সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিআরটিসির বাস ভাড়া বন্ধের দাবিতে হাই কোর্টে আবেদন
বর্তমানে সরকারি যাতায়াতে ব্যবহৃত বিআরটিসির বাসগুলো প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য নিয়মিত বাণিজ্যিক রুটে পুনর্বহালের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে মামলায়।
সরকারি মন্ত্রণালয়, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাস ভাড়া বা ইজারা দেওয়া বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বর্তমানে সরকারি যাতায়াতে ব্যবহৃত বিআরটিসির বাসগুলো প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য নিয়মিত বাণিজ্যিক রুটে পুনর্বহালের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন সোমবার জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব এবং বিআরটিসির চেয়ারম্যানকে এ মামলায় বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিআরটিসি থেকে বাস ভাড়া নিলে রাষ্ট্রের অর্থ এক সরকারি খাত থেকে আরেক সরকারি খাতেই আবদ্ধ থাকে। এতে অর্থনীতিতে আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ এবং ‘ফিসক্যাল মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট’ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
রিটকারী বলছেন, বিপুল সংখ্যক বিআরটিসি বাস সরকারি কর্মকর্তাদের যাতায়াতে ব্যবহৃত হওয়ায় সাধারণ মানুষ, নারী ও শিক্ষার্থীরা গণপরিবহন সংকটে পড়ছেন। সরকারি যাতায়াতের জন্য বেসরকারি পরিবহন খাত থেকে বাস ভাড়া করা হলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন আইন, ২০২০-এর ৫ ও ২২ ধারা তুলে ধরে আবেদনে বলা হয়েছে, বিআরটিসির মূল কার্যক্রম জনস্বার্থে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের গণপরিবহন সেবা নিশ্চিত করা।
তবে ওই আইনের ৫ ধারায় নির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক নয়—এমন বাস বা ট্রাক দীর্ঘমেয়াদে ইজারায় পরিচালনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ীভাবে যাত্রীবাহী বাস বা পণ্যবাহী ট্রাক ইজারায় পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে। ২২ ধারায় জনস্বার্থে দেশের যেকোনো রুটে যাত্রী ও পণ্যবাহী মোটরযান পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
তাই রিটকারীর বক্তব্য হল, বিআরটিসির বাস সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবহনে ব্যবহার না করে সাধারণ যাত্রীদের জন্য নিয়মিত রুটে চালানো উচিত।
আবেদনে বিআরটিসির বাস সরকারি মন্ত্রণালয়, সংবিধিবদ্ধ সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতে ইজারা বা ভাড়া দেওয়ার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি বর্তমানে সরকারি যাতায়াতে ব্যবহৃত সব বিআরটিসি বাস অবিলম্বে প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য নিয়মিত বাণিজ্যিক রুটে পুনর্বহালের আবেদন জানানো হয়েছে।
জনগণের করের অর্থে পরিচালিত বিআরটিসির বাস সাধারণ মানুষের ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ব্যবহারের বিষয়টি ওই সাংবিধানিক অধিকারগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে আবেদনে।
আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন অবকাশকালীন বেঞ্চ বিচারকাজ পরিচালনা করছেন। সেক্ষেত্রে শুনানি হতে একটু সময় লাগতে পারে। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য মেনশন করেছি। আশা করছি, খুব দ্রুত শুনানি করতে পারব।”
এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে বিবাদীদের আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছিল। নোটিসে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিআরটিসির বাস ভাড়া না দিয়ে নিজেদের পরিবহন চাহিদা মেটাতে নিজস্ব বাস কেনা অথবা বেসরকারি খাত থেকে পরিবহনসেবা নেওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছিল।
নোটিসের পর নির্ধারিত সময়ে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় ‘জনস্বার্থে’ রিট আবেদন করার কথা বলছেন আইনজীবী মামুন।
