Published : 30 Aug 2025, 06:10 PM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ইশতেহার ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংসদ প্যানেল, যেখানে ‘রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন’ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আছে।
‘দাড়ি-টুপি, বোরকা-হিজাবসহ’ পোশাক ও আঞ্চলিকতাকেন্দ্রিক ‘মোরাল পুলিশিংয়ের’ বিরুদ্ধে কাজ করার কথাও বলেছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ সমর্থিত প্যানেলটি।
ভোটে জিতলে পুরো ক্যাম্পাসকে স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবার আওতায় আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন প্রার্থীরা।
এ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের ও ও জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের পাশে ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ইশতেহারে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও একাডেমিক, ছাত্রকল্যাণ, ‘ক্যারিয়ার ও স্কিলড ডেভেলপমেন্ট’, ক্রীড়া ও সংস্কৃত, নারী, শিক্ষার্থীদের মর্যাদা এবং ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি— মোট আটটি বিষয়ে নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন তারা।
আব্দুল কাদের বলেন, গত ৩৪ বছর, বিশেষ করে গত ১৭ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে।
“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেউ বানিয়েছে ক্যান্টনমেন্ট, কেউ বানিয়েছে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প, জুলুম-নির্যাতনের ঘাঁটি বানানো হয়েছে বাংলাদেশের আপামর জনগণের এ বিশ্ববিদ্যালয়কে।”
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। এমন ডাকসু চাই, যারা ক্ষমতাসীনদের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে দ্বিধা করবে না; যারা শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অধিকার সমুন্নত রাখবে, যারা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রে বৈষম্য, স্বৈরতন্ত্রকে বরদাশত করবে না।
“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান উন্নয়ন করে একে একটি গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা এবং এর রাজনৈতিক স্বাধীনতা হবে আমাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার।”
যা আছে ইশতেহারে
>>একাডেমিক ক্যালেন্ডারে নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় রাজনীতির মহড়া, অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে জীবন, কর্ম, জ্ঞান, দক্ষতা ও সেবাভিত্তিক নাগরিক তৈরি করা ও হল ও অ্যাকাডেমিক অঙ্গনে দলীয় রাজনৈতিক কাঠামো বন্ধ করা হবে।
>>জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন, নিপীড়ন ও জুলুমের সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা এবং সাতচল্লিশের পাকিস্তান আন্দোলন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রামী ভূমিকার গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে অক্ষুণ্ণ রাখা হবে।
>>৭৩ এর অধ্যাদেশের সায়ত্তশাসনকে অর্থবহ করার লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক সংস্কার করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রশাসনিক স্বৈরতন্ত্র’ অবসানের লক্ষ্যে ভিসি, প্রোভিসি, প্রভোস্টসহ প্রশাসনিক পদগুলোতে নিয়োগের স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
>>ওয়ান স্টপ সলিউশন: একটি এ্যাপস বানানো হবে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রার ভবনের দৌরাত্ম ও সিন্ডিকেট বন্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সেবা গ্রহণ করবে। ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে পরিক্ষার রেজাল্ট, প্রবেশপত্র উত্তোলন, বেতন পরিশোধ করা যাবে। এভাবে রেজিস্ট্রার বিল্ডিং ও অ্যাডমিন্সট্রেটিভের অধিকাংশ কাজ "পেপারলেস" করা হবে।
>>রাষ্ট্র কর্তৃক বেদখল হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০ একর জমি আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করা হবে।
>>ওয়ান কার্ড অল সার্ভিসের এর মাধ্যমে লাইব্রেরি একসেস, স্বাস্থ্য সেবা, পরিবহন সেবা, ক্যান্টিন সেবা, হলের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শুরুর এক সপ্তাহ আগে এ কার্ড দেওয়া হবে। ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান সিট’ নীতিমালার অধীনে হল প্রশাসনকে শক্তিশালী করে সিট বন্টনের একটি সমন্বিত নীতিমালা তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
>> ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা নিশ্চিত করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কার্ডধারী যেকোন শিক্ষার্থী সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো হাসপাতালে বিনামূল্যে বা ৫০ শতাংশ সাশ্রয়ে চিকিৎসা পাবে। প্রতিটি হলে মেডিকেল অফিসারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে এবং একটি করে ‘সিক রুম’ থাকবে। ক্যাম্পাসে জোনভিত্তিক ফার্মেসি থাকবে, যা ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।
>> দাড়ি-টুপি, বোরকা-হিজাব সহ পোশাক ও আঞ্চলিকতা কেন্দ্রিক ‘মোরাল পুলিশিংয়ের’ বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
>>স্টারলিংয়ের মাধ্যমে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে উচ্চগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সেবার আওতায় নিয়ে আসা হবে।
>> ভাড়ায় চালিত পরিবহন বিআরটিসির উপর নির্ভরতা কমিয়ে যতটা সম্ভব নিজস্ব পরিবহন নিশ্চিত করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জন্য পৃথক চক্রাকার বাসের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিকাল ৫ টা পর্যন্ত ক্যাম্পাস থেকে বের হতে পারে (আপ ট্রিপ) এবং রাত ১০টা পর্যন্ত বাসে করে নিরাপদে ক্যাম্পাসে ফিরতে পারে (ডাউন ট্রিপ)।
>> বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষে ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে মিউজিয়াম এবং কালচারাল সেন্টার তৈরি করা হবে।
>> নারী শিক্ষার্থীদের সাইবার বুলিং থেকে রক্ষা করতে ‘বিশেষ সাইবার সিকিউরিটি সেল’ গঠন করা হবে।
>> বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে আইনী সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করার লক্ষ্যে "লিগ্যাল সাপোর্ট সার্ভিস" চালু করা হবে বলেও জানানো হয়।