Published : 13 Jul 2026, 06:33 PM
সাবেক সংসদ সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে হত্যা মামলায় ফের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
সোমবার সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মণ্ডলের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অনাথ মিত্রের আবেদনের পর শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন বলে জানান আসামির আইনজীবী আল মাহামুদ পলাশ।
২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি যশোরের পিকনিক কর্নারের সামনে শহিদুল ইসলাম হত্যা মামলায় সেঁজুতিকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।
২০২৫ সালের ২০ মে রাতে সাতক্ষীরা শহরের রাধানগরের নিজ বাসা থেকে সেঁজুতিকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আরও কয়েকটি মামলায় পর্যায়ক্রমে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর মধ্যে বিশেষ ক্ষমতা আইন, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং হত্যা-সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলা রয়েছে।
সেঁজুতির আইনজীবী প্যানেলের সদস্য আল মাহামুদ পলাশ বলেন, সবশেষ মামলায় ৩ জুন সেঁজুতিকে জামিন দেয় হাই কোর্ট। পরে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে তার জামিন স্থগিতের আবেদন করলেও ‘নো অর্ডার’ হয়। এরপরও একের পর এক মামলায় তাকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়।
তিনি বলেন, ২৫ জুন জিআর ৩৯৯/২৪ এবং ৯ জুলাই জিআর ৪০২/২৪ মামলায়ও সেঁজুতিকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয় আদালত।
এর মধ্যে ২০২৪ সালের ২৮ অগাস্ট সাতক্ষীরা আমলি আদালতে একটি হত্যা মামলার আবেদন করেন মামলার সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাশেমপুর গ্রামের ইমদাদুল হক। পরে আদালতের নির্দেশে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
বাদী অভিযোগ, ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে তার ভাই শহিদুল ইসলামকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। শহিদুল জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী ছিলেন। পরে তাকে যশোরের পিকনিক কর্নারের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়।
মামলায় তৎকালীন পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। বাদীর দাবি, সেই সময় মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পর মামলা করা হয়।
সোমবার আদালতের আদেশে ওই হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী সেঁজুতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে সেঁজুতির পক্ষে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।