কিশোরগঞ্জে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা: স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
২০১৬ সালের ১২ এপ্রিল সন্ধ্যায় বাজিতপুর উপজেলার নিলখী নয়াহাটে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে তার স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনসুর আলম জানিয়েছেন।
দণ্ডিত ইসমাইল ওরফে সাগর মিয়া বাজিতপুর উপজেলার উত্তর সরারচর এলাকার আয়েত আলীর ছেলে।
সাজার পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দিয়েছেন বিচারক।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালে বাজিতপুর উপজেলার সরারচর এলাকার নয়াহাটি তোফাচাঁদের মেয়ে ঝর্ণা আক্তারের সঙ্গে ইসমাইল ওরফে সাগর মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইসমাইল স্ত্রীকে অত্যাচার, নির্যাতন ও মারধর করে আসছিলেন।
স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল ঝর্ণা আক্তার তার দুই মেয়েকে নিয়ে গাজীপুরের ভাড়া বাসা থেকে মায়ের বাড়ি বাজিতপুর উপজেলার নিলখী নয়াহাটে চলে যান। পরে মাকে তিনি স্বামীর নির্যাতনের বিষয়টি জানান।
পরদিন ১২ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে ইসমাইল অজ্ঞাত পরিচয় আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে যান। এক পর্যায়ে তিনি কোমর থেকে ধারালো ছুরি বের করে ঝর্ণা আক্তারের বুকে ছুরিকাঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যান।
পরে গুরুতর অবস্থায় ঝর্ণাকে তার স্বজনরা ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা জাহেরা বেগম বাদী হয়ে ইসমাইল ওরফে সাগর মিয়াসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও দুজনকে আসামি করে বাজিতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৪ মে বাজিতপুর থানার এসআই মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ইসমাইল ওরফে সাগর মিয়াকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
মামলার শুরু থেকেই পলাতক ছিলেন ইসমাইল ওরফে সাগর মিয়া।
