১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় প্রেমিকাকে খুন করেন তরুণ: পিবিআই

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তরুণ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় প্রেমিকাকে খুন করেন তরুণ: পিবিআই
গ্রেপ্তার আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আরিয়ান।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Jul 2026, 09:21 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:43 PM

স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন তরুণ-তরুণী। একসঙ্গে থাকার ১২ দিনের মাথায় বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় প্রেমিকাকে খুন করে তরুণ পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাইনবোর্ড এলাকায় পিবিআইয়ের জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির পরিদর্শক মিন্টু কুমার।

এর আগে ১৩ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে ২৩ বছর বয়সি সাদিয়া আক্তারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার তদন্তে নেমে ১০ দিনের মাথায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার ও ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থাটি।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে স্বামী পরিচয় দেওয়া আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আরিয়ানকে। ২৫ বছর বয়সি আরিয়ান পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার প্রয়াত আলতাফ হাওলাদারের ছেলে। তাকে মঙ্গলবার বিকালে কেরাণীগঞ্জের জিঞ্জিরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। 

পরদিন বুধবার আরিয়ান আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দেন বলে জানান পিবিআই পরিদর্শক মিন্টু কুমার।

এর আগে ১৬ জুলাই রাতে সাদিয়ার সদ্য প্রাক্তন স্বামী ঢাকার বিবি বাগিচা রোডের মহিউদ্দিনের ছেলে মো. ইব্রাহিমকে (২৭) গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

ভুক্তভোগী সাদিয়া আক্তার পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার উত্তর শিয়ালকাঠি গ্রামের ইউসুফ মোল্লার কন্যা। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের একটি পোশাক কারখানার কর্মী ছিলেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

এজাহার ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাতে মিন্টু কুমার বলেন, “তরুণী তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের পর ইব্রাহিমকে বিয়ে করেন। কিন্তু ইব্রাহিম আগেও একটি বিয়ে করেছেন এবং ওই সংসারে সন্তানও রয়েছে। বিষয়টি জানতে পারলে সাদিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। 

“সাদিয়া নিজেও আগে একটি বিয়ে করেছিলেন। পরে আরিয়ানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ালে সম্প্রতি ইব্রাহিমকে তালাক দিয়ে আলাদাভাবে থাকতে শুরু করেন।”

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই জানিয়েছে, ১ জুলাই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে একটি বাসা ভাড়া নেন সাদিয়া ও আরিয়ান। এ বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াতও ছিল আরিয়ানের। ১২ জুলাই রাতে সাদিয়া তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে ঝগড়া শুরু হয়। 

এক পর্যায়ে আরিয়ান ক্ষিপ্ত হয়ে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে সাদিয়াকে হত্যা করে তার ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যান। 

তবে লাশ উদ্ধারের পর ১৫ জুলাই সাদিয়ার সদ্য প্রাক্তন স্বামী ইব্রাহিমকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন বড় ভাই রিয়াজ মোল্লা। পরদিন মামলাটির তদন্তভার নেয় পিবিআই।

তদন্তের শুরুতে ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ডে তার দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তির সহযোগিতায় আরিয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান পিবিআই কর্মকর্তা মিন্টু কুমার।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের সময় আরিয়ানের কাছ থেকে সাদিয়ার ফোনটি পাওয়া যায়। নিহতের ছয় বছর বয়সি মেয়ে বলে, তাদের বাড়িতে আরিয়ানের নিয়মিত আসা-যাওয়া ছিল। ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজেও আরিয়ানের যাতায়াতের প্রমাণ মিলেছে।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কিনা সে বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।