Published : 16 Sep 2025, 08:28 PM
প্রায় সাড়ে তিন দশক পর অনুষ্ঠেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্রপ্রতিনিধি নির্বাচনে দ্বিতীয় দিনের মত প্রচার চালিয়েছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা।
মঙ্গলবার ক্যাম্পাসজুড়ে বিভিন্ন প্যানেলের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। বৃষ্টির কারণে দুপুরের পর প্রচার করতে পারেননি প্রার্থীরা। তবে সন্ধ্যার পর আবারও শুরু হয়েছে নির্বাচনি প্রচার।
তবে এবারে যুক্ত হয়েছে অনলাইন প্রচার। আচরণবিধিতে অফলাইনে প্রচারের ক্ষেত্রে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া থাকলেও অনলাইন প্রচারের বিষয়টির উল্লেখ নেই। এটিকে প্রচারের কৌশল হিসেবে কাজে লাগাচ্ছেন প্রার্থীরা।
নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট পেইজ এবং গ্রুপগুলোতে প্রচার চালাচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
সরজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বর, পরিবহন মার্কেট, অ্যাকাডেমিক ভবন সংলগ্ন সড়কগুলোতে প্রচারপত্র বিতরণ করছেন প্রার্থীরা। শিক্ষার্থীদের যাওয়া-আসার সময় তাদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন পরিচয়, ব্যালট নম্বর ও নির্বাচনি অঙ্গীকার সম্পর্কিত প্রচারপত্র। চাইছেন, দোয়া ও সমর্থন। শিক্ষার্থীরাও আগ্রহের সঙ্গে সেগুলো গ্রহণ করছেন। জানাচ্ছেন, নিজেদের চাওয়া ও প্রত্যাশার কথা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বরে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচার চালাতে দেখা গিয়েছে। তারা শিক্ষার্থীদের কাছে বিভিন্ন অঙ্গীকার তুলে ধরে দোয়া ও সমর্থন চাচ্ছেন। পাশাপাশি তাদের প্যানেলের সব প্রার্থীকে প্রচারপত্র নিয়ে নিজেদের পরিচিত হতে দেখা গিয়েছে।
ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন আবীর বলেন, “আমাদের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়েছে সোমবার থেকে। তবে ব্যালট নম্বর পেতে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় এবং বৃষ্টির কারণে ক্যাম্পাসে প্রচার চালানো সম্ভব হয়নি। আজ দ্বিতীয় দিনে আবারও আমরা প্রচার শুরু করেছি।”
আবির বলেন, “দুপুর থেকে বৃষ্টি থাকায় কিছুটা সমস্যার মুখে পড়েছি। আচরণবিধি অনুযায়ী, একাডেমিক ভবনের ভেতরে প্রচার চালানো যায় না, অথচ বৃষ্টির কারণে শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই ভবনের ভেতরে অবস্থান করছে। তবু আমরা নিয়ম মেনে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি এবং ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি।”

ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের বিভিন্ন একাডেমিক ভবন ও কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের সামনে প্রচার চালাতে দেখা গেছে তাদের।
‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ এর ভিপি প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “ব্যালট নম্বর পাওয়ার পর থেকেই আমরা অনলাইনে প্রচার শুরু করেছি। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের বিভিন্ন একাডেমিক ভবনেও প্রচার চালানো হয়েছে। আবাসিক ও অনাবাসিক- সবার কাছেই ছুটে গিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের আস্থা ও ভরসা রাখার বার্তা দিচ্ছি।”
তিনি বলেন, “যারা আমাদের সমালোচনা করছেন, তারাও আসলে আমাদের প্রচারে অবদান রাখছেন। আমরা কোনো কাঁদা ছোড়াছুড়িতে যেতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের হয়ে কাজ করা।”
ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ছাড়াও এবারের নির্বাচনে আরও সাতটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সেখানে সাবেক সমন্বয়ক, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্র ফেডারেশন ও গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা রয়েছেন। প্রচারের প্রথম দিনে তাদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও ক্যাম্পাসে সরব উপস্থিতি দেখা গেছে।
তারা ব্যালট নম্বর ও নির্বাচনি অঙ্গীকার সম্পর্কিত প্রচারপত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ছুটে যাচ্ছেন।

‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী ও সাবেক সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “আমরা আজ প্রচার শুরু করেছি। প্রার্থী ও ভোটার উভয়ের মধ্যেই একটা আমেজ কাজ করছে। তারা আমাদের সাড়া দিচ্ছে কারণ এখানে উভয়ই প্রথম ভোটার ও প্রার্থী। নির্বাচনের আরও নয় দিন আমাদের প্রচার চলবে।”
স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে টুকিটাকি চত্বরে মাহির ফয়সালকে প্রচার চালাতে দেখা গেছে। তিনি কেন্দ্রীয় সংসদে স্বতন্ত্রভাবে পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে লড়বেন।
এই প্রার্থী বলেন, “রাজনৈতিক ছত্রছায়ার বাইরে স্বতন্ত্রভাবে রাকসুতে নির্বাচন করছি। শিক্ষার্থীরা আমাকে যোগ্য মনে করলে অবশ্যই ভোট দেবে। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।”
‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে শঙ্কায় আছি’
তবে রাজনৈতিক সংগঠনের সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা আর্থিকভাবে অনেকটা এগিয়ে থাকায়, সেখানে নির্বাচন কমিশনের কোনো নীতিমালা না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অনেকটা পিছিয়ে আছেন বলে অভিযোগ করেছেন রাকসুর ইতিহাসে প্রথম ভিপি পদপ্রার্থী তাসিন খান। তিনি এবারের নির্বাচনে ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলে লড়বেন।
তাসিন খান বলেন, “রাজনৈতিক সংগঠনের প্রার্থীরা সোমবার রাত থেকেই প্রচার শুরু করেছে। কিন্তু আমরা শিক্ষার্থীরা সবার কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে প্রেসে গেয়েছি আজ সকালে। যার ফলে আমরা এখনও আমাদের প্রচার শুরু করতে পারিনি। খরচের বিষয়ে কমিশনের কোনো নীতিমালা না থাকায় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিয়ে শঙ্কায় আছি।”
এদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে ড. শামসুজ্জোহার কবরে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করে ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ফেডারেশনের যৌথ ‘প্যানেল রাকসু ফর রেডিক্যাল চেঞ্জ’।
দুপুরে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে নিজেদের আনুষ্ঠানিক প্রচারের ঘোষণা দেয় গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের প্যানেল ‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’।
সার্বিক বিষয়ে রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, “প্রার্থীরা তাদের প্রচার শুরু করেছেন। আমরা আশা করি, সবাই আচরণবিধি মেনে চলবেন। যদি কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, প্রথমে তাদের সতর্ক করা হবে এবং এরপরও আচরণবিধি ভঙ্গ করলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আরও পড়ুন:
রাকসু নির্বাচনে থাকবে ২ হাজার পুলিশ: আরএমপি কমিশনার
রাকসু নির্বাচন: ৯ ভবনের ১৭ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ
রাকসু নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যায় হতাশা, নেপথ্যে কী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: হল সংসদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেলেন ৪২ জন
রাকসু নির্বাচনে কার কী প্যানেল
রাকসু ভোটে 'ডোপ টেস্ট' কেন, 'বুলিং ভয়ে' প্রার্থীরা
রাকসু: 'সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ' নামে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের প্যানেল
রাকসু: এবার সাবেক দুই সমন্বয়কের নেতৃত্বে নতুন প্যানেল ঘোষণা
রাকসুতে সাবেক সমন্বয়কদের প্যানেল, 'ডামি' কিনা, প্রশ্ন
রাকসুতে ছাত্র ইউনিয়নের 'অপরাজেয় ৭১, অপ্রতিরোধ্য ২৪' প্যানেল
রাকসু নির্বাচন: গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের সবাই এক প্যানেলে লড়বেন
রাকসুতে ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ফেডারেশন একসঙ্গে লড়ছে
রাকসু নির্বাচন: ছাত্রশিবির লড়বে জাহিদ-ফাহিম-সালমান প্যানেলে