Published : 05 Sep 2025, 10:09 PM
রাজবাড়ীতে নুরুল হক ওরফে ‘নুরাল পাগলা’ নামে একজন ভিন্ন মতাবলম্বীর কবর ও দরগায় দফায় দফায় হামলা, লাশ তুলে অগ্নি সংযোগের ঘটনায় কঠোর নিন্দা জানিয়ে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর ওই হামলা-সংঘাতের পর রাতে এক বিবৃতিতে সরকারের তরফ থেকে বলা হয়, “এই অমানবিক ও ঘৃণ্য কাজটি আমাদের মূল্যবোধ, আমাদের আইন এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সভ্য সমাজের মৌলিক ভিত্তির ওপর সরাসরি আঘাত।”
নুরুল হক সম্প্রতি মারা যাওয়ার পর মাটি থেকে কিছুটা উপরে কবর তৈরি করে তাকে দাফন করা হয়। কবরটির কাবা শরিফের আদল দেওয়া হয়।
হামলাকারীদের অভিযোগ ছিল, নুরুল হক নিজেকে ইমাম মাহাদি দাবি করতেন; যদিও তার পরিবার ও ভক্তারা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল। স্থানীয় প্রশাসন দুপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছিলেন।
তার মধ্যেই শুক্রবার জুমার নামাজের পর ‘তৌহিদি জনতা’ ব্যানারে জড়ো হওয়া কয়েকশ লোক রাজবাড়ীর শহীদ মহিউদ্দিন আনসার ক্লাবে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা নুরুল হকের বাড়ি ও দরবারের ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা দরবার শরিফ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
পুলিশ আগে থেকেই সেখানে থাকলেও বিপুল মানুষের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা সক্ষম হয়নি। পরে সেনাবাহিনী ও র্যাব এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তখন ‘তৌহিদি জনতা’ নামধারীরা পিছু হটে নুরুল হকের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।
এর কিছু পরে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালায় কথিত ‘তৌহিদী জনতা’। তখন তারা বাড়ির সামনে থাকা নুরুল হকের কবর থেকে মরদেহ তুলে নিয়ে চলে যায়। পরে তারা মরদেহটি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পদ্মার মোড়ে নিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
এই সংঘর্ষে আহত হয়ে হাসপাতালে গেছেন অন্তত ২২ জন। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
রাতে এ বিষয়ে সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গোয়ালন্দে নুরুল হক মোল্লা, যিনি নুরা পাগলা নামেও পরিচিত, তার কবর অবমাননা ও মরদেহে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানায়।
“এই ধরনের বর্বরতা কোনো অবস্থাতেই সহ্য করা হবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে এবং প্রতিটি মানুষের জীবনের পবিত্রতা, জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরেও রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করছি যে এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়। যারা এই ঘৃণ্য কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, ঘৃণা ও সহিংসতাকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করুন, সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন এবং ন্যায়বিচার ও মানবতার আদর্শকে সমুন্নত রাখতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা গড়ে তুলুন।”
পুরনো খবর
'নুরাল পাগলা'র দরবারে হামলা-সংঘর্ষ, মৃত্যুর গুঞ্জন নিয়ে যা বলছে প্রশাসন