Published : 01 Mar 2024, 01:07 PM
বেইলি রোডের ‘গ্রিন কোজি কটেজ’ ভবনে আগুনের সূত্রপাত দ্বিতীয় তলার কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁ থেকে হয়নি বলে দাবি করেছেন রেস্তোরাঁটির ব্যবস্থাপক আবদুল হালিম।
অগ্নিকাণ্ডের পরদিন শুক্রবার ঘটনাস্থলের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “আগুনের সূত্রপাত নিচ তলার চুমুক রেস্টুরেন্ট থেকে। আমি নিজে দেখেছি সেখান থেকেই প্রথমে আগুনের ধোঁয়া বেরুচ্ছে।”
“যেভাবে আমরা মিডিয়ায় দেখলাম যে, কাচ্চি ভাই থেকে এই করছে, হেই করছে…। কাচ্চি ভাইয়ের ওখানে আপনারা উঠে দেখুন এখনো কাচ্চি ভাইয়ের কিচেন যেটা পেছনে, সেই কিচেন ঠিক আছে। আগুনের চিহ্ন পাবেন না। আগুন লাগছে সামনে। তাহলে কাচ্চি ভাইয়ের কিচেন থেকে আগুন কীভাবে লাগল আপনারা বলেন?”
কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁ থেকে আগুন লাগার খবর সঠিক নয় দাবি করে হালিম বলেন, “আগুনের সূত্রপাত নিচ থেকে। আমি মনে করি পুলিশসহ যারা এখন তদন্ত করছে তাদের তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
“এটা সঠিক প্রচার নয়। এটা শুধু শুধু হয়রানি করা। আমি মিডিয়ার ভাইদের কাছে সবিনয়ে অনুরোধ রাখব…আপনারা সত্যটা উদঘাটন করেন কিন্তু অতি উৎসাহী হয়ে কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা কইরেন না, প্লিজ।”
বৃহস্পতিবার পৌনে ১০টার দিকে ভবনটিতে আগুন লাগে। সাত তলা ভবনের দোতলায় বিরিয়ানির পরিচিত দোকান কাচ্চি ভাই এর শাখা, পোশাকের ব্র্যান্ড ইলিয়েন। নিচের তলায় স্যামসাংয়ের শোরুমসহ আরো বেশ কিছু দোকান।
নিচ তলায় স্যামসাংয়ের শোরুমের পাশে রয়েছে একটি কফি শপ। এরকম কফির দোকানসহ ফাস্টফুডের অনেকগুলো দোকান ও রেস্তোরাঁ রয়েছে ভবনটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে।
কাচ্চি ভাইয়ে ৫০ শতাংশ ছাড় থাকায় সেখানে অসম্ভব ভিড় ছিল বলে রাতে সোহেল আকবর নামের একজন জানিয়েছিলেন।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক মো. মাইন উদ্দিন চুলা বা গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন লাগতে পারে বলে প্রথমে বলেছিলেন। পরে তিনি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের তথ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
আর অগ্নিকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে থাকা র্যাব-৩ এর এএসপি কামরুল হাসান বলেছিলেন, স্যামসাং শোরুমের (নিচতলায়) পাশের কফি হাউস থেকে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা নিচ থেকে আগুন উপরের দিকে উঠতে দেখেছেন। প্রথমে দোতলায় তারপর তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে যায়।
‘কাচ্চি ভাইয়ে ছিল ৩০-৪০ জন’
আগুন লাগার সময় কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁয় গ্রাহক ও কর্মচারী মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ জনের মত ছিলেন বলে দাবি করেছেন রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক আবদুল হালিম।
ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, “রাত তখন ৯টা ৫০ বাজে। আমার কাচ্চি ভাইতে ২০/২৫ জন গেস্ট ছিল। আমি গ্লাসের ভেতর থেকে দেখলাম বাইরে ধোঁয়া উড়তেছে। তখন আমি দৌড়ে দরজার খুলে দেখি নিচে আগুন লাগছে।
“আমি তৎক্ষণাৎ সবাইকে বললাম, সবাই নিচে আসেন, বিল্ডিংয়ে আগুন লাগছে। আমি দৌড়াইয়ে আগুনের ধোঁয়ার ভেতর দিয়ে নিচে নেমে এসেছি। আমি চিল্লায়ে স্টাফদেরকে বলেছি যে এক্সটিংগুইশার ফালাও। ওরা উপর থেকে ফেলছে।”
একটি ভিডিও সাংবাদিকদের দেখিয়ে তিনি বলেন, “আমি নিজের হাতে সেই এক্সটিংগুইশার নিয়ে নিজেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছি। যে আগুনের লেলিহান তাদের এক্সটিংগুইশার কাজে আসেনি।”
নিচ তলার চুমুক রেস্তোরাঁ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন “সেখান থেকে আগুন বের হচ্ছিল। আমি যখন নামছি, সেখানে এই অবস্থা আমি নিজে দেখেছি।”
অগ্নিকাণ্ডে কাচ্চি ভাইয়ের দুই কর্মীর প্রাণ গেছে জানিয়ে হালিম বলেন, “তাদের একজন কামরুল হাসান রকি। সে এই শাখার ক্যাশিয়ার। অপরজন হলেন জোহান, সে সার্ভিস ম্যান। আরেকজন স্টাফের হাত-পা ভেঙে গেছে।”
রাতে কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁ বন্ধ করার কিছুক্ষণ আগে আগুন লাগে বলে জানান ব্যবস্থাপক হালিম।
আগুনে কাচ্চি ভাইয়ের ক্ষয়ক্ষতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আগুন লাগার পরে আমি নিচে নেমে আসি। এরপর আমাকে উঠতে দেয়নি পুলিশ। ফলে ক্ষয়ক্ষতি কি হয়েছে আমি জানি না, জানার সুযোগও নাই।
“বিল্ডিংয়ের বাইরের অবস্থা দেখে তো বুঝতে পারছেন কী হয়েছে সেখানে।”
কাচ্চি ভাইয়ের খাবারের মূল্যছাড় বা অফার ছিল কিনা, এমন প্রশ্নে আবদুল হালিম বলেন, “হ্যাঁ, আমাদের ফুড পান্ডার অফার ছিল।”
ভয়াবহ সেই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। হাসপাতালে যে ১২ জন ভর্তি আছেন, তারাও শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন।
আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিও করেছে ফায়ার সার্ভিস। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন বলেন, ভবনটিতে নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। মাত্র একটি সিড়ি ও ভবনের একটি ছাড়া প্রায় প্রতিটি ফ্লোরে খাবারে দোকান থাকায় গ্যাস সিলিন্ডারগুলো রাখা ছিল অপরিকল্পিতভাবে।