Published : 11 Jul 2026, 10:18 AM
যখন মনে হচ্ছিল লিওনেল মেসিকে নিয়ে বিস্ময়ের চূড়ান্ত সীমানা ছাড়িয়ে গেছে, তখনই নতুন করে চমকে দিয়েছেন তিনি। ৩৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপে তার অপ্রতিরোধ্য রূপ দেখে আশ্চর্য হয়ে গেছেন অনেকেই। তবে তাকে কাছ থেকে দেখেন যিনি, সেই লিওনেল স্কালোনি অবাক নন একটুও। আর্জেন্টিনার কোচের মতে, মেসি এখানে বরাবরই যন্ত্রের মতো সচল।
এমনিতে মেসির সঙ্গে আর যা-ই হোক, ‘যান্ত্রিক’ ব্যাপারটি যায় না। মাঠে সৃষ্টিশীলতার মহাকাব্য রচনা করেন তিনি, নান্দনিকতার ফুল ফোটান। কল্পনার সীমানা ছাড়িয়ে যান বারবার উদ্ভাবনের আনন্দে। তবে যখন বয়স আর দীর্ঘস্থায়ীত্বের ব্যাপারটি আসে, তখন যন্ত্রের সঙ্গে তুলনাও খুব মানিয়ে যায়। রক্ত মাংসের মানুষ নাকি অন্য কিছু, বছরের পর বছর ধরে তো এই বিভ্রমও ছড়িয়ে আসছেন তিনি!
এই ৩৯ বছর বয়সে যেমন ক্যারিয়ারের সেরা বিশ্বকাপ কাটাচ্ছেন তিনি। ৮ গোল করে ফেলেছেন এর মধ্যেই। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি নতুন উচ্চতায় তুলে দিচ্ছেন প্রতি ম্যাচেই।
শেষ ষোলোর ম্যাচটিতে অবশ্য একটু ম্রিয়মান ছিলেন তিনি। মিশরের বিপক্ষে সেদিন পেনাল্টিতে ব্যর্থতার পর ম্যাচের বেশির ভাগ সময় ছিলেন বিবর্ণ। তবে শেষ সময়ে ঠিকই জ্বলে উঠে হয়ে ওঠেন দলের ত্রাতা। ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর নির্ধারিত সময়ের যখন ১১ মিনিট বাকি, তার সহায়তা থেকে আর্জেন্টিনার প্রথম গোলটি করেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। এরপর অধিনায়ক নিজেই গোল করে সমতায় ফেরান দলকে।
তার পারফরম্যান্সে গোটা দুনিয়ায় যেন ঘোর লেগে গেছে। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্সে যেমন বলেছেন, মেসিকে দেখে তার মনে হচ্ছে ১৯ বছর বয়সী।
তবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালের আগে স্কালোনি বললেন, মেসির এই রূপ তার জন্য চমকপ্রদ নয়।
“আমি মোটেও বিস্মিত নই।”
“হয়তো যারা তাকে চেনে না, তারা আশা করেছিল যে ৩৯ বছর বয়সে সে এই পর্যায়ে থাকবে না। কিন্তু জানি না আমি কতশতবার বলেছি: যতদিন সে চাইবে, সে-ই সেরা থাকবে। আমি এরকম মনে করি এবং সেটা কেবল তার কোচ বলেই নয়।”
তবে কেবল সহজাত প্রতিভা দিয়েই যে মেসি নিজেকে ধরে রেখেছেন, তা নয়। আড়ালে ঘাম ঝরিয়েছেন প্রচুর। সঙ্গে যোগ হয়েছে তার মানসিকতা, নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার নিবেদন।
“লিও প্রতিটি ম্যাচে কমবেশি একই রকম দৌড়ায়। শারীরিকভাবে এটা সত্যি যে, সে তার ফিটনেস কোচের সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক কাজ করেছে এবং তার ফলও পেয়েছে। কিন্তু পরিসংখ্যানের দিক থেকে সে খুব একটা বদলেছে কিনা, তা আমি জানি না।”
“এটা স্পষ্ট যে, সে তার সর্বস্ব দিয়ে খেলছে। যখন সে তার সবটুকু দিয়ে খেলে এবং বুঝতে পারে যে সে প্রতিপক্ষের জন্য বিপদ সৃষ্টি করতে পারে, তখন সে স্রেফ মেশিনের মতো।”