Published : 23 Nov 2025, 08:06 PM
ধুলাবালি থেকে জেট ইঞ্জিনকে রক্ষা করতে ইংল্যান্ডের শহর ডার্বিতে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা করছে জেট ইঞ্জিন নির্মাতা ব্রিটিশ কোম্পানি রোলস-রয়েস।
জেট ইঞ্জিনে ধুলাবালি ঢুকে পড়ার সমস্যাটি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পরিচালিত বিভিন্ন প্লেন কোম্পানির ওপর প্রভাব ফেলছে, যেটি কোম্পানিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর মধ্যে একটি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
প্লেন ওড়ার সময় বালি ও সূক্ষ্ম ধুলা ইঞ্জিনের সবচেয়ে গরম অংশে পৌঁছাতে পারে। ফলে প্লেনের ইঞ্জিন ক্ষয় ও কুল্যান্টের বিভিন্ন ছিদ্র বন্ধ হয়ে গেলে ইঞ্জিন আরও গরম হয়ে যায়।
এ সমস্যা প্লেনের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে না। তবে ইঞ্জিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বাড়ায়। কারণ এতে করে ইঞ্জিনের বিভিন্ন অংশকে ঢেকে রাখা আবরণ দ্রুত ক্ষয় হতে পারে।
রোলস-রয়েসের এ জেট ইঞ্জিন পরীক্ষার প্রধান প্যাট হিলটন বলেছেন, “ধুলা ইঞ্জিনের সবচেয়ে গরম অংশে প্রবেশ করতে পারে এবং সেই অংশটি বালির মধ্য দিয়ে উড়ে না গেলেও অপেক্ষাকৃত দ্রুত জীর্ণ হয়।”
পরীক্ষা কার্যক্রমের আওতায় ইঞ্জিনের বিভিন্ন অংশের ধাতু পরিবর্তন করেছে রোলস-রয়েস, যাতে সেগুলো তাপ ও ধুলার ক্ষয়কারী প্রভাবের বিরুদ্ধে আরও প্রতিরোধী হয়ে ওঠে। এ ছাড়া, কিছু কুল্যান্ট ছিদ্রের অবস্থান পরিবর্তন করেছে তারা, যাতে সেগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
রোলস-রয়েসের এ পরীক্ষা ও উন্নয়নের কাজটি বড় এক প্রকল্পের অংশ, যার মোট খরচ প্রায় একশ কোটি পাউন্ড। এ প্রকল্পে কেবল একটি নয়, একাধিক মডেলের ইঞ্জিনকে আরও মজবুত ও টেকসইয়ের ব্যবস্থা করছে কোম্পানিটি। যার মধ্যে রয়েছে, ‘ট্রেন্ট এক্সডব্লিউবি-৯৭’ ইঞ্জিন, যা কোম্পানির সবচেয়ে শক্তিশালী ও অন্যান্য ইঞ্জিনের তুলনায় বেশি গরম হয়।
পরীক্ষাটি রোলস-রয়েসের সিনফিনে অবস্থিত ‘টেস্টবেড ৮০’ সুবিধায় তিনটি ধাপে চলছে। কোম্পানিটি বলেছে, প্রথম দুই ধাপে যেসব ইঞ্জিন পরীক্ষা হয়েছে, সেগুলোর ব্যবহার আবার শুরু হয়েছে। এখন আগের তুলনায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত উড়ানো সম্ভব এসব প্লেন।
এ কাজের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে পাওয়া সূক্ষ্ম ট্যালকম-পাউডারের কণার মতো সিন্থেটিক বা কৃত্রিম ধুলা তৈরি করেছে ‘ইউনিভার্সিটি অফ ম্যানচেস্টার’।
হিলটন বলেছেন, “বহরের আকার বাড়ানোর মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন ইঞ্জিনকে দ্বিগুণ সময় পর্যন্ত ওড়াতে চাই। এ যাত্রার অংশ হতে পারাটা দারুণ বিষয় এবং আমি জানি, আজ আমরা যে কাজ করছি তা বহু বছর ধরে চালবে।”
বর্তমানে মূল অংশগুলো বদলানোর আগে একটি ট্রেন্ট ইঞ্জিন পৃথিবীকে ৫০০ বার আবর্তনের সমান উড়ান করতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৮ সালে চূড়ান্ত পরীক্ষা সম্পন্ন হলে ইঞ্জিনের সক্ষমতা দ্বিগুণ হবে।
গত বছর ‘ট্রেন্ট এক্স ডব্লিউবি-৯৭’ ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এমিরেটস এয়ারলাইনসের প্রেসিডেন্ট স্যার টিম ক্লার্ক, যা এয়ারবাস ‘এ৩৫০’ প্লেনকে চালায়।
দীর্ঘদূরত্বের উড়ানের জন্য এয়ারবাস ব্যবহার করে এমিরেটস ও ইতিহাদের মতো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এয়ারলাইন। রোলস-রয়েস বলেছে, পুরো বহরের সমস্যা সমাধানে কাজ করছে তাদের চলমান এ কর্মসূচি।