Published : 11 Nov 2025, 05:31 PM
রাতে ঘুম আসে না? সারাদিন মন ভার? কারও কথায় অকারণে রেগে যান? নিজের ওপর ভরসা হারিয়ে ফেলেছেন?
এই ধরনের মানসিক সমস্যার সমাধান মিলবে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে।
মাত্র ১০ টাকার টিকিট কেটেই মিলবে মনের চিকিৎসা।
মানসিক হাসপাতালের নাম শুনলে যে আতঙ্ক জাগে, সে ভয় এখানে নেই। বরং আছে উন্নত চিকিৎসা, স্নেহময় পরিবেশ আর হাজারও মানুষের সুস্থ হয়ে ফেরার গল্প।
দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে এসেও পাওয়া যায় সমান যত্ন। প্রতিদিন শত শত মানুষ এখান থেকে ফিরে যান নতুন আলো নিয়ে।
হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান বলেন, “আমরা শুধু ওষুধ দেই না, মনের শান্তি ফিরিয়ে দিই।”
বহির্বিভাগে প্রতিদিন এক হাজার রোগীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা আছে, সেখানে আসেন সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ জন।
অর্থাৎ আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করছে যথেষ্ট সময় আর বিশেষজ্ঞের হাত।
লক্ষণ চিনে রাখলে আগেভাগেই চিকিৎসা সম্ভব
অতিরিক্ত ভয়, অস্বাভাবিক সন্দেহ, নিজে নিজে বিড়বিড়, অতিরিক্ত খরচের নেশা, উত্তেজনায় ভাঙচুর, অনিদ্রা, বিষণ্ণতা, আত্মহত্যার চিন্তা, অতিরিক্ত উদ্বেগ, বারবার একই কাজ করা, যৌন সমস্যা, নেশা কিংবা স্মৃতিভ্রংশ— এগুলো যদি কারও মধ্যে দেখা যায়, তবে দেরি না করে চলে গেলেই হবে।
এখানে লজ্জার কিছু নেই, আছে শুধু সুস্থতার পথ।
যেভাবে শুরু করবেন
সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা থাকে বহির্বিভাগ। কাউন্টার থেকে ১০ টাকার টিকিট কেটে লাইনে দাঁড়ান। অভিজ্ঞ কনসালট্যান্ট রোগী দেখেন। যাদের বাড়িতে রেখে চিকিৎসা সম্ভব, তাদের ওষুধ-পরামর্শ দিয়ে ফলোআপের তারিখ দেওয়া হয়।
গুরুতর রোগীদের পাঠানো হয় ১০১ নম্বর কক্ষে। সেখানে প্রতিদিন বোর্ড বসে— আবাসিক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, সহযোগী অধ্যাপক ও ‘সাইকিয়াট্রিক সোশ্যাল ওয়ার্কার’ মিলে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেন।
জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টা খোলা।
ভর্তি হলে কত খরচ?
হাসপাতালে শয্যা ৪শ’র বেশি। এরমধ্যে ৭০ শতাংশ শয্যায় বিনামূল্যে থাকা যায়। শুধু ভর্তি ফি দিতে হয় ১৫ টাকা।
৯০ শতাংশ ওষুধ ও তিন বেলার খাবার বিনামূল্যে মিলে।
মূল্য পরিশোধ করতে হয় এমন শয্যায় থাকতে ১০ দিনের জন্য খরচ ২ হাজার ৭শ’ ৫০ টাকা; আগে ছেড়ে দিলে বাকি টাকা ফেরত।
কারা বেশি আসেন?
ভর্তি রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ‘বাইপোলার মুড ডিজঅর্ডার’- জানান ডা. ফারজানা রহমান।
এরপরেই রয়েছে সিজোফ্রেনিয়া ও নেশাজনিত সমস্যা। নারীদের মধ্যে ‘কনভার্শন ডিজঅর্ডার’ ও ‘ডিপ্রেশন’ বেশি।
বহির্বিভাগে আসেন মূলত উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, ওসিডি ও মাদকাসক্ত রোগীরা।
কত দিন থাকতে হয়?
সাধারণত দুই সপ্তাহ থেকে এক মাস রাখা হয়। সাধারণত এক মাসের বেশি রাখা হয় না।
বিশেষ গ্রুপ থেরাপি
প্রতি রোববার সকাল ১১টায় ৫০২ নম্বর কক্ষে হয় ‘নিউরোটিক গ্রুপ থেরাপি’।
সোমবার একই সময়ে শিশু রোগীদের বাবা-মায়ের জন্য ‘প্যারেন্টস গ্রুপ’।
বৃহস্পতিবার ওসিডি গ্রুপ। আর এসব সেশন বিনামূল্যে করা যায়।
মনের অসুখ শরীরের অসুখের মতোই সাধারণ। লজ্জা ফেলে দিন, হাতে নিন ১০ টাকার টিকিট। জীবন আবার হাসবে।
আরও বিস্তারিত জানতে: https://nimh.gov.bd
আরও পড়ুন
ঢাকায় যেখানে ঘোড়া চালানো শেখানো হয়