Published : 08 Sep 2025, 06:24 PM
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে ‘নুরাল পাগলা’র দরবার শরিফ ও পুলিশের হামলা-ভাঙচুরের মামলায় দুজন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
এদিকে এ ঘটনায় সোমবার আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হল।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. শরীফ আল রাজীব বলেন, গোয়ালন্দ আমলি আদালতের বিচারকের কাছে দুজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এর মধ্যে আসামি কাজীপাড়া গ্রামের কাজী অপু রোববার জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি কবর থেকে ‘নুরাল পাগলা’র লাশ উত্তোলন, লাশ বিকৃতি ও পুলিশের উপর হামলার স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
তিনি বলেন, আর আসামি আদর্শগ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে বিল্লু সোমবার জবানবন্দিতে পুলিশের উপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের কথা বলেছেন।
এ দুজনের কারোর কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানান শরীফ আল রাজীব। তিনি বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল ইসলাম তাদের আদালতে হাজির করে জবানবন্দি আবেদন করেন।
পুলিশ জানায়, বিল্লুকে রোববার রাতে এবং কাজী অপুকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
নতুন আরও তিনজন গ্রেপ্তার
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজীব জানান, সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তারা হলেন- উপজেলার বেপারীপাড়া এলাকার মৃত মো. আইয়ুব আলী গাজীর ছেলে মো. আলমগীর গাজী (৪৫), নজর উদ্দিন সরদার পাড়ার ইসাক সরদারের ছেলে মো. সোহান সরদার (৩৩) এবং দেওয়ানপাড়া এলাকার নেকবার আলী শেখের ছেলে রিয়াজ হোসেন রিতান্ত (২১)।
শুক্রবার বিকালে গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জুড়ান মোল্লাপাড়ায় এলাকায় নুরাল পাগলের দরবার শরীফে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নুরুল হক সম্প্রতি মারা যাওয়ার পর মাটি থেকে কিছুটা উপরে কবর তৈরি করে তাকে দাফন করা হয়। কবরটিতে কাবা শরিফের আদল দেওয়া হয়। এ নিয়ে `তৌহিদী জনতা'র মধ্যে গত কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল। স্থানীয় প্রশাসন দুপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছিলেন।
হামলাকারীদের অভিযোগ ছিল, নুরুল হক নিজেকে ইমাম মাহাদি দাবি করতেন; যদিও তার পরিবার ও ভক্তারা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ সমাবেশ করে `তৌহিদী জনতা'। বিক্ষোভ থেকে নুরাল পাগলের দরবার শরীফে হামলা চালানো হয়। পাল্টা আক্রমণ করেন নুরাল পাগলের ভক্তরা। এ সময় সংঘর্ষে একজন নিহত ও অর্ধশত মানুষ আহত হন।
“পরে নুরাল পাগলের দরবার শরীফে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয় `তৌহিদী জনতা'। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে পুলিশের ওপরও হামলা চালানো হয়, ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি।”
এ ঘটনায় অজ্ঞাত সাড়ে তিন হাজার মানুষকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে বলে জানান ওসি। শুক্রবার রাত ১২টার পর গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই সেলিম বাদি হয়ে মামলাটি করেন।
আরও পড়ুন:
'নুরাল পাগলা'র মাজারে হামলা: নিরপরাধ কাউকে হয়রানি নয়, বললেন ডিআইজি
রাজবাড়ীর সহিংসতা: গ্রেপ্তারদের দুজন আওয়ামী লীগের, বলছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর
দাবি মেনে 'নুরাল পাগলার' কবর নিচু করা হয়েছিল, তবু হামলা
'নুরাল পাগলা'র দরবারে পুলিশের ওপর হামলা: গ্রেপ্তার আরও ৪
‘নুরাল পাগলা’র দরবারে পুলিশের ওপর হামলায় গ্রেপ্তার বেড়ে ৭
রাসেলকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছে, কুপিয়েছে: ‘নুরাল পাগলার’ দরবারে হামলায় নিহতের বাবা
'নুরাল পাগলা'র দরবারে পুলিশের ওপর হামলায় মামলা, আসামি সাড়ে ৩ হাজার
‘নুরাল পাগলা’র দরবারে হামলা-সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু: পুলিশ
এমন বর্বরতা সহ্য করা হবে না: রাজবাড়ীর ঘটনায় সরকারের প্রতিক্রিয়া
'নুরাল পাগলা'র দরবারে হামলা-সংঘর্ষ, মৃত্যুর গুঞ্জন নিয়ে যা বলছে প্রশাসন
রাজবাড়ীর সেই 'নুরাল পাগলা'র লাশ তুলে আগুন, দরবারে হামলা-ভাঙচুর
উঁচু বেদী করে কবর, 'শরিয়ত-বিরোধী' দাবি তুলে বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি