১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মা-মেয়ের পোল্যান্ড যাওয়া স্বপ্ন পুড়ল বেইলি রোডের আগুনে

ফিলিপিন্সের নাগরিক রুবি রায় হবিগঞ্জের প্রবাসী উত্তম রায়কে বিয়ের পর মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন।

মা-মেয়ের পোল্যান্ড যাওয়া স্বপ্ন পুড়ল বেইলি রোডের আগুনে

ঢাকার বেইলি রোডে ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হবিগঞ্জের মাধবপুরের এক প্রবাসীর স্ত্রী ও সন্তান।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Mar 2024, 09:12 PM

Updated : 01 Mar 2024, 09:19 PM

ঢাকার বেইলি রোডে ভবনে অগ্নিকাণ্ডে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার পোল্যান্ড প্রবাসী প্রকৌশলীর স্ত্রী ও সন্তানের প্রাণ গেছে; যাদের কিছুদিন পর বিদেশে যাওয়ার কথা ছিল। 

স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রবাসী উত্তম রায় দেশের পথে রওনা দিয়েছেন বলে জানান তার ভাগ্নে অয়ন রায়। 

বৃহস্পতিবার রাতে গ্রিন কোজি কটেজে আগুনে উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের বানেশ্বরপুর গ্রামের প্রবাসী উত্তমের স্ত্রী রুবি রায় (৪০) এবং মেয়ে ভিয়াংকা রায় (১৭) মারা যায়। 

উত্তম পোল্যান্ড চলে যাওয়ার পর রুবি রায় তার মেয়ে ভিয়াংকাকে নিয়ে ঢাকার মালিবাগে বসবাস করতেন। রুবি ফিলিপিন্সের নাগরিক ছিলেন। তার মেয়ে ভিয়াংকা ঢাকায় এ লেভেলে পড়াশোনা করত। 

ভাগ্নে অয়ন রায় বলেন, ঘটনার দিন রাতে মালিবাগের বাসা থেকে মা ও মেয়ে বেইলি রোডের ‘কাচ্চি ভাইয়ে’ খেতে গিয়েছিলেন। খাবার শেষে বাসায় ফেরার কথা থাকলেও সেটি আর সম্ভব হয়নি। আগুন তাদের স্বপ্ন ছাই করে দিয়েছে। 

“শুক্রবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মা ও মেয়ের লাশ পরিবারের পক্ষ থেকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাদের লাশ গ্রহণ করে গ্রামের বাড়ি বানেশ্বরপুরে নেওয়া হচ্ছে।” 

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে অয়ন রায় বলেন, “ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।” 

উত্তম কুমার রায়ের ভাই বিষ্ণু রায় জানান, পোল্যান্ডে হুন্দাই কোম্পানিতে চাকরি করার সময়ে ফিলিপিন্সের নাগরিক রুবি রায়ের সঙ্গে উত্তমের পরিচয় হয়। পরে ১৯৯৬ সালে উত্তম ও রুবি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। 

পরে দেশে ফিরে উত্তম পোল্যান্ড চলে যান; তবে রুবি রায় তার মেয়ে ভিয়াংকাকে নিয়ে ঢাকার মালিবাগে বসবাস করতেন বলে জানান তিনি। 

বিষ্ণু রায় বলেন, “রাতে তাদের মৃত্যুর খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে ঢাকায় গিয়ে মা ও মেয়ের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে। কিছুদিন পর উত্তম রায়ের কাছে রুবি রায় ও ভিয়াংকার পোল্যান্ড যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন আগুনে পুড়ে গেছে।” 

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ নামের ভবনটিতে আগুন লাগে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন নিভিয়ে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। 

এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন ৪৬ জন। সবার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে রাখা হয়। সকাল থেকে লাশের পরিচয় নিশ্চিত করে ৩৫ জনের মরদেহ স্বজনের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তবে তাদের মধ্যে ছয়জনকে আর চেনার উপায় নেই। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হলে তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিহতের এই সংখ্যা জানিয়ে বলেছেন, আহত ১২ জনের মধ্যে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে ১০ জন ভর্তি আছেন আর ঢাকা মেডিকেলে আছে দুইজন। এই ১২ জনের প্রত্যেকের শ্বাসনালি পুড়ে যাওয়ায় তারা কেউ শঙ্কামুক্ত নন।  

আরও পড়ুন:

পুড়ে যাওয়া ৬ মরদেহ চেনার উপায় নেই, হবে ডিএনএ পরীক্ষা

গ্রিন কোজি কটেজে আগুন: যা বললেন কাচ্চি ভাইয়ের ব্যবস্থাপক

বেইলি রোডে আগুন: লাশ সৎকারে ২৫ হাজার টাকা করে দেবে সরকার

গ্রিন কোজি কটেজে আগুন: সিলিন্ডার বিস্ফোরণের তথ্য ধরে অনুসন্ধান

বেইলি রোড থমকে দিয়েছে পুড়ে যাওয়া ‘গ্রিন কোজি কটেজ’

বেইলি রোডে আগুন: বোনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরছেন মুন্সীগঞ্জের প্রিয়ন্তী

আগুন কেড়ে নিল পুরো পরিবারকে, পড়ে রইল ভিসা-পাসপোর্ট

সন্তানদের ‘জড়িয়ে ধরে’ লাশ হলেন পপি

ট্রাক ভর্তি লাশ, কান্নায় ভারি ঢাকা মেডিকেল

বেইলি রোডে আগুনে নিহত বেড়ে ৪৬, হস্তান্তর ৩৫ মরদেহ

আগুন কেড়ে নিল পুরো পরিবারকে, পড়ে রইল ভিসা-পাসপোর্ট

একসঙ্গে পাঁচজনের কবর, কাঁদছে শাহবাজপুর

কাচ্চি ভাইকর্মী জিহাদকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবার

পুরানো খবর:

বেইলি রোডে আগুন: সাংবাদিক তুষারের লাশ দেখে মূর্ছা যাচ্ছেন মা