বিএনপির সমাবেশ ঘিরে অচল হওয়ার পথে সিলেট

খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ নানা দাবিতে বিএনপি দশটি সংগঠনিক বিভাগে সমাবেশ করছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 Nov 2022, 06:23 PM
Updated : 17 Nov 2022, 06:23 PM

বিএনপির সমাবেশের আগে নানা ছুতায় পরিবহন ধর্মঘট ডাকায় সিলেট নগরী প্রায় অচল হওয়ার মুখে পড়েছে।

আগামী শনিবার সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির সপ্তম সাংগঠনিক বিভাগীয় সমাবেশ আয়োজন করা হচ্ছে।  

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ নানা দাবিতে দলটি আট বিভাগ ও দুই সংগঠনিক বিভাগে সমাবেশ করছে। 

ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, ময়মসিংহ, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও ফরিদপুরে (সাংগঠনিক বিভাগ) সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ময়মনসিংহ ছাড়া আর সব সমাবেশের সময় পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল। ময়মনসিংহে ধর্মঘট না থাকলেও যান চলাচল করেনি।

সিলেটের সমাবেশের আগে বিভাগের চার জেলা সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। 

আগের অভিজ্ঞতায় সমাবেশে যোগদানে সমস্যায় পড়ার শঙ্কা মাথায় রেখে ইতোমধ্যে বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন জেলা থেকে সিলেটে যোগ দিতে শুরু করেছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি নিজ নিজ জেলায় ধর্মঘটের খবর দিয়েছেন।     

সিলেট 

সিলেটের সব পাথর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনের অনুমতি প্রদানসহ চার দফা দাবিতে সব ধরনের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে জেলা শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। 

আগামী শনিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট বিভাগীয় শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি মো. মইনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, শনিবার সিলেট জেলায় চার দফা দাবিতে ধর্মঘট চলবে। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। 

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার হুমায়ূন রশীদ চত্বর এলাকায় বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে ধর্মঘট ডাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। 

তাদের চার দফা দাবি হচ্ছে সিলেটের সব পাথর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনের অনুমতি প্রদান, সিএনজিচালিত অটোরিকশার নতুন রেজিস্ট্রেশন প্রদান বন্ধ, সিলেটের লামাকাজী ও শ্যাওলা সেতুতে টোল আদায় বন্ধ এবং হাইওয়েতে টমটম ও নছিমন চলাচল বন্ধ করা।  

মৌলভীবাজার 

মৌলভীবাজার জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফজলুর রহমান জানান, জেলায় চাহিদার তুলনায় দশ গুণ বেশি অটোরিকশা চলে। এতে রাস্তায় বেড়েছে যানজট। পরিবহনগুলো পড়েছে লোকসানে। মানুষকে বেশি টাকা দিয়ে গন্তব্যে যেতে হয়। তাছাড়া শহর জুড়ে অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশারও ছড়াছড়ি। এগুলো বন্ধ করার দাবিতে ধর্মঘটের ডাকা হয়েছে। 

জেলা ট্রাক মালিক সমিতির চেয়ারম্যান রশিদ উদ্দিন আহমদ বলছেন, অটোরিকশা বন্ধের পাশাপাশি জেলায় একটি স্থায়ী ট্রাক স্ট্যান্ড নির্মাণের দাবি তাদের। ট্রাক স্ট্যান্ড না থাকায় তাদের রাস্তার উপরে গাড়ি রাখতে হয়। ট্রাক স্ট্যান্ডের দাবিতে ৩৬ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে এ ধর্মঘট বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে সরকারের চক্রান্ত বলছেন জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমান। 

তিনি বলেন, “দেশের অন্য বিভাগেও বিএনপির মহাসমাবেশকে সামনে রেখে ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। কিন্তু মানুষ এ গুলো তোয়াক্কা করেননি। সিলেটের সমাবেশেও ঐতিহাসিক সমাবেশে পরিণত হবে।” 

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, “ধর্মঘট দিয়ে লাভ হবে না। মৌলভীবাজার থেকে বহু নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আজই চলে যাচ্ছেন সিলেটে। মানুষ খেয়ে না থেয়ে সমাবেশ সফল করবে।” 

সুনামগঞ্জ 

সুনামগঞ্জ বাস মিনিবাস ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন জানান, পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরেই লামাকাজি সেতুতে টোল বন্ধ, ব্যাটারি চালিত সিএনজি চলাচল বন্ধ, সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে বিআরটিসি বাস বন্ধ এবং সুনামগঞ্জ বাস টার্মিনাল আধুনিকায়নের দাবিতে কর্মসূচি চলমান আছে। বিভিন্ন সময়ে ধর্মঘটসহ স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে।  

“এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ও শনিবার সকাল-সন্ধ্যা পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি।” 

বিএনপির সমাবেশ সামনে রেখে তারা কর্মসূচি ঘোষণা করেননি বলে দাবি মোজাম্মেলের।   

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নূরুল বলেন, পরিবহন ধর্মঘট ডেকে সিলেট মহাসমাবেশের জনস্রোত আটকানো যাবে না। নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ আগেই সমাবেশ স্থলে রওয়ানা দিয়ে দিয়েছেন।  

হবিগঞ্জ 

হবিগঞ্জ মোটরমালিক গ্রুপের সভাপতি ফজলুর রহমান চৌধুরী বলেন, হবিগঞ্জ-নবীগঞ্জ সড়কে বাস চলাচলের ক্ষেত্রে নবীগঞ্জ প্রশাসন বাধা প্রদান করছে। যানজটের অজুহাতে সরকার নির্ধারিত স্থান ছালামতপুরে বাস নিয়ে যেতে দিচ্ছে না। এছাড়া সড়কে অবৈধ যানবাহনের কারণেও বাসগুলো বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। 

“তাই শুক্রবার সকাল থেকে জেলা মোটরমালিক গ্রুপের আওতাধীন সকল বাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।” 

হবিগঞ্জ জেলা মোটরমালিক গ্রুপ একটি অরাজনৈতিক সংগঠন জানিয়ে এই নেতা সাংবাদিকদের বলেন, এই সংগঠনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা রয়েছে। এটা রাজনৈতিক কর্মসূচি বা কর্মকাণ্ড নয়; ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড। 

ধর্ঘটের ব্যাপারে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবাহক জি কে গোউছ বলেন, “সরকার এ ধর্মঘট ডাকিয়েছে, যাতে আমাদের নেতা-কর্মীরা সিলেটের সমাবেশে যেতে না পারে। কিন্তু তারা আজই সমাবেশস্থলে পৌঁছে গেছে। বাস বন্ধ করে আমাদের ঠেকানো যাবে না।”

আরও পড়ুন:

সিলেটে বিএনপির সমাবেশের আগে সুনামগঞ্জেও পরিবহন ধর্মঘট

বিএনপির সমাবেশের আগে হবিগঞ্জে বাস ধর্মঘট  

সিলেটে বিএনপির সমাবেশ: সুনামগঞ্জ থেকে নৌ-যাত্রা দুদিন আগে  

সিলেটে বিএনপির সাড়ে ৩০০ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দুই মামলা  

হবিগঞ্জে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ৩৮  

বিএনপির সমাবেশের দিন পরিবহন ধর্মঘট এবার সিলেটে  

বিএনপির গণসমাবেশ: সিলেটে মাঠে প্রস্তুত ছয় ক্যাম্প  

সমাবেশের আগে মৌলভীবাজারে পরিবহন ধর্মঘট, বিএনপি বলছে, ‘লাভ হবে না’ 

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক