‘নুরাল পাগলা’র দরবারে পুলিশের ওপর হামলায় গ্রেপ্তার বেড়ে ৭
শুক্রবার বিকালে গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জুড়ান মোল্লাপাড়ায় এলাকায় নুরাল পাগলের দরবার শরীফে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে ‘নুরাল পাগলা’র দরবারে হামলার সময় পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. শরীফ আল রাজীব বলেন, শনিবার গভীর রাত ও রোববার মিলিয়ে মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- উজান ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা এবং গোয়ালন্দ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিরু মৃধা (৪০), দক্ষিণ উজানচর গ্রামের বাসিন্দা এবং উজানচর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি মাসুদ মৃধা, দেওয়ানপাড়া গ্রামের মো. শাফিন সরদার (১৯), দেওয়ানপাড়া গ্রামের এনামুল হক জনি (৩২), কাজিপাড়া গ্রামের অপু কাজি (২৫), দেওয়ানপাড়া গ্রামের হায়াত আলি (২৯) এবং নতুনপাড়া এলাকার মো. জীবন সরদার (২২)।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এমদাদুল হক বিশ্বাস বলেন, “আসামিদের জামিন আবেদন করা হয়েছিল। বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে।”
শুক্রবার বিকালে গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জুড়ান মোল্লাপাড়ায় এলাকায় নুরাল পাগলের দরবার শরীফে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিজেকে ইমাম মাহাদি দাবি করা নুরুল হক সম্প্রতি মারা যাওয়ার পর মাটি থেকে কিছুটা উপরে কবর তৈরি করে তাকে দাফন করা হয়। কবরটিতে কাবা শরিফের আদল দেওয়া হয়। এ নিয়ে `তৌহিদী জনতা'র মধ্যে গত কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল। স্থানীয় প্রশাসন দুপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছিলেন।
ওসি রাকিবুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ সমাবেশ করে `তৌহিদী জনতা'। বিক্ষোভ থেকে নুরাল পাগলের দরবার শরীফে হামলা চালানো হয়। পাল্টা আক্রমণ করেন নুরাল পাগলের ভক্তরা। এ সময় সংঘর্ষে একজন নিহত ও অর্ধশত মানুষ আহত হন।
“পরে নুরাল পাগলের দরবার শরীফে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয় `তৌহিদী জনতা'। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে পুলিশের ওপরও হামলা চালানো হয়, ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি।”
এ ঘটনায় অজ্ঞাত সাড়ে তিন হাজার মানুষকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে বলে জানান ওসি। শুক্রবার রাত ১২টার পর গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই সেলিম বাদি হয়ে মামলাটি করেন।
ওসি রাকিবুল বলেন, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন-
