২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

পুরনো ক্যাসেট টেপ আসলে টেকে কত বছর?

ক্যাসেট টেপ যতক্ষণ ভালো অবস্থায় থাকে ততক্ষণ এটা বাজবে। তবে এর জন্য সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা জরুরি। ক্যাসেট টেপের আয়ুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে তাপমাত্রা।

পুরনো ক্যাসেট টেপ আসলে টেকে কত বছর?

ক্যাসেট টেপ সংরক্ষণের উপায় জানার আগে এর কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। ছবি: ম্যাগনিফিক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 20 Sep 2026, 05:40 PM

Updated : 20 Sep 2026, 05:40 PM

আশির দশকে বড় হওয়া প্রজন্মের কাছে গান শোনার প্রধান মাধ্যম ছিল ‘কম্প্যাক্ট ক্যাসেট টেপ’। ক্রেডিট কার্ডের বড় স্তূপের সমান আকৃতির মিডিয়া ফরম্যাটটি নব্বইয়ের দশকে সিডি ও পরবর্তীতে স্পটিফাইয়ের মতো স্ট্রিমিং সার্ভিসের কাছে অবস্থান হারিয়েছে।

তবে অনেকের কাছেই হয়ত জুতার বাক্সে এখনও এমন কিছু ক্যাসেট সযত্নে সংরক্ষিত আছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, এসব ছোট্ট টেপগুলোর স্থায়িত্ব বা আয়ু আসলে কত?

সাধারণ ধারণা অনুসারে, এগুলোর স্থায়িত্ব প্রায় ৩০ বছর। তবে তা আদর্শ সংরক্ষণ অবস্থার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত। সেরা পরিস্থিতিতেও ক্যাসেট টেপ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট হতে থাকে।

কারণ, টেপগুলোকে আটকে রাখা কোটিং বা প্রলেপটি একসময় এর পিচ্ছিল ভাব হারিয়ে খুলে যায়। তবে এর স্থায়িত্বের মূল নির্ধারণকারী হচ্ছে, এটা কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।

ক্যাসেট পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আগেই কোনো ডিজিটাইজেশন সার্ভিস ব্যবহার করে বা কোনো প্লেয়ার কম্পিউটারের সঙ্গে যোগ করে ‘অডাসিটি’র মতো সফটওয়্যারের মাধ্যমে ডিজিটাল ফাইলে রূপান্তর করা ভালো আইডিয়া।

এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর তৈরি করা বিশেষ প্লেলিস্ট ও বিভিন্ন স্মৃতি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। তবে আপাতত কারো কাছে যদি ৭০ ও ৮০-এর দশকের ক্যাসেট থাকে এবং সেগুলোকে যদি ভালোভাবে সংরক্ষণ করা হয় তবে তা বহু বছর ধরে বাজানো সম্ভব।

ক্যাসেট টেপ সঠিক সংরক্ষণের উপায় ও পরিচর্যা

ক্যাসেট টেপ সংরক্ষণের উপায় জানার আগে এর কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। এর ভেতরে ছোট মুভি রিলের মতো দুটি রিল থাকে, যা একটি পাতলা ম্যাগনেটিক টেপের মাধ্যমে সংযোগ এবং একটি খোলস বা কেসিং দিয়ে ঢাকা থাকে।

ব্যবহারকারী যখন প্লে বাটন চাপেন তখন টেপটি ম্যাগনেটিক হেডের ওপর দিয়ে পিছলে যায় ও বিভিন্ন ম্যাগনেটিক প্যাটার্ন পড়ে শব্দে রূপান্তর করে। এসব বৈদ্যুতিক সংকেত অ্যামপ্লিফায়ারের মধ্য দিয়ে গিয়ে শব্দকে জোরালো করে। ফলে স্পিকার বা হেডফোনের মাধ্যমে স্পষ্ট শব্দ শোনা যায়।

ক্যাসেট টেপ যতক্ষণ ভালো অবস্থায় থাকে ততক্ষণ এটা বাজানো সম্ভব হবে। তবে এর জন্য সঠিক সংরক্ষণ জরুরি। ক্যাসেট টেপের আয়ুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে তাপমাত্রা। যেমন, অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা পরিবেশে বা যেখানে তাপমাত্রা ঘনঘন পরিবর্তিত হয় সেখানে রাখা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “আপনাকে অবশ্যই রোদ, আর্দ্রতা, ধুলাবালি ও ডাস্ট মাইট, বিভিন্ন পোকামাকড় এবং চৌম্বকক্ষেত্র থেকে এগুলোকে দূরে রাখতে হবে।”

ক্যাসেটগুলো সবসময় ঠান্ডা ও শুষ্ক জায়গায় সংরক্ষণ করতে হয়, বিশেষ করে যেখানে ঘরের তাপমাত্রা ১৫ থেকে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও আর্দ্রতা ২৫ থেকে ৫৫ শতাংশের মধ্যে থাকে।

এগুলোকে সবসময় সুরক্ষামূলক কেসে রাখা উচিত ও জমে থাকা ধুলাবালি দূর করার জন্য মাঝেমধ্যে বাইরের অংশ মুছে ফেলতে হবে। এজন্য সাবধানে একটি ‘কিউ-টিপ’ ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি প্লেয়ারের টেপ হেডগুলো পরিষ্কার করতেও ভুলবেন না।

টেপগুলো ফেলে না রেখে মাঝেমধ্যে বাজানো দরকার। কারণ ব্যবহারের অভাবে পিচ্ছিল ভাব হারানোর পাশাপাশি বাইন্ডার কোটিং বা প্রলেপটি আঠালো হয়ে যেতে পারে।

সঠিক যত্নে শতবছর টিকিয়ে রাখার উপায়

উপযুক্ত সংরক্ষণ করা না হলে ক্যাসেট টেপ ৩০ বছর থেকে কমে মাত্র পাঁচ বছরে নেমে আসতে পারে। কেউ হয়ত এসব ক্যাসেট চিলেকোঠার বাক্সে ফেলে রাখার কথা ভাবছেন।

তবে মনে জরুরি, সেখানে তাপমাত্রার পরিবর্তন, আর্দ্রতা ও জানালার রোদের প্রভাবে টেপগুলো নষ্ট হতে পারে। এগুলোকে চিলেকোঠাতেই সংরক্ষণ করতে চাইলে কার্ডবোর্ডের বাক্সের পরিবর্তে প্লাস্টিকের কন্টেইনার বা টাব ব্যবহার করা উচিত।

সঠিক সংরক্ষণ ও যত্নে ক্যাসেট টেপ ১০০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কারো প্রিয় স্মৃতিগুলোকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করবে। প্রি-রেকর্ডড ক্যাসেট থেকে শুরু করে রেডিও থেকে রেকর্ড করা গান বা পার্টি, রোড ট্রিপ, ব্রেক-আপ ও ভালোবাসার জন্য তৈরি মিক্সটেপ সবকিছুর সঙ্গেই গভীর নস্টালজিয়া জড়িয়ে আছে।

ভিনাইল রেকর্ডের পুনরুত্থান ও জেন জিদের হাত ধরে আইপডের কামব্যাকের পর খুব শিগগিরই যে ক্যাসেট টেপ ও ওয়াকম্যান আবার ট্রেন্ডে ফিরবে তা বলাই বাহুল্য।

ক্যাসেট বাজানোর ক্ষেত্রে কারো সামনে সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটি আসতে পারে, তা কেবল টেপগুলো কাজ করবে কি না তা নিয়ে নয়, বরং কীভাবে শুনবেন তা নিয়েও।

ব্যবহারকারী হয়ত নিজের পুরনো বুমবক্সগুলো এরইমধ্যেই সেরা পোর্টেবল ব্লুটুথ স্পিকার দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছেন।

তবে এখনও এমন রেট্রো প্লেয়ার খুঁজে পাওয়া সম্ভব, যেখানে স্ট্রিমিংয়ের সঙ্গে ক্যাসেট ডেক যোগ করে বা সাশ্রয়ীদামের ওয়াকম্যান-স্টাইলের পোর্টেবল ক্যাসেট প্লেয়ারহেতে পারে, যা ব্যবহারকারীর সংগীতচর্চাকে সচল রাখতে ও পুরনো দিনগুলোকে আবার ফিরিয়ে আনবে।