Published : 10 Jul 2026, 04:17 PM
আয়োজনটি রাষ্ট্রীয়, যেখানে অতিথি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্থনিও আলবানিজ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে অনুষ্ঠানের ভেন্যু একটি ক্রিকেট মাঠ। কাজেই ক্রিকেটের সংস্পর্শ তো থাকবেই! এই আয়োজন থেকেই এলো বড় একটি ঘোষণা। বিগ ব্যাশের সামনের আসরের উদ্বোধনী ম্যাচটি হবে চেন্নাইয়ে।
অস্ট্রেলিয়ার এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের একটি ম্যাচ ভারতে আয়োজন করা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শুক্রবার দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করা হলো। আগামী ১২ ডিসেম্বর এমএ চিদাম্বারাম স্টেডিয়ামে ম্যাচটিতে মুখোমুখি হবে মেলবোর্ন রেনেগেডস ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পার্থ স্কর্চার্স।
এই ম্যাচটি আয়োজনে উভয় সরকারই সম্পৃক্ত, যা সেন্টার অফ অস্ট্রেলিয়া-ইন্ডিয়া রিলেশনস-এর একটি অনুদান দ্বারা আংশিকভাবে অর্থায়ন করা হয়েছে এবং এটি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে উৎসাহিত করার জন্য আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী কার্যক্রমের একটি অংশ। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াও এতে অর্থায়ন করবে, তবে এই আয়োজকে ঘিরে নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক সুযোগও খুঁজবে।
বিগ ব্যাশের ১৬ আসরে এই প্রথম দেশের বাইরে হবে কোনো ম্যাচ। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া আশাবাদী যে, এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে আইপিএলের ম্যাচ আয়োজন করা হতে পারে অস্ট্রেলিয়ায়।
এবারের মতো স্রেফ একটি ম্যাচই হবে চেন্নাইয়ে। আইপিএল দল চেন্নাই সুপার কিংসের ঘরের মাঠে ম্যাচটি রেনেগেডসের ‘হোম’ ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হবে। খেলা শুরু হবে স্থানীয় সময় দুপুর ২.৪০ মিনিটে, অস্ট্রেলিয়ান ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম অনুযায়ী সময় তখন রাত ৮.১০ মিনিট।
পার্থে তখন নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার টেস্টও চলবে। সিরিজের প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক পরেই হবে বিগ ব্যাশের ম্যাচটি। টেস্টটি তখনও চলমান থাকলে এই সময়সূচীর কারণে খেলার সময়ে কিছুটা সংষর্ষ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
৬ ডিসেম্বর শেফিল্ড শিল্ডের ষষ্ঠ রাউন্ডের ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই রেনেগেডস এবং স্কর্চার্স দল ভারতে উড়ে যাবে। চেন্নাইয়ের মাঠে প্রস্তুতির জন্য প্রায় চার দিন সময় পাবে দুই দল। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে উভয় দলই বেশ কিছুটা বিরতি পাবে। টুর্নামেন্টের সম্পূর্ণ সূচি ঘোষণা করা হবে আগামী সপ্তাহে।

ম্যাচটিকে ঘিরে কিছুটা শঙ্কার জায়গা থাকবে আবহাওয়ার কারণে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়টা চেন্নাইয়ে বর্ষা মৌসুমের শেষের দিকে। তবে আয়োজকরা মনে করছেন, সেই ঝুঁকি সামাল দেওয়া যাবে। কোনো ‘রিজার্ভ ডে’ যদিও থাকবে না, তবে কোনো কারণে খেলা বাধাগ্রস্ত হলে সম্পূর্ণ ম্যাচ নিশ্চিত করার জন্য অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে আরও অতিরিক্ত সময় রাখা হবে কিনা, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।
দর্শকদের উপস্থিতির ব্যাপারে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া দারুণ আশাবাদী। ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে বলে আশা তাদের। চেন্নাইয়ে ক্রিকেট সংস্কৃতি এমনিতেই সমৃদ্ধ, সেখানকার মানুষ মাঠে গিয়ে খেলা দেখতে পছন্দ করে এবং আইপিএলের সবচেয়ে জনপ্রিয় দলগুলির একটি তাদেরই।
বিগ ব্যাশ লিগের নির্বাহী মহাব্যবস্থাপক অ্যালিস্টার ডবসন দারুণ রোমাঞ্চিত যে, অনেক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে এই উদ্যোগ।
“এখনও অনেক কাজ বাকি আছে। আপনারা বুঝতেই পারছেন, বিদেশে যেকোনো ক্রীড়া আয়োজন নিয়ে যাওয়া একটি চ্যালেঞ্জ। ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে যাওয়া আরও বেশি জটিল। কিন্তু আমরা এমন একটি বাজারে যাচ্ছি, যেখানে খেলাটিকে সবাই ভালোবাসে এবং নিয়মিতই ক্রিকেটের বড় বড় ইভেন্টের আয়োজন করা হয়।”
“আমি মনে করি, আমাদের যেকোনো ক্লাব ও ক্রিকেটারদের জন্য ভারতে গিয়ে বিগ ব্যাশের ম্যাচ খেলার সুযোগ তাদের ক্লাবের জন্য অনেক মূল্যবান হয়ে উঠবে, সেটা এখনই হোক বা ভবিষ্যতে। রেনেগেডস এমন একটি দল, যারা প্রথম দিন থেকেই এটির প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে, বিশেষ করে একটি ভিন্ন বাজারে নিজেদের মাঠে ম্যাচ খেলার সুযোগের জন্য। এটি তাদের জন্য একটি সুস্পষ্ট উপযুক্ত সুযোগ ছিল এবং তারা নিজেদের সমৃদ্ধির পাশাপাশি এই সুযোগটি গ্রহণ করবে।”
ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর মধ্যে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের কিছু ম্যাচ আগে হয়েছে ফ্লোরিডায়। এছাড়া একান্ত বাধ্য না হলে কোনো লিগের খেলা সাধারণত ওই দেশ বা অঞ্চলের বাইরে যায়নি। জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সময়সূচির সংঘাত এবং কোভিড মহামারীর সমযয়ে আইপিএলের খেলা দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়োজিত হয়েছে। পাকিস্তানে বিদেশি দলগুলির নিয়মিত যাতায়াত শুরুর আগ পর্যন্ত পাকিস্তান সুপার লিগ হয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতে। বিগ ব্যাশের এই 'ভারত ভ্রমণ' ক্রিকেটের আরেকটি মোড় বদলের সূচনা করতে পারে।