Published : 04 Nov 2025, 05:43 PM
টগবগ টগবগ করে ঘোড়া ছুটিয়ে রাজকুমার এল রাজকুমারীকে উদ্ধার করতে- এমন গল্পে নিজেকে কল্পনা করতে বেশ লাগে।
তবে রূপকথার গল্পে শুধু রাজকুমার ঘোড়া চালাতে জানলেও, ব্যস্ত শহর ঢাকাতে এখন নারী পুরুষ যে কেউ ঘোড়া চালানো শিখতে পারবেন।
রাজধানীর একশ ফিট সড়কের ‘সানভ্যালি রেসিডেনসিয়াল’ এলাকায়, ‘ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র পেছনে অবস্থিত ‘বুরাক হর্স রাইডিং স্কুল’ নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় জায়গা হয়ে উঠেছে।
এখানে শুধু ঘোড়ায় চড়া শেখানো হয় না, বরং ঘোড়ার প্রতি ভালোবাসা ও যত্নের শিক্ষাও দেওয়া হয়।
‘বুরাক হর্স রাইডিং স্কুল’য়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাদাত উজ্জ্বল বলেন, “ঘোড়ার সঙ্গে আমাদের সবার শেকড় জড়িত। আমার দাদার ঘোড়া ছিল, আমার বন্ধু ইমরান ওসমানের বাড়িতে এখনও ঘোড়া আছে। আমাদের আরেক সহযোগী রহিম বক্স ইউকে-তে থাকেন, তার আন্দালুসিয়ান ঘোড়ার সংগ্রহ রয়েছে। ছোটবেলার বন্ধু রাতুলও বহুদিন ধরে আমার সঙ্গে ঘোড়ার প্রশিক্ষণে কাজ করছে। আমরা সবাই ছোটবেলা থেকে ঘোড়ার প্রতি উৎসাহী।”
তিনি আরও জানান, তাদের দলে রয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক রাইডিং প্রশিক্ষক মো. আব্দুস সামাদ, যিনি ২৬ বছর ধরে এই ক্ষেত্রে কাজ করেছেন।
তার অভিজ্ঞতা বুরাকের প্রশিক্ষণে পেশাদারিত্ব ও নিরাপত্তার মান নিশ্চিত করেছে।
প্রতিষ্ঠার গল্প
২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় ‘হর্স রাইডিং ট্রেনিং সেন্টার’ নামে যাত্রা শুরু হয়। পরে প্রশাসনিক ও স্থানগত কারণে এটি বর্তমান ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয়ে ‘বুরাক হর্স রাইডিং স্কুল’ নামে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এ পর্যন্ত ৪শ’ জনের বেশি শিক্ষার্থী এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বর্তমানে প্রায় ৫০ জন নিয়মিত ঘোড়ায় চড়া শিখছেন।
সাদাত উজ্জ্বল দাবি করেন, পূর্বাচলে তাদের সঙ্গে কাজ শুরু করা একজন প্রশিক্ষক নিয়ম ভঙ্গ করে আলাদা একাডেমি খুলে ভুয়া পরিচয় ও সনদ ব্যবহার করেন। এ ঘটনায় স্বীকারোক্তি নেওয়া হলেও তিনি নাম বদলে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
বুরাক স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্যও বিশেষ প্রোগ্রাম চালু করেছে।
গ্ল্যানরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ১০জন এবং কানাডিয়ান ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ৯০জন শিক্ষার্থী বেসিক হর্স ম্যানেজমেন্ট সেশনে অংশ নিয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল- শিশুদের প্রাণীপ্রেম ও ঘোড়ার যত্ন শেখানো।
কোর্স ও খরচ
বুরাক হর্স রাইডিং স্কুলে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ কোর্স রয়েছে।
বেসিক কোর্স: মাসে ৫ হাজার টাকা। সপ্তাহে দুই দিন (শুক্র ও শনিবার)। শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ শতাংশ ছাড়, তবে বৈধ শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।
একদিনের কোর্স: মাসে ৩ হাজার ৫শ’ টাকা। সপ্তাহে একদিন (শুক্র বা শনিবার)।
অ্যাডভান্স কোর্স: দুই মাসে ১৬টি সেশন। মোট ১২ হাজার টাকা।
প্রাইভেট প্রোগ্রাম: বেসিক ও অ্যাডভান্স মিলিয়ে ১৫ হাজার টাকা।
প্রতিটি সেশন ৩০ মিনিটের। আর রাইডার বা অস্বারোহীর ওজন ৮০ কেজির মধ্যে হতে হবে।
এছাড়া এই স্কুলে বিনোদনের জন্য রয়েছে-
জয় রাইড: ১৫ মিনিট, ৫শ’ টাকা।
ট্রেইল রাইড: ৪৫ মিনিট, ১ হাজার ৫শ’ টাকা (শর্ত প্রযোজ্য)।
স্টেবল ও অন্যান্য সুবিধা
বুরাকের নিজস্ব স্টেবল ও প্যাডক রয়েছে। যারা নিজের ঘোড়া রাখতে চান, তারা মাসিক ফি দিয়ে এই সুবিধা নিতে পারেন। এছাড়া ঘোড়া বিক্রি, রাইডিং সরঞ্জাম সরবরাহ, ঘোড়ার প্রশিক্ষণ এবং কনসালটেন্সি সেবাও দেওয়া হয়।
সার্টিফিকেশন ও দক্ষতা
বুরাক শিগগিরই শিক্ষার্থীদের জন্য সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া শুরু করবে। এরই মধ্যে এখান থেকে প্রায় ১শ’ জন দক্ষ রাইডার তৈরি হয়েছে। এছাড়া ফটোশুট ও ভিডিওগ্রাফির সুযোগও রয়েছে, যা অনেকের জন্য স্মৃতি ধরে রাখার একটি আকর্ষণীয় উপায়।
তাদের ফেইসবুক পেইজ www.facebook.com/profile.php?id=61555457613705 থেকে জানা যাবে বিস্তারিত।
ঢাকার হৃদয়ে ঘোড়ার খুরের ছন্দে শুরু হয়েছে এক নতুন যাত্রা। বুরাক হর্স রাইডিং স্কুল শুধু ঘোড়ায় চড়া শেখায় না, বাংলাদেশের ঘোড়া-সংস্কৃতিকে নতুন করে জাগিয়ে তুলছে।
ছবি: সাদাত উজ্জ্বলের সৌজন্য।
আরও পড়ুন
বাবার নামে বিদ্যুৎ মিটার সহজে নিজের নামে করার উপায়