Published : 14 May 2026, 02:21 PM
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে মহাবিশ্বের আদি কাঠামো বা কসমিক ওয়েবের সবচেয়ে বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি করেছেন একদল গবেষক।
এ মানচিত্রের মাধ্যমে মহাবিশ্বের জন্মের কেবল কয়েকশ মিলিয়ন বছর পরের অবস্থা ও ছায়াপথের বিবর্তন সম্পর্কে এখন আরও স্পষ্ট ধারণা মিলেছে বলে দাবি গবেষকদের।
গবেষক দলটি জেমস ওয়েব ব্যবহার করে মহাজাগতিক জালের এমন মানচিত্র তৈরি করেছেন, যা ডার্ক ম্যাটার, গ্যাস ও তন্তুর মতো মহাকাশের বড় বিভিন্ন বস্তুকে একে অপরের সঙ্গে যোগ করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
‘ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইড’ বা ইউসিআর-এর এক ব্লগ পোস্ট অনুসারে, “এ মহাজাগতিক জাল মহাবিশ্বের মূল কাঠামো, যা ছায়াপথ ও বিভিন্ন ছায়াপথ পুঞ্জকে বড় ও জটিল এক কাঠামোর মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে রেখেছে।”
অসম্ভব ক্ষমতাধর বিশেষ এ টেলিস্কোপ ব্যবহার করে গবেষক দলটি এখন পর্যন্ত মহাবিশ্বের এ কাঠামোর সবচেয়ে বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি করতে পেরেছেন।
ইউসিআর-এর অধ্যাপক ও এ গবেষণার অন্যতম গবেষক বাহরাম মোবাশের বলেছেন, “ছবির গভীরতা ও রেজুলিউশনের এ উন্নতি সত্যিই অভাবনীয়।
“এখন আমরা এমন এক সময়ের মহাজাগতিক জাল দেখতে পাচ্ছি, যখন মহাবিশ্বের বয়স ছিল কেবল কয়েকশ মিলিয়ন বছর। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের আগে এ সময়ে পৌঁছানো কার্যত অসম্ভব ছিল।
“আগে যা দেখতে কেবল কাঠামোর মতো মনে হত, এখন সেটিকে অনেকগুলো আলাদা অংশে বিভক্ত হতে দেখা যাচ্ছে। যেসব সূক্ষ্ম বিষয় আগে অস্পষ্ট ছিল সেগুলো এখন একদম স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।”
গবেষণাপত্রটির প্রধান লেখক এবং ইউসিআর ও ‘কার্নেগি অবজারভেটরিস’-এর গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী হোসেন হাতামনিয়া বলেছেন, “প্রথমবারের মতো আমরা মহাজাগতিক সময়ের বিবর্তনে বিভিন্ন ছায়াপথের গঠন ও পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করতে পেরেছি।
“মহাবিশ্বের বয়স যখন একশ কোটি বছর ছিল তখন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত এসব ছায়াপথ কীভাবে বিভিন্ন গুচ্ছ ও জালের মতো তন্তুর মাধ্যমে বিবর্তিত হয়েছে তা এখন আমাদের নাগালে।”
গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী ‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল’-এ।