১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ইবোলা: কঙ্গোতে ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু

“নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা হাতে থাকলে আমরা আরও অনেক মানুষের জীবন বাঁচাতে পারব।”

ইবোলা: কঙ্গোতে ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু
ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলার যে প্রাদুর্ভাব চলছে, তা গত মে মাসে শুরু হয়। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Jul 2026, 10:48 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:34 PM

ডিআর কঙ্গোতে প্রাণঘাতী ইবোলার যে প্রাদুর্ভাব চলছে, তার সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বৃহস্পতিবার জানান, কঙ্গোর এ ট্রায়ালে প্রথম রোগীর নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, কেবল কঙ্গোতেই এখন পর্যন্ত এক হাজার চারশর বেশি সংক্রমণ এবং ৪৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিবিসি লিখেছে, বর্তমানে এ রোগের বান্ডিবুগিও ধরনের ভাইরাসের জন্য অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই। এই ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক।

বর্তমান ট্রায়ালের পৃষ্ঠপোষকতা করছে ডব্লিউএইচও। এটি যৌথভাবে পরিচালনা করছে কঙ্গোর ইনস্টিটিউট ন্যাশনাল ডি রিচার্চ বায়োমেডিক্যাল, বেলজিয়ামের ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন এবং যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা।

জেনিভায় ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তরে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গেব্রিয়েসুস বলেন, “সম্ভাব্য চিকিৎসার দুটি পদ্ধতির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে। এতে প্রথম রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “অনুমোদিত চিকিৎসা না থাকলেও অনেক মানুষ এই রোগ থেকে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা হাতে থাকলে আমরা আরও অনেক মানুষের জীবন বাঁচাতে পারব।”

ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডাতে বর্তমানে ইবোলার যে প্রাদুর্ভাব চলছে তা গত মে মাসে শুরু হয়। পরে ডব্লিউএইচও জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে।

ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সম্প্রতি কঙ্গো পরিদর্শন করেন ডব্লিউএইচও প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস। ছবি: রয়টার্স

ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সম্প্রতি কঙ্গো পরিদর্শন করেন ডব্লিউএইচও প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন পর্যন্ত ডিআর কঙ্গোতে ১ হাজার ৪০৬ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া ৩০১ জনের মধ্যে উপসর্গ পাওয়া গেছে এবং ৪৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আর উগান্ডায় ১ জুলাই পর্যন্ত ২০ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে, সেখানে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ফ্রান্সেও একজনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।

ভাইরাসের কারণে হওয়া এ রোগ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করে।

ভাইরাসটি সাধারণত প্রাণীর শরীরে সংক্রমিত হয়, বিশেষ করে ফলখেকো বাদুড়ে। তবে মানুষ যদি সংক্রমিত প্রাণী ধরে বা স্পর্শ করে, তাতে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সাধারণত উপসর্গ দেখা দেওয়ার পরই ব্যক্তির মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে রোগটি ছড়াতে পারে। সংক্রমণের পর উপসর্গ দেখা দিতে ২ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

উপসর্গগুলো হঠাৎ শুরু হয়, শুরুতে ফ্লু বা ম্যালেরিয়ার মতো মনে হয়। এর মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা ও অতিরিক্ত ক্লান্তি অন্যতম।

ইবোলার প্রতিটি আলাদা ধরনের জন্য আলাদা টিকা তৈরি করতে হয়। রোগটির মোট ছয়টি ধরন রয়েছে, তবে মানুষের মধ্যে প্রাদুর্ভাব ঘটায় তিনটি।