Published : 23 Jul 2026, 09:17 PM
প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলা ভজিনিয়ার চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সের ছাপ পড়েছে ট্রান্সফার মার্কেটে। দ্রুত বাড়ছে কেইপ ভার্ডের এই গোলরক্ষকের দাম। এরই মধ্যে প্রায় ১০ গুণ বেড়ে গেছে তার বাজারমূল্য।
ট্রান্সফার মার্কেটের হিসেবে বিশ্বকাপের আগে ৪০ বছর বয়সী ভজিনিয়ার মূল্য ছিল মাত্র ৫৮ হাজার ডলারের মতো। বিশ্ব আসর শেষে এখন তার দাম প্রায় পাঁচ লাখ ৮১ হাজার ডলার।
৪৮ দলের বিশ্বকাপ হওয়ায়, উত্তর আমেরিকা আসরে কয়েকটি দেশের অভিষেক হয়। যার মধ্যে একটি কেইপ ভার্ড। আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটির জনসংখ্যা প্রায় ছয় লাখ। এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক ছিল তারাই।
শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপে অভিষেক হয় কেইপ ভার্ডের। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের রুখে দিয়ে আলোড়ন ফেলে দেয় তারা ফুটবল আঙিনায়। সেদিন স্প্যানিশদের আক্রমণের ঝড়ের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান ভজিনিয়া। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সে সেদিন গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে কেইপ ভার্ড।
ওই ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বাড়তে থাকে ভজিনিয়ার ফলোয়ার। এখন ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী প্রায় ২ কোটি ৯৫ লাখ! যা অনেক তারকা ফুটবলারের চেয়েও বেশি।
গ্রুপ পর্বে উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-২ ড্র এবং সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে কেইপ ভার্ড। গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়ে গড়ে ইতিহাস। তাদের চেয়ে ছোট কোনো দেশ এর আগে বিশ্বকাপের নকআউটে উঠতে পারেনি।
শেষ বত্রিশে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও চোখে চোখ রেখে লড়াই করে তারা। শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী গোলে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় বিশ্বকাপ থেকে।
কেইপ ভার্ডের এই স্মরণীয় পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ একজন ছিলেন ভজিনিয়া। চার ম্যাচে ১৮টি সেভ করেন তিনি, যার মধ্যে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আটটি এবং স্পেনের বিপক্ষে সাতটি।
অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ, গোল্ডেন গ্লাভ জয়ী স্পেনের উনাই সিমন ও আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেসদের পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের সেরা একাদশে জায়গা পান ভজিনিয়া।
আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তার পাশাপাশি ট্রান্সফার মার্কেটে উত্থানের পরও, এখনও ঠিকানাবিহীন ভজিনিয়া। বড় ক্লাবে ডাক পাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্য তার বয়স একটা বড় বাধা।
বিশ্বকাপের আগে পর্তুগালের দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব গ্রুপো দেসপোর্তিভো দে শাভেসে খেলতেন ভজিনিয়া।