Published : 04 Jul 2026, 09:22 AM
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের শেষ ষোলোর ম্যাচ সামনে রেখে ফিরে আসছে, সেই ১৯৯৮ আসরের স্মৃতি। সেবারও শেষ ষোলোয় মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। লঁরা ব্লাঁর অতিরিক্ত সময়ের গোলে জিতেছিল ফ্রান্স। সেবারই প্রথম শিরোপার স্বাদ পেয়েছিল দলটি। সেদিন ব্লাঁর গোলের সুর বেঁধে দেওয়া হোবেখ পিহেস পিছু ফিরে তাকালেন, সুখস্মৃতি আওড়ালেন। আসছে ম্যাচ সামনে রেখে সতর্কও করে দিলেন উত্তরসূরিদের।
ফিলাডেলফিয়ায় বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ৩টায় মুখোমুখি হবে দুই দল। ২৮ বছর আগের সেই ম্যাচের মতো, এবারও প্যারাগুয়ে অতিরক্ষণাত্মক খেলে ম্যাচ টাইব্রেকারে নিতে চাইবে, মনে করেন পিহেস। এমবাপে-দেম্বেলেদের তিনি সাবধান করে দিলেন, প্যারাগুয়ের ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য।
’৯৮ বিশ্বকাপে একই কৌশল নিয়েছিল প্যারাগুয়ে। পোস্টে হোসে লুইস চিলাভার্ট থাকায়, ম্যাচটি তারা টেনে নিতে চেয়েছিল টাইব্রেকারে। কিন্তু বদলি নামা পিহেসের পাস দাভিদ ত্রেজেগে হেডে নামিয়ে দেওয়ার পর, দারুণ শটে লক্ষ্যভেদ করেন ব্লাঁ। ১-০ গোলে জিতে যায় ফ্রান্স। যে স্মৃতি আজও পিহেসের কাছে অমলিন।
“প্রচণ্ড চাপে ছিলাম আমরা এবং কিছুটা অস্থিরও ছিলাম। প্যারাগুয়ে তাদের শক্তি অনুযায়ী, স্বভাবসুলভ দৃঢ়তা এবং (শারীরিক শক্তির) আক্রমণাত্মক কৌশল কাজে লাগিয়েছিল। রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে ম্যাচটা তারা টাইব্রেকারে টেনে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। গোলকিপার হোসে লুইস চিলাভার্টের ওপর তাদের আস্থা ছিল অগাধ। আমরা কোনো সমাধানের পথ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। মনে আছে, থিয়েরি অরিঁর শট পোস্টে লেগেছিল। যখন পথ খুঁজে পাওয়া যায় না, তখন হতাশা জেঁকে বসতে শুরু করে, আপনি মেজাজ হারাতে পারেন। পরিস্থিতি ছিল অবিশ্বাস্যরকমের।
“যখন ক্যারিয়ারের দিকে ফিরে তাকাই, ইউরো ২০০০-এর ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে লড়াইয়ে আমার ভূমিকার মতোই গুরুত্বপূর্ণ (প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের ১১৪তম মিনিটের) এই মুহূর্তটি, যেটি আমাদের বিশ্বকাপ জিততে সহায়তা করেছিল। ওই মুভ নিয়ে বলতে গেলে, আমি দাভিদকে ফাঁকা জায়গায় দেখতে পেলাম। লক্ষ্য ছিল, বলটা তাকে বাড়ানো। ভেবেছিলাম, বলটা সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শট নেবে। কিন্তু এর বদলে সে হেড করে গোলের দিকে দিল, এরপর ব্লাঁ দ্রুতগতিতে সেখানে এসে পৌঁছাল। এরপর কী হয়েছিল, সেটা তো আমরা সবাই জানি।”
ফিলাডেলফিয়াতেও প্যারাগুয়ে নিজেদের রক্ষণের চাদরে মুড়িয়ে রাখবে, মনে করেন পিহেস। তবে, ২৮ বছর আগের সেই ম্যাচের অধিনায়ক এবং বর্তমান ফ্রান্স কোচ দিদিয়ে দেশোঁ তা ভালো করে জানেন বলেও মনে করেন তিনি। প্রতিপক্ষের যে কোনো ছক ভেদ করার সামর্থ্য এমবাপে-দেম্বেলেদের আছে, বিশ্বাস পিহেসের।
“১৯৯৮ সালের মতো একই কৌশল থাকবে প্যারাগুয়ের। দেশোঁ এবং তার খেলোয়াড়রা এ ব্যাপারে সচেতন। ওরা খুবই রক্ষণাত্মক খেলবে এবং রক্ষণাত্মক কৌশল নিবে-তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, আগ্রাসী দল। তারা ফ্রান্সকে হতাশা করতে, উত্তেজিত করে তুলতে চেষ্টা করবে, তবে, ফ্রান্স দলকে শান্ত থাকতে হবে। এ কারণে, এ ধরনের ম্যাচে সবচেয়ে কঠিন হচ্ছে প্রথম গোলটি করা। যদি এটা দ্রুত এসে যায়, তাহলে দারুণ। কিন্তু খেলা দীর্ঘায়িত হলে হতাশা জেঁকে বসতে পারে। প্যারাগুয়ে এই ফাঁদ পাতবে এবং ফ্রান্সকে যেকোনো মূল্যে তা এড়িয়ে যেতে হবে।
“আমাদের দলে যে খেলোয়াড় থাকে, তাদের মধ্যে সবসময়ই পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো কেউ না কেউ থাকে। বর্তমান দলে কিছু অসাধারণ এবং অননুমেয় খেলোয়াড় আছে, যাদের মধ্যে চার-পাঁচজন গোল করতে সক্ষম। এটা আমাদের জন্য বিধ্বংসী অস্ত্র। জানি, প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কাজটা কঠিন হবে, কিন্তু আমরা যদি পেশাদারভাবে এগিয়ে যায় এবং মনোযোগী থাকি, তাহলে প্যারাগুয়ে বাধা পার হতে পারব।”