১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

আটক যুবককে হত্যার গুজবে বরিশালে থানায় হামলা, আহত ৫ পুলিশ

দুই থেকে তিন শতাধিক নারী ও পুরুষ হামলায় অংশ নেন বলে দাবি পুলিশের।

বরিশাল প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Jul 2026, 10:14 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:37 PM

চোর সন্দেহে আটক যুবককে পিটিয়ে হত্যার গুজবে বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের পাঁচ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন আগৈলঝাড়া থানায় ওসি মাসুদ খান।

যার মৃত্যুর গুজব ছড়ানো হয়েছে, সেই মো. রিয়াজ ফকির (২৬) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেডিসিন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন বলে ইন্টার্ন চিকিৎসক সাকিবুল হাসান শান্ত জানিয়েছেন।

গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। 

রিয়াজ ফকির উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের মো. ছিদ্দিক ফকিরের ছেলে। 

আগৈলঝাড়া থানার ওসি মাসুদ খান বলেন, চুরির মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে থানা হাজতে ঢুকানোর সময় তিনি নিজের মাথা নিজে গেইটের সঙ্গে আঘাত করেন। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লে রাতে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবার বিকালে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে দুই থেকে তিনশ নারী-পুরুষ থানায় হামলা করে। তারা থানায় ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে বেধড়ক মারধর করে। এ ছাড়া কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আলামিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হয়। এ ঘটনায় মামলা করা হবে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান ওসি। 

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ড-৩ এর ইন্টার্ন চিকিৎসক সাকিবুল হাসান শান্ত বলেন, “মাথায় আঘাত পাওয়ায় অজ্ঞান অবস্থায় রিয়াজকে হাসপাতালে আনা হয়। তখন কিছু পরীক্ষা দেওয়া হয়। প্রত্যেক পরীক্ষাই স্বাভাবিক আসছে। সিটিস্ক্যান রিপোর্টটি আসেনি। এলে বলতে পারব তার মাথায় কোনো আঘাত আছে কিনা। তার কোনো মেজর ইনজুরি হয়নি।” 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারী-পুরুষ থানায় হামলা করে পুলিশ সদস্যদের মারধর করে। এ সময় পুলিশও বাঁশ ও লাঠি দিয়ে মিছিলকারীদের মারধর করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮) ও মমতাজ বেগমসহ (৪৭) বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তারা গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। 

রিয়াজের বাবা সিদ্দিক ফকির সাংবাদিকদের বলেন, “আমার ছেলেকে রাস্তা থেকে বিনা অপরাধে পুলিশ ধরে নিয়ে মারধর করেছে। তাদের মারধরে ছেলে অজ্ঞান হয়ে পড়লে রাত ৩টার দিকে আমাদের থানায় নিয়ে পুলিশ সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিতে চেয়েছে।” 

তিনি বলেন, “কারা গুজব ছড়িয়েছে, আমরা জানি না।”