১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

রাঙামাটিতে পানিবন্দি ১১ হাজার মানুষ, ডুবেছে বসতঘর-মন্দির-গির্জা

বিলাইছড়ির ইউএনও বলেন, ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদে আশ্রয়কেন্দ্রে খোলা হয়েছে।

রাঙামাটি প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Jul 2026, 09:37 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:38 PM

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটি বিলাইছড়ি উপজেলায় ১১ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ডুবে গেছে কৃষিজমি, দোকানপাট ও ধর্মীয় উপাসনালয়।

বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন শনিবার বিকালে বলেন, “পাহাড়ি ঢলে ফারুয়া ইউনিয়নের ফারুয়া বাজারসহ ১৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ১১ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।”

তিনি বলেন, “ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা লোকজনদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করতেছি, লোকজনদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার।” 

উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীরোত্তোম তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ৬ জুলাই প্রথম দফায় বৃষ্টির পানিতে ডুবে যায় ফারুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম। পরে দ্বিতীয় দফায় শুক্রবার রাতে প্রচুর বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ফারুয়া বাজার, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মন্দির ও গির্জা। 

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যমুনাছড়ি বমপাড়া, তক্তানালা, একুজ্জ্যাছড়ি, ওরাছড়ি, উলুছড়ি, তারাছড়ি, গোয়াইন ছড়িসহ আরও বেশ কয়েকটি গ্রাম। নেটওয়ার্ক না থাকায় লোকজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। 

বিলাইছড়ি পাংখোয়া পাড়ার বাসিন্দা গ্যাব্রিয়েল পাংখোয়া বলেন, “আমাদের গ্রামের নিচের স্কুলটিও পানিতে ডুবে গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন গ্রাম পানিতে ডুবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ২০২৩ সালের দিকে ফারুয়া ইউনিয়নে একবার বন্যা হয়েছিল। এবারেরটা তার চেয়ে আরও বেশি ভয়াবহ মনে হচ্ছে। ঠিকমত নেটওয়ার্ক না থাকায় কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।” 

ফারুয়া বাজার পরিচালনা সমিতির সভাপতি হারুন অর রশিদ বলেন, “শুক্রবার রাতে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় পুরো বাজার একেবারে ডুবে গেছে। বাজারটি ডুবে যাওয়ার ফলে আমাদের কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।”

তিনি বলেন, “দুপুরে দিকে আমরা বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নদীর তীব্র স্রোতে পড়ে মাঝ পথ থেকে ফিরে আসি। তবে ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ২০০ প্যাকেট ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। আমাদের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান থাকবে।” 

রাঙামাটি জেলা সিভিল সার্জন নূয়েন খীসা বলেন, “ফারুয়া ইউনিয়নে বন্যার কারণে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। আমি বর্তমানে বিলাইছড়ি অবস্থান করতেছি। তীব্র স্রোতের কারণে ফারুয়ায় আমাদের মেডিকেল টিম যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতির উন্নতি হলে রোববার মেডিকেল টিম ও প্রয়োজনীয় ওষুধসহ স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে।” 

এদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, বাঘাইছড়ি, বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি কিছু উন্নতি হয়েছে। তবে এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন রয়েছে।

বাঘাইছড়ির ইউএনও আমেনা মারজান বলেন, “উপজেলায় আগের চেয়ে কিছুটা পানি কমেছে। তবে আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন রয়েছে। তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যা কবলিত এলাকায় দুর্গতদের ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে।”