বহুল আলোচিত ওপেনএআই এর ডেটা সেন্টার নির্মাণ থমকে যাওয়া এবং নীতিগত অস্পষ্টতার কারণে বিগত সরকারের প্রযুক্তি কৌশল বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছিল।