Published : 20 Jul 2026, 03:27 PM
সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তিতে নতুন মাইলফলকে পৌঁছানোর দাবি করেছে চীনের শীর্ষ এক সৌরশক্তি প্রযুক্তি কোম্পানি।
‘লনজি’ নামের চীনা কোম্পানিটির দাবি, উন্নত প্রযুক্তির সৌরকোষ উদ্ভাবন করেছে তারা, যা সূর্যরশ্মিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে রেকর্ড ৩৫.৫ শতাংশ পর্যন্ত কার্যসক্ষমতা দেখাতে পারে।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, লনজি’র এমন দাবি যাচাই করে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে ফটোভোলটাইক ডিভাইসের মান নির্ধারণী ইউরোপীয় পরীক্ষাগার ‘ইউরোপিয়ান সোলার টেস্ট ইনস্টলেশন’ বা ইএসটিআই।
ফলে, সাধারণ ও বহুল ব্যবহৃত বিভিন্ন সৌরকোষের তুলনায় লনজি’র উদ্ভাবিত এ সৌরকোষের কার্যসক্ষমতা চোখে পড়ার মতো।
মার্কিন ‘এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-এর তথ্য অনুসারে, বর্তমানে বাজারে বাণিজ্যিকভাবে যেসব সৌর প্যানেল পাওয়া যায়, সেগুলোর কার্যসক্ষমতা কেবল ২৫ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বিশ্বে প্রায় ৫০ শতাংশ কার্যক্ষমতাওয়ালা সৌরকোষও রয়েছে। তবে সেগুলো সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য নয়, বরং স্যাটেলাইটের মতো ব্যয়বহুল ও বিশেষায়িত খাতে কাজে লাগে।
সেই তুলনায় সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগী প্রযুক্তিতে ৩৫.৫ শতাংশ কার্যসক্ষমতায় পৌঁছানো বড় অগ্রগতি।
লনজি এ রেকর্ডের জন্য ‘ক্রিস্টালাইন সিলিকন-পেরোভস্কাইট ট্যান্ডেম’ নামের সৌরকোষ প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটিয়েছে, যা উদীয়মান ও আধুনিক ফটোভোলটাইক প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ প্রযুক্তির বিভিন্ন সৌরকোষ সর্বোচ্চ ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত শক্তি রূপান্তর সক্ষমতা পেতে পারে।
এ প্রযুক্তির উন্নয়নে লনজি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে প্রথম ৩৩.৯ শতাংশ কার্যসক্ষমতা পেয়েছিল কোম্পানিটি।
এরপর ২০২৪ সালের জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪.৬ শতাংশে। ধাপে ধাপে প্রযুক্তির আরও উন্নতির পর এবার ৩৫.৫ শতাংশ কার্যসক্ষমতার নতুন রেকর্ড নিজেদের করে নিল লনজি।
‘ক্রিস্টালাইন সিলিকন-পেরোভস্কাইট ট্যান্ডেম’ প্রযুক্তির সৌরকোষে বিশেষ ক্যাটেগরিতে বিশ্ব রেকর্ডের দাবিদার এখন চীনের লনজি।
তবে সার্বিক সৌরকোষ প্রযুক্তির ইতিহাসে এটাই সর্বোচ্চ কার্যসক্ষমতা নয়। এর আগে ২০২২ সালেই মার্কিন জ্বালানি বিভাগের ‘ন্যাশনাল রিনিউএবল এনার্জি ল্যাবরেটরি’ ৩৯.৫ শতাংশ কার্যসক্ষমতাওয়ালা এক সৌরকোষ উদ্ভাবন করেছিল।
প্রযুক্তির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বিশ্ব রেকর্ডের মুকুট কার মাথায় রইল তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে খুব একটা প্রভাব ফেলে না। ল্যাবরেটরির এ উচ্চ কার্যক্ষসমতাকে কীভাবে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা যায়, সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
জলবায়ু পরিবর্তন ও শক্তির সংকট ঠেকাতে মানবজাতির জন্য এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এসব উচ্চ সক্ষমতাসম্পন্ন সৌরকোষের বাণিজ্যিক ও সাশ্রয়ী উৎপাদন নিশ্চিত করা। ল্যাবরেটরির নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ও সাধারণ ছাদ বা মাঠের বাস্তব পরিবেশ এক নয়।
লনজি বা অন্যান্য কোম্পানির তৈরি এ আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন সৌরকোষ ল্যাবরেটরি থেকে বেরিয়ে এসে কম খরচে সাধারণ সোলার প্যানেল হিসেবে বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হলে সৌরবিদ্যুৎ খাত বিশ্বজুড়ে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে এক নতুন বিপ্লব ঘটাতে পারবে।