Published : 11 Jul 2026, 09:27 AM
ক্রিজে যাওয়ার পরপরই টানা দুই বলে দারুণ দুটি শটে চার মারলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু টিকতে পারলেন না বেশিক্ষণ। ম্যাচের পরের হাতেও রাখতে পারলেন না প্রভাব। খরুচে বোলিংয়ে রয়ে গেলেন উইকেটশূন্য। একাদশে ফেরার ম্যাচটিতে দুই ভূমিকাতেই অনুজ্জ্বল বাংলাদেশের অলরাউন্ডার। তার দল এমআই নিউইয়র্ক অবশ্য হারের পথ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে দারুণ জয়ের দেখা পেল।
মেজর লিগ ক্রিকেটে সিয়াটল ওর্কাজের বিপক্ষে ব্যাট হাতে সাকিব করলেন ১৪ বলে ১৫, বোলিংয়ে ৪ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে পেলেন না কোনো উইকেট।
ম্যাচের দুই অর্ধে দুই দফায় পেছন থেকে ঘুরে দাঁড়ায় নিউ ইয়র্ক। ব্যাটিংয়ে বিপর্যয় সামলে তারা তোলে ১৭৯ রান। পরে সেই রান তাড়ায় সিয়াটলের স্কোর এক পর্যায়ে ছিল ১ উইকেটে ১৪৪। সেখান থেকে ১৭ রানে ম্যাচ জিতে নেয় নিউ ইয়র্ক।
মৌসুমের শুরু থেকে দলের সঙ্গে থাকলেও সাকিব প্রথম ম্যাচ খেলার সুযোগ পান নিউ ইয়র্কের সপ্তম ম্যাচে। ছয় মাস পর স্বীকৃত ক্রিকেটে তার প্রথম ম্যাচ ছিল সেটি। সেদিন ১ রান করে আউট হয়ে যান, বোলিংয়ে ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে উইকেট পাননি। পরের ম্যাচে আবার একাদশের বাইরে চলে যান।
এই ম্যাচে ফিরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পান চার নম্বরে। ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে রায়ান রিকলটন ও নিকোলাস পুরান দ্রুত আউট হলে চতুর্থ ওভারে ক্রিজে যান সাকিব। পরের ওভারে কাট করে চার মারেন ক্যামেরন গ্যাননকে, অস্ট্রেলিয়ান এই পেসারের পরের বলটিতেই শাফল করে ব্যাট ঘুরিয়ে ফাইন লেগ দিয়ে মারেন চার।
তবে সিয়াটলেরর বোলাররা এরপরই চেপে ধরে সাকিব ও ক্রিজে তার সঙ্গী মোনাঙ্ক প্যাটেলকে। বাউন্ডারি বন্ধ হয়ে যায়। বাঁ হাতি স্পিনার আলি শেখকে পেয়ে বড় শটের চেষ্টা করেন সাকিব। অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বল উড়িয়ে মারতে চান বোলারের মাথার ওপর দিয়ে। কিন্তু টাইমিংয়ের গড়বড়ে বল শুধু ওপরেই ওঠে, বৃত্তের ভেতর ক্যাচ নেন মার্কাস স্টয়নিস।
এরপর মোনাঙ্ক ও কোরি অ্যান্ডারসনকেও দ্রুত হারিয়ে নিউ ইয়র্কের রান হয়ে যায় ৫ উইকেটে ৭৩। এরপর দুর্দান্ত পাল্টা আক্রমণ করেন কাইরন পোলার্ড ও তাজিন্দার সিং। ৬.৫ ওভারে ৮০ রানের জুটি গড়েন দুজন।
দারুণ ফর্মে থাকা অধিনায়ক পোলার্ড ৩৩ বলে করেন ৫৪ রান। একাদশে ফেরা তাজিন্দার অপরাজিত থাকেন ২৭ বলে ৬৬ রান করে।
সিয়াটলের অধিনায়ক স্টয়নিস ১৯তম ওভারে ৩ উইকেটসহ ম্যাচে ৪৬ রানে নেন ৫ উইকেট। ৩৮৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৫ উইকেটের স্বাদ পেলেন এই অলরাউন্ডার।
সিয়াটলের রান তাড়ায় সাকিব আক্রমণে আসেন ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে। ওই ওভারে হজম করে ছক্কা ও চার। এরপর পাওয়ার প্লে শেষে আরেক ওভার বোলিং করে রান দেন ৫। পরের ওভারে তাকে দুটি চার মারেন ম্যাথু ব্রিটস্কি।
সবচেয়ে খরুচে ছিলেন তিনি পরের ওভারে। একটি ছক্কা মারেন তাকে টিম সাইফার্ট, আরেকটি ব্রিটস্কি। ওভার থেকে আসে ১৬ রান।
সাইফার্ট ও ব্রিটস্কির ব্যাটে তখন সহজ জয়ের পথে ছিল সিয়াটল। দ্বিতীয় উইকেটে ১১৭ রানের জুটি গড়েন তারা। সাকিবের ওই ওভারের পর জয়ের জন্য তাদের লাগত ৩৬ বলে ৪৯ রান। উইকেট ছিল ৯টি।
কিন্তু এরপর নাটকীয়ভাবে ম্যাচে ফেরে নিউ ইয়র্ক। ব্রিটস্কিকে (৩১ বলে ৪৪) বোল্ড করে জুটি ভাঙেন পোলার্ড।
সিয়াটলের তখন ২৫ বলে প্রয়োজন ৩৬ রান। সাইফার্ট ছিলেন শতরানের পথে। বিধ্বংসী সব ব্যাটসম্যান তখনও অপেক্ষায়। কিন্তু ব্যর্থ সবাই।
শিমরন হেটমায়ার (৬ বলে ২), স্টয়নিসরা (৫ বলে ৮) মেটাতে পারেননি সময়ের দাবি। ৬১ বলে ৮৮ করে শেষের আগের ওভারে বিদায় নেন সাইফার্ট। দাসুন শানাকা অপরাজিত থাকেন ৬ বলে ৩ রান করে।