কাচ্চি ভাই কর্মী জিহাদকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবার
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ নামের ভবনটিতে লাগা আগুনে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
ঢাকার বেইলি রোডে অগ্নিদগ্ধ হয়ে কাচ্চি ভাইকর্মী জিহাদ শিকদারের মৃত্যুতে মাদারীপুরের গ্রামের বাড়িটি শোকে স্তব্ধ। একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবারটি।
শুক্রবার দুপুরে নিহতের মরদেহ কালকিনির কয়ারিয়া ইউনিয়নের আলিমাবাদে পৌঁছলে শোকাবহ পরিবেশের অবতারণা হয়।
নিহত জিহাদ শিকদার (১৯) আলিমাবাদ গ্রামের জাকির শিকদারের ছেলে।
স্বজনরা জানান, পরিবারের হাল ধরতে তিনবছর আগে রাজধানী ঢাকার বেইলি রোডের কাচ্চি ভাইয়ের রেস্তোরাঁয় শ্রমিক হিসেবে কাজে যোগ দেন। তার বেতন দিয়েই চলত গ্রামে বাবা-মা ও ছোট ভাই।
জিহাদের ছোট ভাই রিয়াদ শিকদার বলেন, “আমার ভাই মাদারীপুরের কালকিনির সাহেবরামপুর কবি নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজে মানবিক বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
“বাড়িতে মা-বাবা ও আমি থাকি। বড়বোনের বিয়ে হওয়ায় অন্যত্র থাকে সে। ভাই ঢাকায় চাকরি করে প্রতি মাসে বেতন পাঠাত। সে টাকায় আমাদের সংসারের অনেক খরচ আমরা পূরণ করতাম। কিন্তু এখন আমাদের বড় ক্ষতি হয়ে গেল। আমি আমার ভাইকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেললাম।”
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ নামের ভবনটিতে লাগা আগুনে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
ঢাকা মেডিকেল ও শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটে যাদের চিকিৎসা চলছে, তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এদিকে, কাচ্চি ভাইকর্মী জিহাদের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাশ বলেন, “জিহাদের মৃত্যুতে সমবেদনা জানানোর ভাষা নেই। তার পরিবার থেকে কোনো সহযোগিতা চাওয়া হলে, সবসময় পাশে থাকবে প্রশাসন।”
আরও পড়ুন
