Published : 13 Jul 2026, 06:02 PM
ভিনগ্রহের যান বা ইউএফও আর্কাইভের আরও একগুচ্ছ গোপন নথি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।
প্রযুুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, এবারের নথিপত্রে কেবল সরকারি প্রতিবেদনই নয়, বরং সাধারণ মানুষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখে দেখা ঘটনার বহু বিবরণ উঠে এসেছে।
এ বছরের মে মাসের শুরু থেকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পাবলিক ডেটাবেইসের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল জাগানো ‘আনআইডেন্টিফাইড অ্যানম্যালাস ফিনমেনা’ বা ‘ইউএপি’ যা মানুষের কাছে ‘ইউএফও’ বা ভিনগ্রহের যান নামে পরিচিত এর গোপন নথি প্রকাশ শুরু করেছে।
এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে নথির চতুর্থ কিস্তি।
এ দফায় প্রকাশ পাওয়া কয়েক দশকের পুরানো বিভিন্ন ফাইলে যোগ রয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা, জ্বালানি মন্ত্রণালয়, গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ, এফবিআই ও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ গোপন তথ্য।
বর্তমান ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার’ বা যুদ্ধ বিভাগ নামে পরিচিত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।
নথিতে বলা হয়েছে, “এসব মহাজাগতিক ও অদ্ভুত আকাশযানের আসল উৎস যা-ই হোক না কেন, দীর্ঘ সময় ধরে চেপে রাখা এসব তথ্য বিজ্ঞান ও রহস্যপ্রেমীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং গবেষণার এক নতুন দুয়ার খুলেছে।”
সাধারণ মানুষ এখন চাইলে কোনো খরচ ছাড়াই ইন্টারনেটে এসব নথিপত্র ঘেঁটে দেখতে পারছেন। প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রকাশ করা এসব ফাইলে কাগজের নথির অসংখ্য স্ক্যান কপি রয়েছে, যেখানে সরাসরি ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন এমন ব্যক্তিদের বিবরণ রয়েছে।
কিছু কিছু নথির সঙ্গে ঘটনার প্রত্যক্ষ স্কেচ বা ইলাস্ট্রেশন ও আসল আলোকচিত্রও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ দফায় বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ পেয়েছে, যা নিয়ে এরইমধ্যে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
হোয়াইট হাউস ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বলেছে, “ইউএপি বা ভিনগ্রহের যান সংক্রান্ত সরকারের কাছে থাকা সব তথ্যের ক্ষেত্রে আমরা শতভাগ স্বচ্ছতা ধরে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধারাবাহিকতায় আগামী দিনগুলোতেও প্রকাশ করা সরকারি বিভিন্ন নথি পর্যায়ক্রমে প্রকাশ হতে থাকবে।”
এদিকে, ইউএফও গবেষণাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এ মাসেই বড় পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। ‘অফিস অফ দ্য ডিরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স’ নামের সম্পূর্ণ নতুন প্যানেল বা বিশেষজ্ঞ দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ বিশেষ প্যানেলের মূল কাজ হবে ইউএপিগুলোর গতিবিধি বিশদভাবে খতিয়ে দেখা এবং এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে কি না তা মূল্যায়ন করা।
এ গুরুত্বপূর্ণ প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী অ্যাভি লোবকে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবীর বাইরে ভিনগ্রহের প্রাণের অস্তিত্ব সন্ধানে কাজ করে যাচ্ছেন।
এর আগে, ভিনগ্রহের প্রাণ ও তাদের তৈরি প্রযুক্তির সম্ভাব্য প্রমাণ নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত দাবি করে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞান মহলে তোলপাড় তৈরি করেছিলেন এই বিজ্ঞানী।
এবার মার্কিন সরকারের এ সংবেদনশীল প্যানেলের প্রধান হিসেবে তার অন্তর্ভুক্তি পুরো বিষয়টিকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেল।