রাবিতে ‘পোষ্য কোটা’ পুনর্বহালের পর বৃষ্টির মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জনসংযোগ দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৪-২৫ বর্ষের ভর্তি উপ-কমিটির বৈঠকে ‘পোষ্য কোটা’ পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘পোষ্য কোটা’ পুনর্বহালের প্রতিবাদে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জনসংযোগ দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৪-২৫ বর্ষের ভর্তি উপ-কমিটির বৈঠকে ‘পোষ্য কোটা’ পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, “আজকে ভর্তি উপ-কমিটির একটি সভা ছিল। সভায় ২০২৪-২৫ বর্ষের ভর্তিতে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের শর্তসাপেক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে এত বিচলিত হওয়ার কিছু নেই তাদের ভর্তি কার্যক্রম নির্দিষ্ট শর্ত মেনেই করা করা হবে।”
বিজ্ঞপ্তিতে ‘পোষ্য কোটা’কে পুনর্বহালের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্তের কথা বলা হয়েছে।
শর্তগুলো হল- কেবলমাত্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঔরসজাত/গর্ভজাত সন্তান কোটা সুবিধা পাবে, ভর্তির প্রাথমিক আবেদনের জন্য বিজ্ঞাপিত যোগ্যতা এবং শর্ত পূরণ করতে হবে, মেধার ভিত্তিতে ভর্তির জন্য নির্ধারিত আসনসংখ্যার অতিরিক্ত হিসেবে এ প্রক্রিয়ায় ভর্তির বিষয়টি বিবেচিত হবে, প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করে মেধা তালিকা করা হবে, সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্ধারিত শর্তাবলীসহ অবশ্যই ন্যূনতম পাস নম্বর থাকতে হবে, কোন বিভাগে ২ জনের অধিক ভর্তির সুযোগ থাকবে না, কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সন্তানকে তার কর্মরত বিভাগে ভর্তি করানো যাবে না, ‘অটো মাইগ্রেশন’ ছাড়া শিক্ষার্থীর বিভাগ পরিবর্তনের অন্য কোনো সুযোগ থাকবে না, ভর্তির ক্ষেত্রে অনিয়ম প্রমাণিত হলে ছাত্রত্ব বাতিলসহ সংশ্লিষ্ট অভিভাবকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সুবিধার আওতায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী কোনোভাবেই আবাসিক হলে সিটের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবে না।
এদিকে ‘পোষ্য কোটা’ পুনর্বহালের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখান করে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদসহ কয়েকটি ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়া শুভ বলেন, “নির্লজ্জ প্রশাসন ‘পোষ্য কোটা’ ফিরিয়ে এনেছেন। আমরা এখানে রাকসু বানচালের ইঙ্গিত লক্ষ্য করছি। এখন আমরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, “আমাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে আমাদের দাবির বিষয়ে কিছুটা বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
“তা ছাড়া দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাকসু নির্বাচন হচ্ছে। আমরা রাকসুকে কোনো চাপে ফেলতে চাই না। এই বিষয়টি বিবেচনা করে আজ রাতে একটি সভা করে কর্মসূচি প্রত্যাহার করব।”
আরও পড়ুন:
