Published : 20 Sep 2025, 09:27 PM
রাকসু নির্বাচনের প্রচারের মধ্যে ‘পোষ্য কোটা’ নিয়ে আন্দোলন, তার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। এ সময় কয়েকজন আহত হন।
এর পর থেকে জুবেরী ভবনে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাইন উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান, রেজিস্ট্রার ইফতেখারুল আলম মাসুদসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে আটকে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এ সময় জুবেরী ভবনের সামনে ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থী মিলিয়ে দুই হাজারের মত লোকজন জড়ো হন। ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিনিধি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা জুবেরী ভবনের ভিতরেও মাঠে তারা আলোচনা করেন।
অপরদিকে ‘পোষ্য কোটা’র জন্য আন্দোলনকারী শিক্ষক-কর্মকর্তারা উপাচার্যের সঙ্গে তার বাসভবনে বৈঠক করেন।

এদিকে ‘পোষ্য কোটা’ পুনর্বহালের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে অনশনে বসেন নয় শিক্ষার্থী। তারা তাদের অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ পোষ্য কোটা পুনর্বহাল না করা হলে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিকালে ভর্তি কমিটির সভায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের শর্তসাপেক্ষে ‘পোষ্য কোটা’য় ভর্তির সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।
সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে এর প্রতিবাদ জানায়। তারই ধারাবাহিকতায় এই আন্দোলন চলছে।
এই অবস্থা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের শিক্ষার্থী আবু রায়হান জনি বলেন, “মীমাংসিত একটি ইস্যুকে সামনে নিয়ে এসে আজকে এই ঘটনা তৈরি হয়েছে। এর একমাত্র কারণ রাকসু বানচাল। আমরা শঙ্কিত যে, আজকের ঘটনার পর আদৌ নির্বাচন হবে কি-না। আর এটি কারা করতে চাচ্ছে সেটিও আমি মনে করে শিক্ষার্থীরা জানে।”
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আবু ইয়াকুব বলেন, “একদিকে রাকসু, অন্যদিকে প্রশাসনিক ব্যক্তিরা। উপাচার্য একটিও মানতে পারবে না। কেননা কোটা বাতিল করলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে যাবে, আবার কোটা রাখলে শিক্ষার্থীরা সেটি মেনে নেবে না।”

“সেক্ষেত্রে উপাচার্যকে হয়ত পদত্যাগ করা লাগবে। আর ডাকসু এবং জাকসুতে একটি সংগঠনের ভরাডুবি দেখে রাবিতেও ওইপন্থি শিক্ষকরা আজকে এই ইস্যুটিকে সামনে নিয়ে এসেছে।”
ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারদিন বলেন, “এসবের মূলে আসলে রয়েছে রাকসু। আমার মনে হচ্ছে যারা কর্তৃপক্ষ আছেন, তারা আসলে চাচ্ছেন না রাকসু হোক। কেননা রাকসু হলে ক্ষমতার একটা অংশ শিক্ষার্থীদের হাতে চলে যাবে। তাই ক্ষমতা ধরে রাখতেই তারা এমন একটি ঘটনা নিয়ে এসেছে।
“আজকের ঘটনার একমাত্র কারণ যাতে রাকসু বানচাল করে উপাচার্য বলতে পারেন- তোমরা আমার গলায় হাত দিবা, আমার জামা ছিড়ে ফেলবা, আর আমার তোমাদের রাকসু করে দিতে হবে? মামার বাড়ির আবদার!”
আইন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী কায়সার আহমেদ বলেন, “পোষ্য কোটা একটা অযৌক্তিক বিষয়। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী তারা প্রতিমাসে একটা নির্দিষ্ট অঙ্কের বেতন পাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে তাদের সন্তানদের কোটায় ভর্তি কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা হয়? প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা পাওয়া উচিত প্রান্তিক খেটে খাওয়া কৃষকের সন্তানের। আজকের এমন একটি ঘটনাকে সামনে এনে রাকসু বানচালের চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই করা হচ্ছে না।”

এর আগে ২ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্য স্থায়ীভাবে ‘পোষ্য কোটা’ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।
১৩ অগাস্ট থেকে ‘পোষ্য কোটা’ পুনর্বহালসহ আট দফা দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অংশ কর্মবিরতি ও অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। এরই অংশ হিসেবে ২৪ থেকে ২৬ অগাস্ট পূর্ণদিবস কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
পরে ২৪ অগাস্ট প্রশাসনের আশ্বাসে তিন দিনের অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছিলেন ‘পোষ্য কোটা’ পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
আরও পড়ুন:
'পোষ্য কোটা': রাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ধস্তাধস্তি, উত্তেজনা
রাবিতে 'পোষ্য কোটা' পুনর্বহালের পর বৃষ্টির মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ভোটের আগে রাবিতে 'পোষ্য কোটার' দাবিতে ফের কর্মবিরতির ঘোষণা
রাকসু নির্বাচন: গানে গানে প্রচার প্রার্থীর
ছাত্র সংসদে উপাচার্য-কোষাধ্যক্ষ, আপত্তি উঠল রাকসু ভোটেও
রাকসু: সমন্বয়কদের 'আধিপত্যবিরোধী ঐক্যে' ভাঙন, সরে দাঁড়ালেন ৩ জন
রাকসু নির্বাচন: কোন হলের শিক্ষার্থী কোন ভবনে ভোট দেবেন
রাকসু নির্বাচন: ৯ ভবনের ১৭ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ
রাকসু: ছাত্রদলের পাল্টায় মেশিনে ভোট গোনার দাবি শিবিরের
রাকসু: স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স এবং হাতে গণনা চায় ছাত্রদল
অনলাইন-অফলাইনে রাকসুর ভোটযুদ্ধ