Published : 12 Jul 2026, 09:19 PM
টি-টোয়েন্টিতে এতদিন যেটিকে মনে করা হতো ভারতের সবচেয়ে শক্তির জায়গা, সেখানেই এখন ধুঁকছে তারা। আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরপর দুটি সিরিজ হারের পর, ব্যাটিংয়ে ভারতের সংগ্রামের বিষয়টি তুলে ধরলেন ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ক্রিকেটাররা।
যে দল টানা দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, এই সংস্করণে যারা ছিল অপ্রতিরোধ্য, তারাই বিস্ময়করভাবে হেরেছে টানা ছয় ম্যাচ। যেখানে এর আগের ১০ ম্যাচে তাদের হার ছিল স্রেফ একটি।
টানা ১৬টি টি-টোয়েন্টি সিরিজে অপরাজিত থেকে গত মাসে আয়ারল্যান্ড সফরে যায় ভারত। সেখানে অভাবনীয়ভাবে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশড হয় তারা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আগে কখনও আইরিশদের বিপক্ষে হারের অভিজ্ঞতা ছিল না তাদের।
এরপর ইংল্যান্ডে গিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ তারা হেরেছে ৪-০ ব্যবধানে, প্রথম ম্যাচ ভেসে যায় বৃষ্টিতে। কোনো দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ বা টুর্নামেন্টে চার ম্যাচ হারের অভিজ্ঞতা তাদের এটিই প্রথম।
প্রতিটি ম্যাচেই ভারত হেরেছে মূলত ব্যাটিং ব্যর্থতায়। আয়ারল্যান্ডে প্রথম ম্যাচে ১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১২৮ রানে গুটিয়ে যায় তারা, পরের ম্যাচে ১৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১২১ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর যেতে পারে ১৫৩ পর্যন্ত। ইংল্যান্ডে একটি ম্যাচে তারা গুটিয়ে যায় নিজেদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ৭৬ রানে, দুইশ ছাড়াতে পারে কেবল একবার।
ক্রিকেটার থেকে ধারাভাষ্যকার বনে যাওয়া দিনেশ কার্তিক ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে বললেন, এই সফর জুড়েই ভারতের ব্যাটিং বিভাগকে ছন্দহীন মনে হয়েছে তার।
“আমার মনে হয়, কিছুটা বাড়তি বাউন্সের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে ভারতের। মিডল অর্ডারকে নড়বড়ে মনে হচ্ছে, আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা যাচ্ছে। এটা সেই ভারতীয় দল নয়, যাদের বিশ্বকাপে বা তার আগে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে আমরা দেখেছিলাম, যেখানে তারা প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিত এবং মনে ভয় ধরিয়ে দিত। সেটা কোথায় গেল?”
গত মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার পর নেতৃত্বে পরিবর্তন আনে ভারত। সুরিয়াকুমার ইয়াদাভকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় শ্রেয়াস আইয়ারকে। ফল হওয়া ছয়টিতেই হারসহ নেতৃত্বের প্রথম সাত ম্যাচে জয়হীন শ্রেয়াস তুলে ধরলেন দলের ব্যর্থতার কারণ।
“আমরা বারবার এক ভেন্যু থেকে অন্য ভেন্যুতে গিয়েছি এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি, বিশেষ করে মাঠের দৈর্ঘ্য, কন্ডিশন ও পরিস্থিতির দিক থেকে। যত দ্রুত সম্ভব এর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তা হয়নি।”
ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান সুনিল গাভাস্কার বললেন, পুরো সিরিজেই উদ্বেগের জায়গা ছিল দলের ব্যাটিং।
“আমি বিশ্বাস করি যে, ব্যাটিং বিভাগকে সত্যিই জ্বলে উঠতে হবে, কারণ ব্যাটিংই এই ভারতীয় দলের সবচেয়ে বড় শক্তি। আর দলের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশই যদি ভালো না করে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তা বোলিং এবং ক্যাচিংয়ের ওপরও প্রভাব ফেলবে।”
একের পর এক ম্যাচে হার ভারতের জন্য একটি সতর্কবার্তা হতে পারে, মনে করেন ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে।
“মূলত ইংল্যান্ড এমন এক ধরনে খেলে ভারতকে হারিয়েছে, যেটিকে ভারত নিজেদের বলে মনে করত। ভারত যদি এই ফলাফলকে তাদের দুর্বলতাগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হিসেবে দেখতে রাজি থাকে, তাহলে এর থেকে অনেক ভালো কিছু হতে পারে।”
এখন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে ভারত। এরপর তারা তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে যাবে জিম্বাবুয়েতে।