Published : 01 Sep 2025, 01:51 AM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের কেউ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন নির্বাচিত হলে আবাসন সংকট মিটিয়ে ফেলবেন, কারও প্রতিশ্রুতিতে আছে প্রশাসনিক ভবনকে ‘পেপারলেস’ করা। আবার কেউ বলছেন, নিরাপদ ক্যাম্পাস আর শিক্ষক নিয়োগকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার কথা।
ভোটের প্রচারে শিক্ষার্থীদের এমন বহুবিধ অঙ্গীকার তারা করছেন। কিন্তু ডাকসুর গঠনতন্ত্রে নির্ধারিত কাজের বিপরীতে গিয়ে এসব প্রতিশ্রুতির কতটা বাস্তবায়ন সম্ভব, তা নিয়ে সন্দিহান অনেক শিক্ষার্থী।

গঠনতন্ত্রে ডাকসুর যে নির্ধারিত কার্যাবলীর কথা বলা আছে, সেগুলো মূলত শিক্ষা এবং সহশিক্ষা বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা কার্যক্রমকেই মুখ্য করা হয়েছে।
যেসব প্রতিশ্রুতি প্রার্থীরা দিচ্ছেন, সেগুলোর বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ না হলেও ডাকসু সমস্যাগুলো সমাধানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মুশতাক হোসেন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কাজেই সমস্যাগুলো তারা তুলে ধরেছে। একটা বড় কাজ এবং সমস্যা সমাধান করার জন্য এখন তারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে। সরকারের সাথে দরকষাকষি করবে বা কর্তৃপক্ষের সাথে করবে।”
বর্তমানে বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “প্রতিশ্রুতি মানে কি, তারা এগুলো জন্য সংগ্রাম করবে, তারা তো কর্তৃপক্ষ না। তারা সাধারণ ছাত্রদের একটা স্বীকৃত প্রতিনিধি হিসেবে কর্তৃপক্ষের সাথে এগুলো নিয়ে তারা আলোচনা করবে। যেটাকে আমরা ইংরেজিতে বলি, ‘কালেক্টিভ বার্গেইনিং এজেন্ট’, শ্রমিক ইউনিয়নগুলো যেটা কর্তৃপক্ষের সাথে করে।
“সেটা তো অবশ্যই সম্ভব। তো, এই সমস্ত সমস্যা তারা চিহ্নিত করেছে। ছাত্ররা এগুলো দেখছে, যাদের কথাটা ছাত্ররা সমর্থন করবে, ওরা রায় পাবে এবং তাদের দায়িত্ব হবে তারা যে সমস্ত বিষয়গুলো এখন বলছে, ওরা নিজেরা করবে বিষয়টা তা না, ওরা এটা করার জন্য তারা কর্তৃপক্ষকে চাপ দেবে।”
১৯৮৯-৯০ মেয়াদে ডাকসুর এই জিএস বলেন, “কর্তৃপক্ষ যদি তাদের সহযোগিতা চায়, তাদের সাথে একত্রে এটা নিয়ে তারা সমাধান করার জন্য, হয়তো সরকারের সাথে দরকষাকষি করতে হবে। সরকারের সাথে দরকষাকষি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ডাকসু ও হল সংসদ একসাথে করবে।”
বিজয়ী হয়ে গঠিত সংসদ বড় ইস্যুগুলো নিয়ে সব ছাত্র সংগঠন ও প্যানেলের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলো সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

‘যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি’ হিসেবে কাজ করলেও এই শব্দবন্ধ ছাত্র সংসদের জন্য ব্যবহার না করার কারণ ব্যাখ্যা করে মুশতাক হোসেন বলেন, “‘কালেক্টিভ বার্গেইনিং এজেন্ট’ শব্দটা ছাত্ররা ব্যবহার করে না, এই কারণে আমরাও করি নাই। কারণ ডাকসুর এসব জিনিস ছাপিয়ে যখন জাতীয় পর্যায়ে কোনো সংকট তৈরি হয়, যেটা রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন কারণে তারা এগোতে পারে না, সেই বদ্ধ দুয়ারটা খুলে দেন ডাকসু নেতৃবৃন্দ, সকল ছাত্র সংগঠনকে সাথে নিয়ে। যারা এগুলো করেছে, তাদেরটাই গৌরবের ডাকসু হিসেবে পরিচিত হয়েছে।
“কিন্তু তাই বলে সাধারণ ছাত্রদের যে দৈনন্দিন সমস্যা- সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত, সেগুলো তাদের রুটিন কাজ, করতেই হবে।”
ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াজ উল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রথমত, প্রতিশ্রুতি পূরণে তাদের ‘আইনি ভিত্তি ও সক্ষমতা নাই’। দ্বিতীয়ত, তারা নির্বাচিত হলে করবে বলেছে, সেটা নির্বাচনের আগে নয় কেন?
উদাহরণ টেনে এই শিক্ষার্থী বলেন, “খাবারের মান এখনই পরিবর্তন করা যায়। কই তারা তো এখন কিছু করছে না। সিট সমস্যার সমাধান তারা এখন করতে পারছে না পরে কী করবে?”
প্যানেলগুলোর প্রতিশ্রুতি কতটুকু পূরণীয় জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীরুল ইসলাম বলেন, “এগুলো আকাশ-কুসুম কল্পনা। আমরা জুলাই অভ্যূত্থানে অনেক কিছু আশা করেছিলাম। কিন্তু কী হল? আমাদের পছন্দের মানুষরাও ক্ষমতায় যাওয়ার পর কী করেছে?
“এসব বলে হয়ত ভোট পাওয়া যাবে। কিন্তু আমার মনে হয় না, এ ডাকসুর নেতাদের দিয়ে চূড়ান্তভাবে কোনো পরিবর্তন আসবে।”
ছয় বছরের বেশি সময় পরে ৯ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণের দিন রেখে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেদিন কেন্দ্রীয় সংসদের পাশাপাশি ১৮টি হল সংসদের নির্বাচন হবে।
ডাকসুতে এবার ২৮ পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন ৪৭১ জন শিক্ষার্থী। ভিপি পদে ৪৫, জিএস পদে ১৯ এবং এজিএস পদে ২৫ জন লড়ছেন। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ডাকসু ভোটে প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ২২৯ জন।
তফসিল অনুযায়ী, ২৬ অগাস্ট থেকে শুরু করে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোটের প্রচার-প্রচারণা চলবে। এখন প্রার্থীরা অনলাইন-অফলাইনে ভোটারদের কাছে পৌঁছার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এবারের নির্বাচনে ১৮টি হলের মোট ভোটারের সংখ্যা ৩৯ হাজার ৮৭৪। তার মধ্যে ছাত্রীদের পাঁচ হলে ভোটার আছেন ১৮ হাজার ৯৫৯ জন।
এবার ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের যজ্ঞে নামার আগে গঠনতন্ত্রেও কিছুটা সংশোধনী এনেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গঠনতন্ত্রে ডাকসুর কাজ
ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ‘কার্যাবলী’ ধারায় নয়টি কাজকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হল-
>> ছাত্র সংসদ সবসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার সংরক্ষণ এবং সুরক্ষার প্রচেষ্টা চালাবে।
>> সংসদ সদস্যদের ব্যবহারের জন্য কমনরুম তত্ত্বাবধান করবে এবং ইনডোর গেমস, দৈনিক পত্রিকা ও সাময়িকী সরবরাহ করবে।
>> বছরে অন্তত একটি জার্নাল প্রকাশ করবে এবং নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত ও সভাপতির অনুমোদন সাপেক্ষে অন্যান্য বুলেটিন, ম্যাগাজিন বা পত্রিকা প্রকাশ করবে।
>> সময়ে সময়ে বিতর্ক ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সাধারণের আগ্রহের বিষয়গুলোকে নিয়ে বিষয়ভিত্তিক বক্তৃতা আয়োজন করবে। এবং যথাসম্ভব মিলনমেলার আয়োজন করবে।
>> বছরে অন্তত একবার সদস্যদের মধ্যে বক্তৃতা, বিতর্ক, আবৃত্তি, প্রবন্ধ ও ইনডোর গেমসের প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে। প্রতিযোগিতাগুলো অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্যও উন্মুক্ত হতে পারে।
>> সম্ভব হলে, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক ও শিক্ষা সম্মেলনগুলোতে প্রতিনিধি প্রেরণ করবে।
>> বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সম্মেলন এবং এ ধরনের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি পাঠাতে কিংবা আমন্ত্রণ জানাতে পারবে।
>> সামাজিক সেবা কার্যক্রম উৎসাহিত এবং সমাজকল্যাণ বক্তৃতা, সভা ও প্রদর্শনীর আয়োজন এবং সম্ভব হলে বিদ্যালয়গুলোতে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা।
>> সভাপতির অনুমোদনসাপেক্ষে নির্বাহী কমিটি সময়ে সময়ে এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারবে।

ডাকসুর ‘লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য’
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ডাকসুর ‘লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য’ হবে—
>> স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা এবং লালন করা।
>> বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জুলাই ২০২৪ অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্য সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেতনা প্রতিষ্ঠা।
>> শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক ও সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো।
>> বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিভিত্তিক সহযোগিতা লালন করা।
>> বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সত্যিকারের নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্ব তৈরি করা।
>> বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিধিবদ্ধ ও অ্যাফিলিয়েটেড সংযুক্ত কলেজ বা ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ ও বিদেশের একই রকমের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিভিত্তিক সহযোগিতা লালন করা।
উপাচার্য ‘সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী’
বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা বলছেন, ডাকসু শিক্ষার্থীদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে পরিচালিত এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে দাবি আদায়ের প্ল্যাটফর্ম হওয়ার কথা থাকলেও এখানে মূলত সভাপতি বা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যই ‘সর্বসময়’ ক্ষমতার অধিকারী।
এ কারণে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এটাকে কেবলই শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম হিসাবে গড়ে তুলতে সভাপতি পদেও একজন শিক্ষার্থীকে নির্বাচনের কথা বলছেন কেউ কেউ।
চলতি বছর গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাবনায় ছাত্র ইউনিয়নের প্রস্তাবে ডাকসুর প্রধান ভিপি (সহ সভাপতি) না বরং সভাপতি হবেন তুলে ধরে বলা হয়, সভাপতি সংসদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হবেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সব সভায় সভাপতিত্ব করবেন, আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন এবং সিদ্ধান্তগ্রহণে একটি মাত্র ভোট প্রদানের অধিকারী হবেন।
“সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। সভাপতি পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সংসদের যেকোনো সদস্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। সহ-সভাপতি সংসদের প্রধান-নির্বাহী বলে বিবেচিত হবেন না। সহ-সভাপতি, সভাপতির দৈনন্দিন কার্যে সহযোগিতা করবেন এবং সভাপতির অনুপস্থিতিতে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন।”
সভাপতির ক্ষমতা হ্রাস প্রসঙ্গে ওই প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি সংসদের যেকোনো পদাধিকারীকে বরখাস্ত করা এমনকি পুরো সংসদ বিলুপ্ত করার ক্ষমতা রাখেন যা সর্বৈব একনায়কতান্ত্রিক বলে প্রতীয়মান হয়। এই ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে বিলোপ করতে হবে।

ডাকসুর গঠনতন্ত্রে সভাপতির দায়িত্ব
>> ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদাধিকার বলে এই সংসদের সভাপতি হবেন এবং তিনি নির্বাহী কমিটিগুলোর সকল সভায় সভাপতিত্ব করবেন। এছাড়াও তিনি, (i) নির্ধারিত নিয়ম-কানুন অনুযায়ী সংসদ পরিচালনা নিশ্চিত করবেন, (ii) যেকোনো জরুরি অবস্থা, অচলাবস্থা কিংবা গঠনতন্ত্রের নীতিমালা ভঙ্গের মতো পরিস্থিতিতে সংসদের সুষ্ঠু কার্যক্রম নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
>> সংসদের সার্বিক স্বার্থে সভাপতি যেকোনো পদাধিকারী অথবা নির্বাহী কমিটির যেকোনো সদস্যকে বরখাস্ত করার অধিকার রাখেন, অথবা সভাপতি প্রয়োজন মনে করলে পুরো নির্বাহী কমিটি বাতিল এবং নতুন নির্বাচন আহ্বান করতে পারবেন অথবা হল সংসদ চালু রাখার জন্য অন্য যেকোনো ধরনের সিদ্ধান্ত তিনি উপযুক্ত মনে করলে গ্রহণ করতে পারবেন।
>> বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের অনুমোদন সাপেক্ষে সভাপতি প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো মেয়াদের জন্য সংসদ স্থগিত রাখার অধিকার রাখেন।
এছাড়া ডাকসু এবং হলসংসদগুলোর জন্য প্রণীত গঠনতন্ত্র সংশোধনের ক্ষমতা রয়েছে কেবল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের।
অন্যদিকে, সহ-সভাপতির দায়িত্ব হচ্ছে, সহ-সভাপতি সংসদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হবেন এবং সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে সকল সভার সভাপতিত্ব করবেন।

কার কী প্রতিশ্রুতি
প্যানেলগুলোর মধ্যে ছাত্রদল তাদের ১০ দফা ইশতেহার প্রকাশ করেছে। বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিরোধ পর্ষদ, স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) এবং ছাত্রশিবিরসহ অন্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার প্রকাশের অপেক্ষায় আছে। তবে ভোট চাইতে শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে বিভিন্ন রকম প্রতিশ্রুতি তারা দিচ্ছেন।
ছাত্রদলের ইশতেহারে রয়েছে-
>> শিক্ষাক্রম, অবকাঠামো ও গবেষণার মানোন্নয়ন, সাইবার সিকিউরিটি নিশ্চিত করা ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধ সাইবার সেল গঠন; পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা, ডাকসু নির্বাচন নিয়মিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ছাত্রদল।
>> বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিতে বলা হয়, গেস্টরুম-গণরুম সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক দমনপীড়ন চিরতরে বন্ধ করা হবে। পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে, রোধ করা হবে বহিরাগত প্রবেশ। ডাকসুর অধীনে একটি স্বাধীন ‘শিক্ষার্থী সুরক্ষা সেল’ গঠন, ‘সাইবার সিকিউরিটি সেল’, ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন সেবা এবং হলগুলোতে মেডিকেল কর্নার চালু, টিএসসিতে একটি ‘মেন্টাল ওয়েলবিয়িং সেন্টার’ গড়ে তোলা হবে।
>> অ্যাকাডেমিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে–ক্লাসরুম সংকট নিরসনে অবকাঠামো সম্প্রসারণ, ছাত্র, শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কোর্স-কারিকুলাম পর্যালোচনা, ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষক বা প্রশাসনিক ব্যক্তির পক্ষপাতমূলক আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণ, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করা, অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পরীক্ষা, রেজাল্ট ও ক্লাস কার্যক্রম নিশ্চিত করা হবে।
>> নারী শিক্ষার্থীদের পোশাকের স্বাধীনতা, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, হলগুলোতে ভর্তুকিতে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন, নারীদের হলে রাতে প্রবেশের সময়সীমা বৃদ্ধি, অনাবাসিকদের অনুমতিসাপেক্ষে হলে অবস্থান করতে দেওয়া, একটি আসন ও একটি পড়ার টেবিল নিশ্চিতে উদ্যোগ নেওয়া, ক্যান্টিন ও ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের ওপর ভর্তুকি বৃদ্ধি, পুষ্টিবিদদের সমন্বয়ে টিম গঠন করে খাবারের স্বাস্থ্যগুণ ও পুষ্টিমান নিশ্চিত করা হবে। অনুষদ ও বিভাগীয় এলাকায় নতুন ক্যান্টিন স্থাপন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাটারিচালিত পর্যাপ্ত শাটল সার্ভিস চালু করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের প্রতিশ্রুতিতে রয়েছে-
>> অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন নিশ্চিত করা, হল ও অ্যাকাডেমিক অঙ্গনে দলীয় রাজনৈতিক কাঠামো বন্ধ করা।
>> ৭৩ এর অধ্যাদেশের স্বায়ত্তশাসনকে অর্থবহ করার লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক সংস্কার করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রশাসনিক স্বৈরতন্ত্র’ অবসানের লক্ষ্যে ভিসি, প্রোভিসি, প্রভোস্টসহ প্রশাসনিক পদগুলোতে নিয়োগের স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া।
>> স্টারলিংয়ের মাধ্যমে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে উচ্চগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সেবার আওতায় নিয়ে আসা হবে।
>> ওয়ান কার্ড অল সার্ভিসের এর মাধ্যমে লাইব্রেরি একসেস, স্বাস্থ্য সেবা, পরিবহন সেবা, ক্যান্টিন সেবা, হলের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হবে।
ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানল যেসব প্রতিশ্রুতি, সেগুলো হল- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান’ থেকে ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে’ রূপান্তর, ‘পেপারলেস রেজিস্ট্রার বিল্ডিং’ গড়ার এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্র তৈরি, গার্ডিয়ান লাউঞ্জ, নারীদের জন্য রাতে চিকিৎসা নিশ্চিত ও নারী চিকিৎসক নিয়োগ।
প্রতিরোধ পর্ষদের প্রতিশ্রুতিতে যা আছে-
>> প্রথম বর্ষ থেকেই আবাসন-পরিবহন-শিক্ষা-গবেষণার সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ।
>> গণরুম, গেস্টরুম ও র্যাগিং প্রথা নিষিদ্ধ করে ক্যাম্পাস চার্টার প্রকাশ।
>> নারী-আদিবাসী-প্রতিবন্ধীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও নিরাপত্তা বিধান।
>> ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ-বেসরকারিকরণ-সংকোচন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে গৃহীত ইউজিসির কৌশলপত্র বাতিল করা।
>> বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের অন্তত ১০ ভাগ গবেষণা খাতে বরাদ্দ নিশ্চিত করা। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিটি গবেষণাগার আধুনিকায়নের ব্যবস্থা করা।
>> হলগুলোত ব্যক্তিমালিকাধীন ক্যান্টিন নয়, প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ক্যাফেটেরিয়া চালু করা।
>> শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারকে আধুনিক এবং ন্যূনতম ১০০ শয্যায় উন্নীত করা।
আরও পড়ুন:
ডাকসু নির্বাচন: প্রতিরোধ পর্ষদের প্রতিশ্রুতিতে প্রথম বর্ষ থেকেই হলে আসন
ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ১০ দফা ইশতেহার
কাদের-বাকেরদের প্রতিশ্রুতিতে 'রাজনৈতিক স্বাধীনতা', আছে 'স্টারলিংকও'