Published : 20 Jul 2026, 11:50 AM
বাজারে এখন অনেক পানিনিরোধক স্মার্টওয়াচ পাওয়া গেলেও কোনোটিই ‘পুরোপুরি’ ওয়াটারপ্রুফ’ নয়। সাধারণত আইপিএক্স৮ বা আইপি৬৮ রেটিংয়ের বিভিন্ন স্মার্টওয়াচ পরে পানিতে অনায়াসে সাঁতার কাটা যায়।
তবে পানিতে ডোবানোর পর ঘড়িটি সঠিকভাবে শুকানো না হলে যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। ঠিক এ জায়গাতেই কার্যকর ভূমিকা রাখছে অ্যাপল ওয়াচের ‘ওয়াটার লক’ ফিচার।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, অ্যাপল ওয়াচের এ ফিচারটি চালু থাকলে পানির নিচে স্ক্রিনটি সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় বা লক হয়ে যায়। ফলে পানির চাপের কারণে স্ক্রিনে ভুল কোনো টাচ বা কমান্ড কাজ করে না। তবে এর আসল ম্যাজিক শুরু হয় লক খোলার পর।
পানির নিচ থেকে ওঠার পর ওয়াটার লক বন্ধ করলেই ঘড়িটি এর স্পিকারের মাধ্যমে বিশেষ এক ধরনের শব্দ ও কম্পন তৈরি করে। এ কম্পনের ধাক্কায় ঘড়ির ভেতরে ঢুকে যাওয়া পানি স্পিকারের ছিদ্র দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাইরে বের হয়ে আসে, যা ডিভাইসটিকে দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে।
‘ওয়াটার লক’ হচ্ছে অ্যাপল ওয়াচের এমন কার্যকর ও কম আলোচিত ফিচার, যা সাঁতারের উপযোগী প্রতিটি স্মার্টওয়াচেই থাকা উচিত। অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১১-এর মডেলে পুলে বা সাগরে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ফিচারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যায়।
সাধারণ অ্যাপল ওয়াচ গভীর পানির চাপের জন্য উপযোগী নয়। যারা স্কুবা ডাইভিং বা গভীর সমুদ্রে ডুব দিতে ভালোবাসেন তাদের জন্য রয়েছে অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা, আল্ট্রা ২ বা আল্ট্রা ৩। এসব মডেল গভীর পানির চাপেও নিরাপদে কাজ করতে পারে এবং এগুলোতেও ওয়াটার লক ফিচারটি সমানভাবে কার্যকর। ল্যাবরেটরির সুরক্ষাকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর এমন প্রযুক্তিই স্মার্টওয়াচকে দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করছে।
যেভাবে কাজ করে ‘ওয়াটার লক’
অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ২ থেকে শুরু করে পরবর্তী সব মডেলেই ‘ওয়াটার লক’ ফিচারটি রয়েছে। ম্যানুয়ালি ফিচারটি চালু করতে ঘড়ির সাইড বোতাম চেপে ‘কন্ট্রোল সেন্টার’-এ গিয়ে ‘ওয়াটার ড্রাপলেট’ আইকনটি নির্বাচন করতে হবে। ওয়াটার লক সক্রিয় থাকা অবস্থায় ঘড়ির স্ক্রিন কোনো স্পর্শে সাড়া দেবে না।
পানি থেকে ওঠার পর ঘড়িটি আনলক করতে এর গোলাকার ‘ডিজিটাল ক্রাউন’ বোতামটি চেপে ধরে রাখতে হবে। এরপরই ঘড়িটি থেকে পানি বের করার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং আশির দশকের ভিডিও গেইমের মতো এক ধরনের অদ্ভুত শব্দ শোনা যায়।
‘ডিজিটাল ক্রাউন’ চেপে ধরে রাখলে অ্যাপল ওয়াচের ভেতরের স্পিকারটি নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ ও কম্পন তৈরি করতে শুরু করে। এ শব্দের কম্পনে ঘড়ির পাশের ছোট স্পিকারের ছিদ্র দিয়ে ভেতরে আটকে থাকা পানি ফিনকির মতো বাইরে বেরিয়ে আসে।
খালি চোখে যতটা মনে হয় তার চেয়েও অনেক পানি এ প্রক্রিয়ায় স্পিকারের চেম্বার থেকে বের হয়ে আসে। ঘড়িটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কয়েকবার বিরতি দিয়ে বারবার এই পানি বের করার প্রক্রিয়াটি চালায়।
ব্যবহারকারী যেন ভুলবশত বা অসাবধানতাবশত এ প্রক্রিয়াটি বন্ধ বা চালু না করে ফেলেন, সেজন্যই দ্রুত চাপ দেওয়ার পরিবর্তে ডিজিটাল ক্রাউনটি কয়েক সেকেন্ড চেপে ধরে রাখার নিয়ম করেছে অ্যাপল।
যতক্ষণ পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ না হচ্ছে ততক্ষণ ঘড়িটি এর স্পিকারকে কাঁপিয়ে ভেতরে জমে থাকা শেষ পানির বিন্দু পর্যন্ত বাইরে ঠেলে দেয় এবং ডিভাইসটিকে সুরক্ষিত ও শুষ্ক রাখে।
কখন ও কেন ব্যবহার করবেন অ্যাপল ওয়াচের ওয়াটার লক?
যারা নিয়মিত সাঁতার কাটেন বা ওয়াটার স্পোর্টস পছন্দ করেন তাদের জন্য অ্যাপল ওয়াচের ‘ওয়াটার লক’ ফিচারটি প্রয়োজনীয় সমাধান। সাঁতার বা সার্ফিংয়ের মতো পানির কোনো ব্যায়াম বা অ্যাক্টিভিটি চালু করলে অ্যাপল ওয়াচে ফিচারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চালু হয়ে যায়।
তবে পুরোপুরি পানির নিচে না ডুবলেও ওয়াচটি ভিজে যাওয়ার আশঙ্কা আছে এমন যে কোনো পরিস্থিতিতে ফিচারটি ম্যানুয়ালি বা নিজে থেকে চালু করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
কেবল সাঁতার কাটার সময়ই নয়, দৈনন্দিন আরও কিছু কাজেও সুরক্ষার জন্য ওয়াটার লক চালু করা উচিত। যেমন, গোসল করা, বেসিনে থালাবাসন ধোয়ার সময় এবং বৃষ্টির মধ্যে দৌড়ে বাড়ি ফেরার সময় বা জগিংয়ের সময় অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহার করতে পারেন। এ সামান্য সতর্কতা ঘড়ির ভেতর কোনো অবশিষ্টাংশ পানি জমতে দেয় না।
কোনো কারণে যদি আপনি ওয়াটার লক চালু করতে ভুলে যান তবে উচ্চ ওয়াটার-রেজিস্ট্যান্স রেটিংয়ের কারণে ঘড়িটি হয়ত তাৎক্ষণিকভাবে নষ্ট হবে না। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর ভেতরে পানি জমে থাকার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে ভেতরের সূক্ষ্ম বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ক্ষতি করতে পারে।
মনে রাখা প্রয়োজন, যে কোনো ডিভাইসেরই পানি প্রতিরোধের সক্ষমতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে, বিশেষ করে ক্লোরিনওয়ালা সুইমিং পুলের পানি ঘড়ির স্থায়িত্বের জন্য আরও বেশি ক্ষতিকর। ফলে ঘড়ির ভেতরে পানির প্রবেশ যতটা সম্ভব ঠেকানো এবং ভেতরে যাওয়া পানি দ্রুত বের করে দেওয়া স্মার্টওয়াচটির আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে।