১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়ানোর আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ইউএসজিএসের ধারণা মৃত্যুর সংখ্যা ১০ হাজার থেকে এক লাখের মধ্যে হতে পারে।

জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়ানোর আশঙ্কা
রাজধানী কারাকাসেও বহু ভবন ধসে পড়েছে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Jun 2026, 11:56 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:29 PM

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হওয়ার এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়েছে, জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) । 

স্থানীয় সময় বুধবার বিকালের ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু ভবন ধসে পড়েছে আর মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, খবর রয়টার্সের। 

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেস এক টেলিভিশন ভাষণে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের মৃত্যুর ও আরও ৭০০ জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কারাকাসের মাইকেটিয়া সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে। 

প্রথম ভূমিকম্পটি কারাকাস থেকে ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে মরোন এলাকায় উৎপত্তি হওয়ার পর দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির উৎপত্তিও একই এলাকায়।

প্রথম ভূমিকম্পটি কারাকাস থেকে ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে মরোন এলাকায় উৎপত্তি হওয়ার পর দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির উৎপত্তিও একই এলাকায়।

ইউএসজিএসের ধারণা মৃত্যুর সংখ্যা ১০ হাজার থেকে এক লাখের মধ্যে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এই ভূতাত্ত্বিক সংস্থাটি বলেছে, “প্রচুর হতাহত আর মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এই দুর্যোগটি সম্ভবত ব্যাপক।”

বিজ্ঞানীরাও ভেনেজুয়েলাজুড়ে সম্ভাব্য ব্যাপক হতাহত ও ধ্বংসযজ্ঞের বিষয়ে সতর্ক করেছেন।   

ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো পরিসংখ্যা দেয়নি। কিন্তু স্থানীয় কর্মকর্তারা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বহু ভবন ধসে পড়েছে বলে খবর দিয়েছেন। উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ার মধ্যে বাড়তে থাকা হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। কারাকাসেও বহু ভবন ধসে পড়েছে। 

কারাকাসের একটি ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের সামনে উদ্ধার কর্মীরা। ছবি: রয়টার্স 

কারাকাসের একটি ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের সামনে উদ্ধার কর্মীরা

ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি কারাকাস থেকে ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে মরোন এলাকায় উৎপত্তি হওয়ার পর দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির উৎপত্তিও একই এলাকায়। মূল ভূমিকম্প দুটির পর থেকে কারাকাস ও অন্যান্য স্থানে প্রায় দুই ডজন পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। 

বিশেষ দিবস উপলক্ষ্যে ছুটির দিন থাকায় ভূমিকম্পের সময় অনেক মানুষ বাড়িতে ছিলেন। তাদের একজন আস্ত্রিদ রামিরেস (৪১) বলেন, “এটি যখন শুরু হল আমরা শুনলাম লোকজন চিৎকার করছে। সবাই সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে শুরু করেছিল।” 

কারাকাসের বাসিন্দারা দুলতে থাকা ভবনগুলো থেকে দ্রুত নিচে নেমে আসেন। করাকাসের আরেক বাসিন্দা কোরো মার্তিনেস (৫৬) বলেন, “অনেক কিছু পড়ার বিকট আওয়াজ আসছিল। বাড়িতে বিভিন্ন জিনিস পড়ছিল, ফ্রিজে রাখা জগগুলো পড়ছিল। আগে কখনো এ ধরনের কোনো কিছুর অভিজ্ঞতা হয়নি আমার।”

৮০ বছর বয়সী মারিয়া রোমেরো জানান, তাকে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসছে পুলিশ সাহায্য করেছে। তিনি বলেন, “এই ভূমিকম্পটি ভয়ানক ছিল। এমনকী ১৯৬৭ সালেরটির চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর ছিল।” 

১৯৬৭ সালে কারাকাসে একটি বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়েছিল। এতে রাজধানীর অভিজাত এলাকার কয়েক ভবন ধসে অন্তত ২৪০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।  

ভূতাত্ত্বিক ক্যারিবীয় প্লেট ও দক্ষিণ আমেরিকা প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় ভেনেজুয়েলা ভূ-কম্পনগতভাবে একটি সক্রিয় এলাকায় আছে।