২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতকে ৪-০ ব্যবধানে উড়িয়ে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ইংল্যান্ড

একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত প্রথমের জন্ম দিয়ে শেষ ম্যাচেও হেরে গেল ভারত।

ভারতকে ৪-০ ব্যবধানে উড়িয়ে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ইংল্যান্ড
টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড গড়েন জস বাটলার ও হ্যারি ব্রুক। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Jul 2026, 11:21 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:38 PM

ভারতীয় দল যানজটে আটকা পড়ার কারণে টসে দেরি হলো পৌনে এক ঘন্টা। তবে ২২ গজে ঝড় উঠতে খুব বেশি সময় লাগল না। জস বাটলার ও হ্যারি ব্রুকের বিস্ফোরক ইনিংস আর রেকর্ড জুটিতে যে উচ্চতায় উঠল ইংল্যান্ডের স্কোর, তার ধারেকাছে যেতে পারল না ভারত। তাদের নাস্তানাবুদ করেই ছাড়ল ইংলিশরা, একই সঙ্গে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হটিয়ে টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষেও উঠল তারা।  

পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডের জয় ৫৬ রানে।

পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ব্রুকের দল জিতল ৪-০ ব্যবধানে। প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যায়।

সাউথ্যাম্পটনে শনিবার ২০ ওভারে ইংল্যান্ড তোলে ৩ উইকেটে ২৫৭ রান। ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে যেকোনো দলের প্রথম আড়াইশ ছোঁয়া স্কোর এটি। 

জবাবে ভারত যেতে পারে ২০১ পর্যন্ত।

ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক বাটলার। জাতীয় দলের হয়ে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিতে ১২ চার ও আট ছক্কায় ৬৪ বলে ১৩১ রান করে ম্যাচ সেরা হন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। 

আট ছক্কা ও চারটি চারে ৪৫ বলে ৯৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ব্রুক। আগের ম্যাচে ইংলিশ অধিনায়ক করেছিলেন ৩৫ বলে অপরাজিত ৭৯। সিরিজ সেরা তিনিই।

দ্বিতীয় উইকেটে ১০৩ বলে ২৩৩ রানের জুটি গড়েন এই দুজন। টি-টোয়েন্টিতে যেকোনো উইকেটে ইংল্যান্ডের প্রথম দুইশ ছোঁয়া জুটি এটি। ২০১৯ সালে নেপিয়ারে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে ওয়েন মর্গ্যান ও দাভিদ মালানের ১৮২ রানের জুটি ছিল আগের সর্বোচ্চ।

এই সংস্করণে দ্বিতীয় উইকেটে যেকোনো দলের সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ডও লেখা হলো নতুন করে। ২০২৪ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের তিলাক ভার্মা ও সাঞ্জু স্যামসনের অবিচ্ছিন্ন ২১০ রানের জুটি ছিল আগের রেকর্ড।

গত ২৬ জুন থেকে এই ম্যাচ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত প্রথমের জন্ম দিয়েছে ভারত। টানা ১৬টি টি-টোয়েন্টি সিরিজে অপরাজিত থেকে আয়ারল্যান্ড সফরে যায় তারা। আইরিশদের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম হারই শুধু নয়, অভাবনীয়ভাবে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশড হয় টানা দুইবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ীরা।

এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবার একাধিক ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ হার, এই সংস্করণে নিজেদের সবচেয়ে বড় হার এবং এই প্রথম কোনো দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ বা টুর্নামেন্টে চার ম্যাচে হারের তেতো অভিজ্ঞতাও হলো তাদের। এই সংস্করণের নেতৃত্ব পাওয়ার পর ফল হওয়া ছয় ম্যাচের সবকটিই হারলেন শ্রেয়াস আইয়ার।

আধা ঘন্টা দেরিতে শুরু ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে ইংল্যান্ড। শুরুটা যদিও ভালো ছিল না তাদের। দ্বিতীয় ওভারে বিদায় নেন ফিল সল্ট।

ভারতের স্বস্তি ওটুকুই। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী মেলে ধরেন বাটলার ও ব্রুক। ১৯ বলে ফিফটি করেন ব্রুক। পঞ্চাশ ছুঁতে বাটলারের লাগে ৩৪ বলে। পরের পঞ্চাশ করে ফেলেন তিনি স্রেফ ১৭ বলে।

প্রিন্স ইয়াদাভের টানা চার বলে দুটি করে চার ও ছক্কা মেরে নব্বইয়ের ঘরে পৌঁছে যান বাটলার। আকসার প্যাটেলকে ছক্কায় উড়িয়ে ৫১ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। পরের বলেই অবশ্য জীবন পান ৩৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।

চার ওভারে ৬৩ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার আকসার। সব ধরনের টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ৩১৯ ইনিংসে তার সবচেয়ে খরুচে বোলিং এটি।

শেষের আগের ওভারে শিভাম দুবেকে দুই ছক্কা ও একটি চারের পরের বলে ক্যাচ দিয়ে থামেন বাটলার। পরের বলে জেকব বেথেল ফেরেন শূন্য রানে। 

শেষ ওভারে প্রথম বলে চার মেরে ৯০ স্পর্শ করেন ব্রুক। পরে আরও চার বল খেললেও পাঁচ রানের বেশি তিনি করতে পারেননি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম তিন ম্যাচে ভালো করতে না পারা বিস্ময়-বালক বৈভাব সুরিয়াভানশিকে বাইরে রেখে এ দিন স্যামসনকে একাদশে ফেরায় ভারত। প্রথম দুই ওভারে দুটি করে চার ও ছক্কা মেরে শুরুটা ভালো করেন তিনি। তবে আরেক ওপেনার আভিশেক শার্মাকে পরের ওভারেই ফিরিয়ে দেন জফ্রা আর্চার।

স্যামসনের ঝড়ও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি (১৪ বলে ২৭)। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসে প্রথম বলে তাকে ফেরান স্যাম কারান। ইনিংস টেনে নিতে পারেননি শ্রেয়াসও (১৬ বলে ২৮)। 

ইশান কিষান এই সফরে প্রথম ফিফটি করেন ২৭ বলে। তবে এরপর বেশি দূর যেতে পারেননি, সাত চার ও দুই ছক্কায় ৩৫ বলে ৫৬ রান করেন তিনি। 

পরের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তিলাক ভার্মা ছাড়া আর কেউ ভালো করতে পারেননি। তার তিন চার ও চার ছক্কায় ২৫ বলে ৫৩ রানের ইনিংসে পরাজয়ের ব্যবধানই শুধু কমাতে পারে ভারত। 

চার ওভারে ৩৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের সফলতম বোলার কারান। লেগ স্পিনার আদিল রাশিদ ২৪ রানে নেন ২টি। 

এখন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে দুই দল। আগামী মঙ্গলবার হবে প্রথমটি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ২৫৭/৩ (সল্ট ৬, বাটলার ১৩১, ব্রুক ৯৫*, বেথেল ০, জ্যাকস ৭*; আর্শদিপ ৪-০-৩৩-০, প্রাসিধ ৪-০-৩৮-১, প্রিন্স ৪-০-৬০-০, আকসার ৪-০-৬৩-০, দুবে ১-০-২২-২)

ভারত: ২০ ওভারে ২০১/৮ (স্যামসন ২৭, আভিশেক ৩, কিষান ৫৬, শ্রেয়াস ২৮, তিলাক ৫৩, দুবে ১৪, সুরিয়ানশ ৭, আকসার ৩, আর্শদিপ ৪*, প্রাসিধ ১*; আর্চার ৪-০-৪১-১, টাং ৪-০-৫৩-১, জ্যাকস ৩-০-৩২-০, কারান ৪-০-৩৬-৩, ডসন ২-০-১৪-১, রাশিদ ৩-০-২৪-২)

ফল: ইংল্যান্ড ৫৬ রানে জয়ী

সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ড ৪-০ ব্যবধানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: জস বাটলার

ম্যান অব দা সিরিজ: হ্যারি ব্রুক