Published : 11 Jul 2026, 10:06 PM
ম্যাচের ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে যায় অনেক আগেই। তানজিদ হাসান সেঞ্চুরি করতে পারেন কি না, সেটি নিয়েই সবার আগ্রহ তখন বেশি। জয়ের জন্য প্রয়োজন তিন রান, সেঞ্চুরি ছুঁতে তার চাই ছয়। আর্নেস্ট মাসুকুর গুড লেংথে পিচ করা ডেলিভারি উড়িয়ে মারলেন বাঁহাতি ওপেনার, কিন্তু টাইমিং হলো না ঠিকমতো। লং-অনে জায়গায় দাঁড়িয়ে সহজ ক্যাচ মুঠোয় জমালেন ব্র্যাড ইভান্স। হতাশায় মাঠ ছাড়লেন তানজিদ।
জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশ দলের হতাশার আঁধার অবশ্য একটু কাটল। তৃতীয় ওয়ানডেতে ৭ উইকেটের জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
হারারেতে শনিবার বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেন বোলাররা। আরও নির্দিষ্ট করে বললে শরিফুল ইসলাম। আগের ম্যাচে ৫০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকা পেসার এবার ৪৪ রানে শিকার করেন ৪ উইকেট। জিম্বাবুয়ে গুটিয়ে যায় ১৯৯ রানে।
প্রথম দুই ম্যাচে বাজে ব্যাটিংয়ে হেরে যাওয়া বাংলাদেশ এবার লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ৩৬ ওভারেই।
১৫১ রানের উদ্বোধনী জুটিতে কাজটা সহজ করে দেন তানজিদ ও সৌম্য সরকার। ছয় চার ও দুই ছক্কায় ৮২ বলে ৬৯ রান করেন সৌম্য।
আট চার ও তিন ছক্কায় ১০১ বলে ৯৪ রান করে ম্যান অব দা ম্যাচ তানজিদ। ইনিংসটির পথে তিনবার অবশ্য জীবন পান তিনি।
এবারের জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশের প্রথম জয় এটি। একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর, প্রথম দুই ওয়ানডেতেও তেতো অভিজ্ঞতা হয় সফরকারীদের। বিশেষ করে, প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের ১৪১ রানের জবাবে দল গুটিয়ে যায় স্রেফ ১১৬ রানে। পরের ম্যাচে ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৫ উইকেটে ২০৭ রানের শক্ত অবস্থানে ২৩৪ রানে অলআউট হয় তারা।
শেষ ম্যাচে তিন পেসার রিচার্ড এনগারাভা, নিউম্যান নিয়ামুরি ও ব্লেসিং মুজারাবানিকে বিশ্রাম দেয় জিম্বাবুয়ে। রান তাড়ায় দুই রকম ব্যাটিংয়ের পথ বেছে নেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। আগের দুই ম্যাচে দুই অঙ্কে যেতে ব্যর্থ সৌম্য এগোন সাবধানী ব্যাটিংয়ে। আক্রমণ শুরু করেন তানজিদ। দ্বিতীয় ওভারে মাসুকুর তিন বলের মধ্যে একটি করে ছক্কা ও চার মারেন তিনি।
২৭ ও ৩৭ রানে জীবন পেয়ে ৪৯ বলে সিরিজে টানা দ্বিতীয় ফিফটি পূর্ণ করেন তানজিদ।
সৌম্যর রান ছিল একপর্যায়ে ৫৫ বলে ৩৩। পরের ৯ বলে দুটি চার ও একটি ছক্কা মেরে তিনি পঞ্চাশে পা রাখেন ৬৪ বলে। ওয়ানডেতে ছয় ইনিংস পর পঞ্চাশ ছুঁতে পারলেন তিনি।
তানজিদ আরেক দফায় বেঁচে যান ৬০ রানে। সৌম্যকে বোল্ড করে জিম্বাবুয়ের মাটিতে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম দেড়শ ছোঁয়া জুটি ভাঙেন তানাকা শিভাঙ্গা।
তিন নম্বরে নেমে শিভাঙ্গার পরের ওভারে তিনটি চার মারেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ওয়েলসলি মাধেভেরেকে পরপর চার ও ছক্কার পর, ওয়েলিংটন মাসাকাদজার তিন বলের মধ্যে চার ও ছক্কায় নব্বইয়ের ঘরে পৌঁছে যান তানজিদ।
কিন্তু দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি পাওয়া হলো না তার অল্পের জন্য। একই ওভারে শূন্য রানে ফেরেন তাওহিদ হৃদয়। নইলে জয়ের ব্যবধান হতে পারত আরও বড়।
ঘাসের ছোঁয়া থাকা উইকেটে এ দিন টস জিতে বোলিং নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মিরাজ। নাহিদ রানা ও রিশাদ হোসেনের জায়গায় একাদশে সুযোগ পান মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ও তানভির ইসলাম।
নতুন বলে দারুণ বোলিং করেন তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল। বেশ কয়েকবার অল্পের জন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যাটের কানা ছোঁয়নি বল। ষষ্ঠ ওভারে মেলে সাফল্য। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান বেন কারানকে বোল্ড করে দেন শরিফুল।
পরের ওভারে ব্রায়ান বেনেটকে বিদায় করেন তাসকিন। ক্রেইগ আরভিনকে ফিরিয়ে দ্বিতীয় শিকার ধরেন শরিফুল।
ত্রয়োদশ ওভারে ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন ইনোসেন্ট কাইয়া ও মাধেভেরে। ৫১ রানের জুটি গড়েন দুজন।
দ্বিতীয় স্পেলে আক্রমণে ফিরেই কাইয়াকে (৬৭ বলে ২৫) ফিরিয়ে ইনিংসের একমাত্র পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি ভাঙেন তাসকিন। সিকান্দার রাজাকে বিদায় করেন তানভির। জিম্বাবুয়ের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ১১ রান করতে খেলেন ২৫ বল।
শরিফুল পরের ওভারে ক্লাইভ মাডান্ডেকে ফেরালে ১০৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ভীষণ বিপদে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকে তাদের দুইশর কাছে যেতে পারার কৃতিত্ব মাধেভেরে ও ইভান্সের।
পাঁচ চার ও এক ছক্কায় ৭৪ বলে ৭৫ রান করেন মাধেভেরে। নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিদায় নেওয়া ইভান্স ৪৩ বলে করেন ৫০ রান। জিম্বাবুয়ের বাকি ৯ ব্যাটসম্যান মিলে ১৭২ বলে করতে পারেন ৬১ রান।
পাঁচ বছর পর বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে খেলতে নেমে আঁটসাঁট বোলিংয়ে একটি উইকেট নেন সাইফ উদ্দিন।
এখন বুলাওয়ায়োতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে দুই দল। আগামী বুধবার হবে প্রথম ম্যাচ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জিম্বাবুয়ে: ৪৮.১ ওভারে ১৯৯ (বেনেট ৬, কারান ২, কাইয়া ২৫, আরভিন ৫, মাধেভেরে ৭৫, রাজা ১১, মাডান্ডে ১, ইভান্স ৫০, মাসুকু ২, শিভাঙ্গা ২*; তাসকিন ১০-৪-৩২-২, শরিফুল ১০-১-৪৪-৪, সাইফ ৯.১-১-৩১-১, তানভির ১০-০-৩৭-২, মিরাজ ৭-০-৪২-০, সৌম্য ২-১-৯-০)
বাংলাদেশ: ৩৬ ওভারে ২০০/৩ (তানজিদ ৯৪, সৌম্য ৬৯, শান্ত ১৮*, হৃদয় ০, সোহান ০*; ইভান্স ৭-২-৩৬-০, মাসুকু ৬-১-৩৩-২, শিভাঙ্গা ৭-০-৩৪-১, রাজা ৬-০-২৮-০, বেনেট ৩-০-২২-০, মাসাকাদজা ৪-০-২৮-০, মাধেভেরে ৩-০-১৭-০)
ফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জয়ী জিম্বাবুয়ে
ম্যান অব দা ম্যাচ: তানজিদ হাসান
ম্যান অব দা সিরিজ: ব্র্যাড ইভান্স