Published : 03 Jul 2026, 11:44 PM
নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচি। এবার তার এইচএসসি পরীক্ষায় বসার কথা।
কিন্তু পরীক্ষা শুরুর দিন বৃহস্পতিবার প্রবেশপত্র না পেয়ে কলেজ প্রাঙ্গণেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সহপাঠীরা যখন পরীক্ষার হলে, তখন বাবাকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও কোনো সমাধান পাননি সূচি।
শুধু সূচী নন। বৃহস্পতিবার ওই কলেজের আট এইচএসসি পরীক্ষার্থী ফরম পূরণের টাকা জমা দেওয়ার পরও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হন।
অভিযোগ ওঠে, কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা বোর্ডে জমা দেননি।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. মামুদুর রহমান বলেন, “কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার আট শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফরম পূরণের টাকা গ্রহণ করলেও তা যথাযথভাবে জমা দেননি। ফলে প্রবেশপত্র না পেয়ে তারা চলতি এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।”
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ইসরাত জাহান সূচি বলেন, “সবাই পরীক্ষা দিচ্ছে আর আমি মাঠেই দাঁড়ায় ছিলাম। আমার অ্যাডমিট কার্ড ঠিক করবে বলে রাজশাহী গিয়ে বসে ছিল অফিস সহকারী, ফোনই ধরেনি। আমি তার চরম শাস্তি চাই। আমার মত অন্য কোনো শিক্ষার্থীর সে যেন এরকম সর্বনাশ করতে না পারে।”
এদিকে, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলে শিক্ষা বোর্ডে তলব করা হয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. মামুদুর রহমানকে। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রতারণার শিকার আট শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে তারা শনিবারের পরীক্ষা থেকে অংশ নিতে পারবেন।
শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিশেষ সিদ্ধান্তে আট শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছে বলে জানান কলেজের অধ্যক্ষ মো. মামুদুর রহমান।
অন্যদিকে, ঘটনার তদন্তে কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে আটক করেছে পুলিশ।
লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার বিকালে বড়াইগ্রামের বনপাড়া এলাকা থেকে অমিত কুমারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।