Published : 17 Sep 2026, 02:03 PM
সাশ্রয়ী দামে পুরনো ম্যাকবুক কেনার কথা ভাবলে দামের চেয়ে এর পারফরম্যান্স ও সফটওয়্যার আপডেট দীর্ঘমেয়াদে খরচ উসুল করতে পারবে কি না সেটাই প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিত।
র্যাম ও স্টোরেজের দামবৃদ্ধির এ বাজারে পুরনো ম্যাকবুক কেনার মাধ্যমে অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব, বিশেষ করে অ্যাপলের এম-সিরিজ চিপওয়ালা যে কোনো ম্যাকবুক দৈনন্দিন কাজের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আগামীতেও নিয়মিত ম্যাকওএস আপডেট পেতে থাকবে।
২০২০ সাল থেকে বাজারে আসা অ্যাপলে সিলিকনওয়ালা ম্যাকবুক এয়ার ও ম্যাকবুক প্রো মডেলগুলো ম্যাকওএস ২৭-এর সামঞ্জস্যতার তালিকায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
তবে ইনটেলভিত্তিক ম্যাকবুকগুলোর ক্ষেত্রে এ চিত্র আলাদা। ২০২০ সাল থেকে অ্যাপল নিজস্ব সিলিকনে রূপান্তর শুরু করে এবং ২০২১ সালের পর থেকে আর কোনো ইনটেল ম্যাকবুক বিক্রি করেনি।
আসন্ন ম্যাকওএস ২৭ গোল্ডেন গেট ইনটেল ম্যাকগুলোতে কাজই করবে না। যারা এখনও এম-সিরিজের আগের বিভিন্ন ম্যাকবুক ব্যবহার করছেন তারা চূড়ান্ত সমর্থিত সংস্করণের জন্য সামান্য কিছু নিরাপত্তা প্যাচ ছাড়া বড় কোনো আপডেট আশা করতে পারেন না।
ব্রাউজিং, স্ট্রিমিং ও ল্যাপটপের কাজের জন্য বেসবোর্ডের একটি এম১ ম্যাকবুক এয়ার এখনও বেশ ভালো পছন্দ। নির্ভরযোগ্য কোনো রিটেইলার বা রিফার্বিশড মডেলগুলো এখনও বেশ যুক্তিসঙ্গত দামে পাওয়া যায়।
বয়সের চেয়ে সফটওয়্যার সাপোর্ট ও নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ
পুরনো কম্পিউটার কেনার ক্ষেত্রে সফটওয়্যার সাপোর্টই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হওয়া উচিত। অ্যাপল এখনও ম্যাকওএসের বিভিন্ন সংস্করণের জন্য নিরাপত্তা আপডেট দিয়ে আসছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, অ্যাপলের আপডেটেড তালিকার মধ্যে রয়েছে ম্যাকওএস টাহো ২৬, সেকোয়া ১৫ ও সোনোমা ১৪। তবে ম্যাকওএস ২৭ গোল্ডেন গেট হবে প্রথম কোনো আপডেট, যা কেবল অ্যাপল সিলিকনের জন্যই সীমিত।
যেসব ম্যাকবুক এরইমধ্যে নতুন সংস্করণটির বাইরে চলে গেছে সেগুলোর পেছনে বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন অ্যাপগুলোও ধীরে ধীরে আরও আধুনিক সংস্করণ দাবি করবে।
তবে ব্যবহারকারী যদি লিনাক্সে পারদর্শী হন ও ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের ইনটেলভিত্তিক ম্যাকবুকগুলোর টি২ সিকিউরিটি চিপের বাধা পেরোতে পারেন তবে ম্যাকওএসের চেয়ে লিনাক্স ব্যবহার করে পুরনো ম্যাকবুক থেকে বেশি দীর্ঘায়ু পেতে পারেন।
বেশিরভাগ ক্রেতার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প অ্যাপল সিলিকন ম্যাকবুক, যার মাধ্যমে ২০২০ সাল থেকে শুরু করে প্রায় ৬ বছরের পুরনো মডেলগুলোর বড় পরিসর বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
যে কোনো ব্যবহৃত ম্যাকবুক কেনার আগে অবশ্যই এর সঠিক মডেল আইডেন্টিফায়ার যাচাই করে নিন এবং ম্যাকওএস সামঞ্জস্যতার তালিকা মিলিয়ে দেখুন।
পাশাপাশি ব্যাটারির সাইকেল কাউন্ট ও সার্ভিস রিকমেন্ডেশন পরীক্ষা করতে ভুলবেন না। আর সরাসরি কেনার সুযোগ থাকলে কিবোর্ড, ডিসপ্লে, পোর্ট, ক্যামেরা, ওয়াই-ফাই ও স্পিকার ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিন।
ম্যাকবুক কেনার সেরা উপায় ও কিছু টিপস
সাশ্রয়ী দামে পুরনো ম্যাকবুক কেনার ক্ষেত্রে একদম সাশ্রয়ী মডেলটি না বেছে আগের বিভিন্ন প্রজন্মের ভালো কোনো মডেল নির্বাচন করা বুদ্ধিমানের কাজ।
অ্যাপল সিলিকনওয়ালা এক পুরনো ম্যাকবুক এয়ার দৈনন্দিন বেশিরভাগ কাজের চাহিদা অনায়াসেই মেটাতে পারে। এটা নতুন মডেলের চেয়ে কম খরচে পাওয়া যায়, অথচ অধিকাংশ কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো যথেষ্ট সক্ষমতা এতে থাকে।
ভারী কাজের জন্য বেশি মেমোরি, স্টোরেজ ও শক্তিশালী এম-সিরিজ প্রসেসরওয়ালা সামান্য ব্যবহৃত ম্যাকবুক প্রো শত শত ডলার সাশ্রয় করার পাশাপাশি সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারে।
ম্যাকবুক কেনার সময় সবসময় ‘অ্যাপল সার্টিফাইড রিফার্বিশড’ বা এমন কোনো রিটেইলারের কাছ থেকে ডিভাইসটি নেওয়া উচিত, যারা পণ্যের সুনির্দিষ্ট অবস্থা, রিটার্ন পলিসি ও ওয়ারেন্টির মেয়াদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে।
অ্যাপলের তথ্য অনুসারে, তাদের সার্টিফাইড রিফার্বিশড পণ্যগুলোর সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড এক বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হয় ও নতুন মডেলের তুলনায় এগুলোতে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব।
ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কিনলে খরচ আরও কম হতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে ঝুঁকিও বেশি থাকে। সম্ভব হলে সামনাসামনি দেখা করে ম্যাকবুকটি ভালোভাবে পরীক্ষা করুন এবং এর সিরিয়াল নম্বর ও কনফিগারেশন যাচাই করে নিন।
সঠিক দামে পেলে একটি এম১ ম্যাকবুক বা এর চেয়ে নতুন মডেল কেনাটা বুদ্ধিমানের কাজ। তবে ইনটেলভিত্তিক মডেলগুলোর কার্যসক্ষমতা এখন প্রায় শেষের পথে। ফলে নির্দিষ্ট ও স্বল্পমেয়াদী কাজের জন্য প্রয়োজন না হলে এগুলো এড়ানোই ভালো।