Published : 10 Jul 2026, 09:57 PM
ফরিদপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) থাকা ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় করা মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এদিকে দায়িত্বে অবহেলার জন্য শিশু পরিবারের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
ঘটনাটি শুরু থেকে গোপন থাকলেও শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হয়।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের ফরিদপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও সরকারি শিশু পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আরিফ হোসেন সোমবার ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন।
এর দুই দিন পর বুধবার মামলার আসামি মো. ওয়াহিদ শেখকে (৫৪) ফরিদপুর সদর উপজেলার আদমপুরের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শিশু পরিবারসংলগ্ন একটি বাজারে দর্জির দোকান পরিচালনা করেন।
গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহমুদুল হাসান।
মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, শিশু পরিবারে থাকা ষষ্ঠ শ্রেণির ওই কিশোরী শহরের টেপাখোলা এলাকার একটি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় ৫ জানুয়ারি বিকালে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ওয়াহিদ শেখ তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে তিনি একাধিকবার ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন।
শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে সোমবার কিশোরীকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, তিনি ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-সচিব ও পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দায়িত্বে অবহেলার জন্য বুধবার সরকারি শিশু পরিবারের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান, কম্পিউটার অপারেটর আবীর দাস, মেট্রন-কাম-নার্স মনি আক্তার এবং আয়া শামসুন্নাহার আক্তার ও তানিয়া তাজরীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামান বলেন, আদালতের নির্দেশে কিশোরীকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন নারী ও শিশু-কিশোরী হেফাজতিদের আবাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।