দামেস্ক ও আলেপ্পো বিমানবন্দরে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সিরিয়ার দামেস্ক ও আলেপ্পো বিমানবন্দরে বেসামরিক উড়োজাহাজের পাশাপাশি সামরিক বিমানও উঠানামা করে। উভয় বিমানবন্দরেই সামরিক ঘাঁটি আছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Oct 2023, 04:30 AM
Updated : 13 Oct 2023, 04:30 AM

সিরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির প্রধান দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসরায়েল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সেগুলো অকেজো করে দিয়েছে।

এসব হামলায় দামেস্ক ও আলেপ্পো বিমানবন্দরের রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর এ কারণে ফ্লাইটগুলো সিরিয়ার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লাতাকিয়ায় দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।

এই হামলার বিষয়ে ইসরায়েল কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগেও যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত লক্ষ্যস্থলগুলোতে বিভিন্ন সময় হামলা চালিয়েছে প্রতিবেশী ইহুদি রাষ্ট্রটি।

শুক্রবার বিমানযোগে সিরিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সিরিয়ার দামেস্ক ও আলেপ্পো বিমানবন্দরে বেসামরিক উড়োজাহাজের পাশাপাশি সামরিক বিমানও উঠানামা করে। উভয় বিমানবন্দরেই সামরিক ঘাঁটি আছে।

বিবিসি জানিয়েছে, লেবাননের সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে অস্ত্র পাঠাতে ইরান এ দুটি বিমানবন্দর ব্যবহার করে বলে জানা গেছে। সিরিয়ায়ও হিজবুল্লাহর শক্তিশালী অবস্থান আছে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম এক সামরিক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, “ইসরায়েল একই সময় দামেস্ক ও আলেপ্পো বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। এতে বিমানবন্দর দু’টির অবতরণ ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সেগুলো অকার্যকর হয়ে গেছে।”

এ হামলাকে গাজার সংঘাত থেকে মনোযোগ সরানোর ইসরায়েলের ‘বেপরোয়া’ প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন ওই কর্মকর্তা। 

মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ সফরের অংশ হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান বৃহস্পতিবার প্রতিবেশী ইরাকে ছিলেন। শুক্রবার তার সিরিয়া যাওয়ার কথা রয়েছে। তিনি লেবাননেও যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আব্দুল্লাহিয়ানের এ সফরকে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের জন্য আঞ্চলিক সমর্থন জোরালো করতে তেহরানের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েলকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা ইরানি সরকার শনিবার ভোরে হামাসের চালানোর নজিরবিহীন হামলা উদযাপন করেছে। ইসরায়েলকে অপ্রস্তুত করে দেওয়া হামাসের ওই হামলায় সেনাসহ ১৩০০ ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। 

এর প্রতিশোধ নিতে হামাস নিয়ন্ত্রিত ফিলিস্তিনি ছিটমহল গাজায় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের বোমা হামলায় ১৪০০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন। ইরান এ হামলার নিন্দা করেছে।

গাজায় ইসরায়েলে পাল্টা হামলা শুরু করার পর লেবানন ও সিরিয়া থেকেও দেশটির উত্তরাঞ্চলে রকেট ছোড়া হয়েছে। এ নিয়ে ওই দুই সীমান্তে পাল্টাপাল্টি গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর হামলা ঠেকাতে উত্তর সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে ইসরায়েল।

ইরান, হিজবুল্লাহ ও রাশিয়া সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের প্রধান মিত্র। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিরিয়ায় ইসরায়েলের হামলার নিন্দা করেছে এবং এ ধরনের পদক্ষেপে পুরো অঞ্চলজুড়ে লড়াই ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে।

আরও পড়ুন:

Also Read: গাজা পরিস্থিতি ভয়াবহ: জাতিসংঘ

Also Read: যুক্তরাষ্ট্র সব সময় ইসরায়েলের পাশে থাকবে: ব্লিনকেন

Also Read: হামাসের হামলার জন্য ইরান দায়ী: জার্মান চ্যান্সেলর

Also Read: জিম্মি মুক্তি ছাড়া গাজায় অবরোধের অবসান হবে না: ইসরায়েল