মেসিকে আটকাতে ইয়াকিনের ছক
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন পূরণে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে খেলার প্রয়োজন দেখছেন সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন।
বল পায়ে লিওনেল মেসি হয়ে ওঠেন শিল্পী। বাম পায়ের তুলির আচঁড়ে ফোটান গোলের ফুল। আর্জেন্টিনার জন্য তা যতটা আনন্দের, প্রতিপক্ষের জন্য তা ততটাই বিষাদের। আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে তাই কীভাবে বল থেকে দূরে রাখা যায়, সেই ছকই কষছেন সুইজারল্যান্ড কোচ মুরাত ইয়াকিন।
ক্যানসাস সিটিতে, ১২ জুলাই ৭টায় (এএম) কোয়ার্টার-ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই দল। আর্জেন্টিনা এবার এসেছে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে। দারুণ ছন্দে থাকা সুইজারল্যান্ডের সামনে, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ওঠার হাতছানি।
সুইসদের স্বপ্ন মেসি গুঁড়িয়ে দিতে পারেন একাই। চলতি আসরে, ৩৯ বছর বয়সের ভার নিয়ে ইতোমধ্যে নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন তিনি। ৮ গোল করে, দলের প্রতিটি জয়ে দারুণ অবদান এই মহাতারকার। মেসির পায়ে তাই বল দেখতে চান না ইয়াকিন।
“যখন আমাদের পায়ে বল থাকবে, তখন সে (মেসি) খুব একটা সক্রিয় হতে পারবে না। আমরা স্রেফ নিজেদের খেলাটা খেলার এবং তাকে বল পায়ে খেলতে না দেওয়ার চেষ্টা করব।
“অনেক সমাধান আছে, এবং আমরা সেরা সমাধান খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করব। আগামীকাল মাঠে আমরা একটা দল হয়ে খেলব। ভালো পাস দেওয়ার এবং উপরে উঠে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করব।”
২০১৪ সালে, ব্রাজিল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ার তেতো স্মৃতি সঙ্গী সুইজারল্যান্ডের। সাও পাওলোর সেই ম্যাচে খেলেছিলেন এখনকার অধিনায়ক গ্রানিত জাকা। তবে, এবারের ম্যাচ নিয়ে ৩৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার কোনোরকম প্রতিশোধের হুঙ্কার দিলেন না।
“এটা প্রতিশোধের ম্যাচ নয়। একেবারেই ভিন্ন একটি ম্যাচ। আমরা এখন কোয়ার্টার-ফাইনালে এবং জিততে চাই। এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
“আমি এখানে শুধু কথা বলতে আসিনি। আমি পরের ধাপে যেতে চাই এবং আমরা শেষের খুব কাছাকাছি। আমি এর জন্য আকুল হয়ে আছি, আমি ক্ষুধার্ত এবং আমাদের এখন স্রেফ প্রয়োজন, আমরা এটা কতটা চাই, সেটা মাঠে দেখানো।”
দলীয় লক্ষ্যের বাইরে অধিনায়ক জাকার ব্যক্তিগত প্রত্যাশাও আছে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনাল তার কাছে স্মরণীয় ম্যাচ। সান্ডারল্যান্ডের এই মিডফিল্ডার এমন উপলক্ষ করে রাখতে চান আরও স্মরণীয়।
“নিঃসন্দেহে ম্যাচটি আমার ক্যারিয়ারের স্মরণীয় মুহূর্ত হতে চলেছে। যখনই আপনি বিশেষ কিছু করবেন, তখন ভিন্ন একটা অনুভূতি কাজ করে।
“৭২ বছর পর সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠতে সক্ষম হয়েছে এবং এখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়দের বিপক্ষে লড়াই, এটা আমাকে ভীষণ গর্বিত করছে।”
