আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনটি অভিযোগ করে বলেছে, এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার বেসামরিকদের গুরুতর ও দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।
Published : 13 Oct 2023, 02:37 PM
গাজা ও লেবাবনে সামরিক হামলা চালানোর সময় ইসরায়েল সাদা ফসফরাসের যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অভিযোগ করেছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনটি বৃহস্পতিবার বলেছে, এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার বেসামরিকদের গুরুতর ও দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।
রয়টার্স জানায়, এ অভিযোগের বিষয়ে এক মন্তব্যে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, “সাদা ফসফরাস আছে এমন অস্ত্র গাজায় ব্যবহার করা হয়েছে কি না, বর্তমানে আমরা সেটি অবগত নই।”
লেবাননেও ইসরায়েলি বাহিনী এই অস্ত্র ব্যবহার করেছে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এমন অভিযোগের বিষয়ে বাহিনীটি কোনো মন্তব্য করেনি।
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস গত শনিবার ইসরায়েলে আকস্মিক ব্যাপক হামলা চালায়, এতে অন্তত ১৩০০ জন নিহত হয়। এর প্রতিশোধ নিতে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজায় ব্যাপক বোমা হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এতে অন্তত ১৫০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। উত্তর সীমান্তে লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর সঙ্গেও পাল্টাপাল্টি হামলায় লিপ্ত হয়েছে ইসরায়েল।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, তারা ১০ অক্টোবর লেবানন থেকে এবং ১১ অক্টোবর গাজা থেকে ধারণ করা ভিডিও যাচাই করে দেখেছে, সেগুলোতে কামান থেকে ছোড়া গোলায় গাজা শহরের বন্দর এলাকা ও ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তের গ্রামীণ এলাকার ওপরে একাধিক সাদা ফসফরাসের বিস্ফোরণ দেখা গেছে।
মানবাধিকার গোষ্ঠীটি দুটি ভিডিওর লিঙ্ক সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বলেছে, “এগুলো দেখিয়েছে, ১৫৫ মিলিমিটার সাদা ফসফরাসের কামানের গোলা ব্যবহার করা হচ্ছে। স্পষ্টতই ধুম্রজাল তৈরিতে, চিহ্নিত করতে অথবা সংকেত দিতে এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে।”
পোস্ট করা উভয় ভিডিওতেই লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তের কাছের দৃশ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। গাজায় সাদা ফসফরাস ব্যবহার করার অভিযোগ করা হয়েছে যে ভিডিওগুলোর ভিত্তিতে সেগুলোর লিঙ্ক পোস্ট করেনি তারা।
সম্প্রতি ফিলিস্তিনি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সম্প্রচারিত ভিডিওতে গাজার আকাশে পাতলা সাদা ধোঁয়ার কুণ্ডুলি দেখা গেছে; সাদা ফসফরাসের গোলা ব্যবহারের কারণে এরকম ধোঁয়া তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
রয়টার্স জানিয়েছে, তারা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ভাষ্য স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করে দেখতে পারেনি।
২০০৮-২০০৯ সালে গাজায় আক্রমণ চালানোর সময় সাদা ফসফরাসের গোলা ব্যবহার করেছিল ইসরায়েল। তখন অনেকগুলো মানবাধিকার গোষ্ঠী দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছিল। ২০১৩ সালে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তারা সাদা ফসফরাসের যুদ্ধাস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে ধুম্রজাল, আলোকিত পরিস্থিতি তৈরিতে, লক্ষ্যস্থল চিহ্নিত করতে অথবা শত্রুর ব্যাঙ্কার ও ভবন জ্বালিয়ে দিতে সাদা ফসফরাস বৈধভাবেই ব্যবহার করা যায়। বৈধ ব্যবহার থাকায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, সাদা ফসফরাসকে রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়নি। কিন্তু এ অস্ত্রের ব্যবহার অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি মারাত্মক দগ্ধতার কারণ হতে পারে
আরও পড়ুন:
একদিনের মধ্যে গাজার ১১ লাখ বাসিন্দাকে সরে যেতে বলেছে ইসরায়েল
‘ঘরের কাছে’ হামাসের প্রশিক্ষণকেন্দ্র, জানতই না ইসরায়েল
দামেস্ক ও আলেপ্পো বিমানবন্দরে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
যুক্তরাষ্ট্র সব সময় ইসরায়েলের পাশে থাকবে: ব্লিনকেন