Published : 10 Jul 2026, 05:17 PM
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। ছয় মাসে মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশে ঝরেছে ১৩০ প্রাণ। এ সময় ছোট-বড় ১০৮টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮৩ জন। তবে এসব ঘটনার জন্য যানবাহনের বেপরোয়া গতিকে দায়ী করছে পুলিশ।
হাইওয়ে ও জেলা পুলিশের কাছে থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময় রেল লাইনের টাঙ্গাইল অংশে ট্রেনে কাটা পড়ে অন্তত ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রবিউল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য প্রথমত চালককে সচেতন থাকতে হবে। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বাঁক রয়েছে। এসব বাঁকে বেশি গতিতে গাড়ি চালালে দুর্ঘটনা ঘটবেই।

সড়ক দুর্ঘটনার সম্ভাব্য প্রতিরোধে নিয়ম মেনে চললে তা অনেকাংশে কমে আসবে। আর এ জন্য চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে গাড়ি চালাতে হবে। অদক্ষ চালক দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে।
গাড়ি চালকদেরও ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে রবিউল ইসলাম বলেন, “সার্ভিস লেন থেকে মোটরসাইকেল চালকেরা মহাসড়কে উঠে পড়ছেন; এটা থেকে তাদের বিরত থাকতে হবে। এ ছাড়া দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ হল, ওভারটেক করা।”
পুলিশ জানায়, চলতি বছরের মে মাসে মহাসড়কে দুর্ঘটনার তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। শুধু মে মাসেই ৩৯ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত হন। এর মধ্যে ২৫ মে কালিহাতী উপজেলায় একটি ট্রাক উল্টে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারাণ ১৫ জন। আর আহত হন নয়জন।
এ ছাড়া জানুয়ারিতে ১২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৬, মার্চে ২৩, এপ্রিলে ২৪ এবং জুনে ১৬ জন প্রাণ হারাণ। আহতদের মধ্যে জানুয়ারিতে নয়জন, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে সাতজন করে, এপ্রিলে ১৮ এবং জুনে ছয়জন রয়েছেন।

টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেল পুলিশ স্টেশনের মুন্সি আবুল বাশার বলেন, মহাসড়কের পাশাপাশি অরক্ষিত রেলপথেও বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। ছয় মাসে টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে ১৮ জনের প্রাণ গেছে।
এর মধ্যে জানুয়ারিতে একজন, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মার্চে আট, এপ্রিলে দুই এবং মে মাসে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। তবে স্বস্তির বিষয় হল, জুনে ট্রেনে কাটা পড়ে কেউ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মোটরসাইকেল আরোহী আনোয়ার হোসেন, লিমনসহ অনেকেই বলেন, যমুনা সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়ক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা। এ মহাসড়কের যে অংশে সার্ভিস লেন আছে, সেখানে বিভিন্ন যানবাহন আটকে রাখা হয়েছে।
তাই অনেক সময় মোটরসাইকেল চালকরা বাধ্য হয়ে মহাসড়কে উঠে যাচ্ছেন। এ ছাড়া এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত কোনো সার্ভিস লেন নেই। মহাসড়কের দুই পাশে বালুর স্তূপ থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রবল। এসব বালুর স্তূপ সরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান তারা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএ থেকে জানা গেছে, দুর্ঘটনা পরবর্তী সরকারি সহায়তার অংশ হিসেবে বিআরটিএ-এর মাধ্যমে টাঙ্গাইলের ট্রাস্টি বোর্ড থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
ছয় মাসে ৫২ জন ক্ষতিগ্রস্ত বা তাদের পরিবারকে চেকের মাধ্যমে মোট দুই কোটি ১৬ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছে বিআরটিএ।
বিআরটিএ টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক শেখ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকসহ অংশীজনদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করে থাকেন তারা।