Published : 20 Jun 2026, 04:19 PM
স্পেসএক্সের পর এবার মঙ্গল গ্রহের রহস্য উন্মোচনে গুগলের সাবেক প্রধান এরিক স্মিডের মহাকাশ কোম্পানির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে নাসা।
২০২৮ সালের মধ্যে নতুন এক অরবিটার বা স্যাটেলাইট মঙ্গলের কক্ষপথে পাঠাবে সংস্থাটি, যা লাল গ্রহের আবহাওয়া ও বায়ুমণ্ডলের নিখুঁত তথ্য সংগ্রহ করবে।
মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথে ‘অ্যাওলাস’ নামের এক স্যাটেলাইট বা অরবিটার মিশন পরিচালনার জন্য ‘রিলেটিভিটি স্পেস’-এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে নাসা।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, রিলেটিভিটি স্পেসের প্রধান নির্বাহী গুগলের সাবেক সিইও এরিক স্মিড। স্পেসএক্স বা অন্যান্য কোম্পানির সঙ্গে নাসার যে ধরনের পার্টনারশিপ থাকে এটাও ঠিক তেমনই।
ইউনিভার্সিটির ডর্ম থেকে একটি ছোট প্রকল্পের ক্রমশ গুগল হয়ে ওঠায় দুই সহপ্রতিষ্ঠাতার জন্য অমূল্য এক ‘সাপোর্ট সিস্টেম’ হিসাবে থাকার কৃতিত্ব দেওয়া হয় এরিক স্মিডকে। তিনি ২০০১ থেকে ২০১১, টানা ১০ বছর গুগলের সিইও ছিলেন, যে সময়টায় ল্যারি পেইজ ও সার্গেই ব্রিন গুগলের মূল সার্চ প্রযুুক্তির উন্নয়ন নিয়ে কাজ করেছেন।
স্মিডের কোম্পানিটি লাল গ্রহে নাসার বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি পৌঁছে দেওয়ার জন্য মহাকাশযান, রকেট ও ক্রুজ পরিচালনার সব সুবিধা দেবে। ২০২৮ সালের কোনো এক সময়ে মিশনটি উৎক্ষেপিত হবে।
নাসা বলেছে, এর আগে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল নিয়ে যেসব মিশনে গবেষণা হয়েছে, যেমন ‘মার্স রিকনেসান্স অরবিটার’, ‘মার্স ওডিসি’ ও ‘ম্যাভেন’ এগুলোর ধারাবাহিকতা ধরে রেখেই কাজ করবে ‘অ্যাওলাস’। টানা ছয় মাস কোনো যোগাযোগ না থাকায় সম্প্রতি ম্যাভেন মিশনটিকে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করেছে নাসা।
নতুন মহাকাশযানটি মঙ্গলে চারটি পরিপূরক বৈজ্ঞানিক যন্ত্র বহন করে নিয়ে যাবে, যা ‘মঙ্গল গ্রহের বাতাস, তাপমাত্রা, ধূলিকণা ও মেঘের সমন্বিত, দৈনিক ও বৈশ্বিক চিত্র’ প্রথমবারের মতো বিজ্ঞানীদের সামনে তুলে ধরবে।
এর মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে ‘ডপলার উইন্ড অ্যান্ড টেম্পারেচার সাউন্ডার’, যা মঙ্গলের বাতাস ও তাপমাত্রার গতিপ্রকৃতি পরিমাপ করবে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, ‘থার্মাল লিম্ব সাউন্ডার’ বা টিএলএস, যা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলের উলম্ব তাপমাত্রা এবং ধূলিকণা ও বরফ-মেঘের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে।
অন্যদিকে, ‘সারফেস রেডিওমেট্রিক সেন্সর প্যাকেজ’ মঙ্গলের পৃষ্ঠের শক্তির ভারসাম্য, ধূলিকণা ও মেঘের বৈশিষ্ট্য পরিমাপ করবে। সবশেষ যন্ত্রটি ‘ওয়াইড-ফিল্ড কনটেক্সট ক্যামেরা’ বা ডব্লিউএফসিসি, যা প্রতিদিন মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলীয় কর্মকাণ্ডের ছবি তুলবে।
এসব যন্ত্রপাতির নকশা ও নির্মাণ করবেন ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে অবস্থিত নাসার ‘এমেস রিসার্চ সেন্টার’-এর বিজ্ঞানীরা।
নাসা বলেছে, মঙ্গল গ্রহের ধূলিকণা, বাতাস, তাপমাত্রা ও ঋতুভিত্তিক বায়ুমণ্ডলীয় আচরণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানার মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতে সেখানে মানুষবাহী বা মানবহীন যে কোনো অভিযানে অবতরণের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারবে।
নাসা ও অন্যান্য মহাকাশ কোম্পানি এ প্রকল্পের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে তাদের ভবিষ্যৎ মহাকাশযানের প্রবেশ, অবতরণ ও বিভিন্ন ল্যান্ডিং সিস্টেমকে আরও নিখুঁত ও উন্নত করতে পারবে।
কোম্পানির ‘ইন্টারপ্ল্যানেটারি সায়েন্সেস প্রোগ্রাম’-এর অধীনে ভবিষ্যৎ বিভিন্ন মিশনের জন্য ‘অ্যাওলাস’ আসলে ধারণার প্রমাণ বা কার্যকারিতা যাচাই হিসেবে কাজ করবে।
এ মিশনে ঠিক কী ধরনের মহাকাশযান ও রকেট ব্যবহৃত হবে সে বিষয়ে কোম্পানিটি এখনও কোনো প্রযুক্তিগত বিবরণ দেয়নি। এ ধরনের বড় কোনো মিশন তারা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবে কি না তা-ও এখনো প্রমাণ করা বাকি।
এরিক স্মিড ২০২৫ সালের মার্চে ‘রিলেটিভিটি স্পেস’ কোম্পানিটি কিনে নিয়েছেন। এর কয়েক মাস পর তিনি প্রযুক্তি সাইট ‘আর্স টেকনিকা’র কাছে বলেছেন, মহাকাশের কক্ষপথে ডেটা সেন্টার বসানোর লক্ষ্য নিয়েই তিনি কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রণাধীন পার্টনারশিপ বা মালিকানা নিজের হাতে নিয়েছেন।