Published : 24 Aug 2025, 03:50 PM
বাড়ি পরিষ্কার রাখা অনেক সময়েই কঠিন কাজ মনে হয়। এক সপ্তাহ ফাঁকি দিলে দেখা যায় কাজ জমে পাহাড়সম হয়ে গেছে। তখন আবার কোথা থেকে শুরু করা হবে, সেটাই বোঝা যায় না।
অথচ কিছু জায়গা আছে যেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে বছরের বাকিটা সময় আর আলাদা করে বড়সড় পরিশ্রম করতে হয় না।
শুরুতেই একটু যত্ন নিলে বড় ধরনের ঝামেলা এড়িয়ে যাওয়া যায়। মৌসুম বদলের এই সময়ে তাই ঘরের চারপাশে নজর দিয়ে শুরু করতে হবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ।
বড় গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির নিচে ও পেছনে পরিষ্কার
ফ্রিজ, চুলা, ওয়াশিং মেশিন কিংবা কাপড় শুকানোর যন্ত্রের নিচে-পেছনে নিয়মিত ধুলো জমতে থাকে। এসব জায়গা সাধারণত চোখে পড়ে না। ফলে ময়লা ও ধুলা সেখানে বছরের পর বছর থেকে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের গৃহ বিশেষজ্ঞ ও ‘ফ্রম দ্য গ্রাউন্ড আপ’ বইয়ের লেখক নোয়েল জেট রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পরামর্শ দিয়েছেন, “এই যন্ত্রগুলো টেনে বের করে মেঝে ভালোভাবে ভ্যাকুয়াম করা উচিত। এরপর যন্ত্রগুলোর বাইরের অংশও একটি বহুমুখী পরিষ্কারক দিয়ে মুছে নিন।”
তার মতে, “লুকানো এই জায়গাগুলো পরিষ্কার রাখলে যন্ত্রপাতি আরও কার্যকরভাবে কাজ করে এবং ধুলা-ময়লা-মুক্ত পরিবেশে পোকামাকড় জন্মানোর ঝুঁকি কমে যায়।”
অর্থাৎ, এখনই একবার কষ্ট করলে সারা বছর বড় ধরনের ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।
ডিশওয়াশার বা থালা ধোয়ার যন্ত্র
বাসায় একটা ডিশওয়াশার থাকলেও যদি সেটি ঠিকভাবে কাজ না করে, তবে থালা-বাসন আগের চেয়ে আরও নোংরা হয়ে বের হয়। তাই এ যন্ত্রের নিয়মিত যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি।
যু্ক্তরাষ্ট্রের ‘ক্লিন মামা’র প্রতিষ্ঠাতা বেকি রাপিনচুক একই প্রতিবেদনে বলেন, “প্রথমে ডিশওয়াশারের ফিল্টারটি বের করে আনুন। এরপর হালকা ব্রাশ বা পুরানো টুথব্রাশ ব্যবহার করে সাবান দিয়ে ভালোভাবে ঘষে ধুয়ে নিন। আবার সেটিকে ঠিক জায়গায় লাগিয়ে দিন।”
গৃহ বিশেষজ্ঞ নোয়েল জেট যোগ করেছেন, “প্রতি মাসে একবার পুরো ডিশওয়াশার মেশিনকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করা উচিত। এজন্য নিচের অংশে কিছু বেইকিং সোডা ছিটিয়ে দিন এবং ওপরে একটি বাটিতে ভিনেগার রেখে পূর্ণ একটি ধোয়ার চক্র চালান। এতে যন্ত্রটি গন্ধমুক্ত থাকবে এবং কার্যক্ষমতাও বাড়বে। ফলে সারা বছরই ঝকঝকে থালা-বাসন পাবেন।”
ফ্রিজ, রান্নাঘর ও সংরক্ষণাগার
ফ্রিজ, রান্নাঘর ও সংরক্ষণাগার এমন একটি জায়গা যেখানে প্রতিদিন খাবার রাখা হয়। এখানে অগোছালোভাব বা মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার জমতে দিলে তা শুধু গন্ধই তৈরি করে না, বরং ব্যাক্টেরিয়ারও জন্ম দেয়।
নোয়েল জেটের পরামর্শ হল— প্রথমে ফ্রিজ ও প্যান্ট্রির সব খাবার বের করে নিন। মেয়াদোত্তীর্ণ, বাসি বা নষ্ট খাবার ফেলে দিন। এরপর তাকগুলো ভালোভাবে মুছে পরিষ্কার করুন। যেসব পাত্রে খাবার রাখেন সেগুলোতে যদি আঠালো দাগ থাকে তবে ধুয়ে ফেলুন।
সবকিছু আবার গুছিয়ে রাখুন, একই ধরনের খাবার একসাথে রাখার চেষ্টা করুন। এতে রান্নার সময় বা বাজার করার সময় সহজেই বুঝতে পারবেন কোন জিনিস আছে, আর কোনটা নেই।
রান্নাঘরের বিভিন্ন তাকে রাখা খাবারের কৌটা খালি হলে ফেলে দিতে হবে। প্রয়োজনীয়গুলো ভালো মতো ধুয়ে মুছে রাখতে হবে। এছাড়া রান্নাঘরের বিভিন্ন কোণা চুলার নিচে ও পেছনের দেয়াল সপ্তাহে একবার পরিষ্কার করা জরুরি।
নোয়েল জেট মন্তব্য করেন, “এতে শুধু সময়ই বাঁচে না, খাবার নষ্ট হওয়ার হারও কমে।”
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘মলি মেইড’-এর সভাপতি মার্লা মক যুক্ত করেছেন, “নিয়মিত ফ্রিজ পরিষ্কার করলে আঠালো দাগ, বিরক্তিকর দুর্গন্ধ এবং ব্যাক্টেরিয়া জন্মানো থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এতে করে পরে বড় ধরনের সময়সাপেক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ঝামেলায় পড়তে হয় না।”
ভ্যাকুয়াম মেশিন
বাড়ি পরিষ্কারের সবচেয়ে বড় সহায়ক হল ভ্যাকুয়াম মেশিন। তবে এটিকে পরিষ্কার না রাখলে সেটিই আবার ধুলা ছড়িয়ে দিতে পারে।
মার্লা মক বলছেন, “প্রতিবার ব্যবহার শেষে ভ্যাকুয়ামের ধুলা জমা কন্টেইনার খালি করে নেওয়া উচিত। এতে শোষণক্ষমতা (সাকশন) বেড়ে যায়, ফলে একই জায়গায় বারবার ঘোরাতে হয় না। সবচেয়ে বড় কথা, ধুলা আবার ঘরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে না।”
গৃহ বিশেষজ্ঞ নোয়েল জেট পরামর্শ দেন, “ভ্যাকুয়াম মেশিনের ভেতর আরও ভালোভাবে পরিষ্কার করার জন্য মাঝে মাঝে এটিকে আলাদা করে খুলে ধোয়া দরকার। ফিল্টার ধুয়ে নিন, রোলার ব্রাশ পরিষ্কার করুন। এতে মেশিনের কার্যক্ষমতা বাড়বে এবং ঘর পরিষ্কার করতে কম সময় লাগবে।”
আরও পড়ুন
ঘরের যেসব জিনিস প্রতি মাসেই পরিষ্কার করা উচিত
প্রতিদিনের কাপড় পরিষ্কার ও যত্নের বিশেষ কৌশল